সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তাহরির স্কয়ার

| তারিখ: ২৩-০৬-২০১২

  • ৪ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

মিসরে ক্ষমতাসীন সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে তাহরির স্কয়ার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা স্থগিত করে সুপ্রিম কাউন্সিল ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়—অভিযোগ এনে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মীরাও এতে যোগ দেন।
দেশটির নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, কাল রোববার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হতে পারে। আর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বিবৃতিতে সুপ্রিম কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা’ সহ্য করা হবে না।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক নিজেদের জয় দাবি করেছেন।
গত ১৬ ও ১৭ জুন মিসরে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে ৪০০-এর মতো অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা শেষ হয়নি বলে নির্বাচনের ফল ঘোষণা স্থগিত করা হলো।
ফল ঘোষণার দাবিতে এবং সুপ্রিম কাউন্সিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাহরির স্কয়ারে সমবেত হতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। তাদের অনেকে রাতভর সেখানে অবস্থান করে। গতকাল শুক্রবার মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মীরাও তাহরির স্কয়ারের বিক্ষোভে যোগ দেন। বিক্ষোভের আগে মুরসি প্রথম দফার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এল বারাদি ও আবদেল মোনায়েম আবুল ফত্তহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র মাহমুদ ঘোজলান বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতে দেরি হওয়ায় নানা সংশয় ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এমন কথাও উঠেছে, কর্তৃপক্ষ মোবারকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শফিককে জয়ী ঘোষণা করতে চায়।
নির্বাচনের পর গতকাল প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছেন শফিক। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাদারহুড নির্বাচনের ফল তাদের পক্ষে নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা সন্ত্রাসের পক্ষের প্রচারণা আর গণমাধ্যম ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ফল ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি। শফিক নিজের জয় দাবি করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
মিসরের নির্বাচন কমিটির সদস্য বিচারপতি মাহের এল বেহইরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে আসা অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে দেখতেই সময় নিচ্ছি আমরা। কাল রোববার ফল ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগে নয়।’ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তাই রোববার ফল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
সুপ্রিম কাউন্সিল গতকাল এক বিবৃতিতে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেওয়ার পাশাপাশি দুই প্রার্থীর জয় দাবি করার কঠোর সমালোচনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ কারণেই ফল নিয়ে নানা বিভক্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

chowdhury abdul halim

chowdhury abdul halim

২০১২.০৬.২৩ ০৮:২৭
bangladesh uddin;s grab power in egypt ?

chowdhury abdul halim

chowdhury abdul halim

২০১২.০৬.২৩ ০৮:২৮
where is us and western allies, the so called champion of democracy ?

২০১২.০৬.২৩ ১০:২৮
তুরস্কের নির্বাচনের ফলাফল তিন-তিন বার ছিনতাই হওয়ার পর চতুর্থবারে ‍এরদোগানের দল ক্ষমতায় ‍আসে, সুতরাং মিসরিয়দের ‍আশাহত হলে চলবে না, ‍আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না, ‍আমাদের দেশে ‍আমরাও যেন হতাশ না হই। পূর্বশার ‍আলো দেখা দিয়েছে, পাঞ্জেরীরা জাগতে শুরু করেছে, তিমির রাত্রির অবসান অবশ্যই হবে।

Yeahyea mahmud

Yeahyea mahmud

২০১২.০৬.২৩ ১৫:৫১
চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।