বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়-২
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ২য় অধ্যায় থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
অল্প কথায় উত্তর দাও
প্রশ্ন: পলাশীর যুদ্ধ কেন হয়েছিল? এ যুদ্ধের ফলাফল কী ছিল?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। ১৭৫৭ সালে তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন।
সিংহাসনে আরোহণ করেই তরুণ নবাবকে নানা ষড়যন্ত্র ও বিরোধী শক্তির মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় বাংলায় ইংরেজ বণিকদের বাণিজ্য সংস্থার নাম ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। নানা কারণে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ বণিকদের বিরোধ দেখা দেয়। ইংরেজদের সঙ্গে নবাববিরোধী শক্তিগুলো—যেমন: নবাবের বড় খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মির জাফর, রায় দুর্লভ ও জগৎ শেঠের মতো বণিকগোষ্ঠী একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। এরা সবাই নবাবকে উৎখাতের চেষ্টা করতে থাকে। এসবের জের ধরেই শেষাবধি ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ইংরেজ শক্তির সঙ্গে নবাবের সেনাদের পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ হয়।
যুদ্ধে সেনাপতি মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। এ যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
প্রশ্ন: বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব কী ছিল?
উত্তর: বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শোষণ ও নিজেদের লাভ। প্রায় ২০০ বছরের শাসনকালে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়।
এ সময় বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল কৃষক ও দরিদ্র। অন্যদিকে, অল্পসংখ্যক জমিদারশ্রেণী ছিল ধনী ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অধিকারী। নারীদের অবস্থা একেবারেই পিছিয়ে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইংরেজদের মাধ্যমে এ দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়। শিক্ষা বিস্তারে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাপাখানার বিকাশের ফলে জ্ঞান বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষার ফলে এ দেশে ক্রমে একটা ইংরেজি শিক্ষিত শ্রেণী গড়ে ওঠে। এদের একাংশের মধ্যে নতুন চেতনার বিকাশ ঘটতে থাকে। এরা নিজেদের সমাজের বহুকাল ধরে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও কুপ্রথা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। এদের হাত ধরেই উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
এ দেশ থেকে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ পাচার হয়ে যাওয়ায় বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বাংলার শিল্প ও বাণিজ্য নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য কারিগর বেকার হয়ে যায়। কোম্পানি শাসনের সময় ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: ১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর: ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রাম। এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করা।
বাংলায় শুরু হয়ে ইংরেজ অধিকৃত ভারতের অন্যান্য এলাকার সিপাহিদের মধ্যেও এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। ইংরেজরা এই বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে। নিরপরাধ অনেক মানুুষকে এ সময় নির্বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়। ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে সে সময় বাংলার বিদ্রোহী সিপাহিদের ফাঁসি দেওয়া হয়।
বিদ্রোহীরা পরাজিত হলেও এই বিদ্রোহের ফলেই কোম্পানির শাসনের অবসান হয়, শুরু হয় ব্রিটিশরাজ তথা রানি ভিক্টোরিয়ার শাসন।
# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






