ডিজিটাল বাংলাদেশ: ব্যাংকিং সুবিধা দিতে এসব কেন্দ্র থেকে চালু করা হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং

স্বপ্ন থেকে বাস্তবে

এন আই খান | তারিখ: ২৩-১১-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • এন আই খান

    এন আই খান

  • গ্রামের বিদ্যালয়ে চলছে কম্পিউটার ক্লাস

    গ্রামের বিদ্যালয়ে চলছে কম্পিউটার ক্লাস

সেবা, গতি ও দক্ষতাই যেকোনো সরকারি কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। এই তিনকে এক করার ওপরই নির্ভর করে সরকার প্রশাসনের সফলতা। বর্তমান কালে এই সাফল্যের এক বড় সোপান হলো তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সেবা, গতি ও দক্ষতাকে এক সূত্রে গাঁথা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে, সেবা পাওয়া সুলভ হয় যখন জনগণ সেবাসুবিধা আদায়ে দক্ষ হয়ে ওঠে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি তথা ইন্টারনেট ও কম্পিউটার-নির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে জনগণ যত পরিচিত হবে, ততই সরকারি কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ ও সেবা আদায়ও সহজ হবে।

স্বপ্নপূরণের অভিযাত্রা
বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ নিরক্ষর, ৯৬ শতাংশ মানুষ ইংরেজি লিখতে-পড়তে-বলতে পারে না। দেশের ৫০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, ৯৬ শতাংশ বাড়িতে নেই কম্পিউটার এবং ৯০ শতাংশের বেশি নাগরিক কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানে না। ইন্টারনেট থাকলেও দুর্লভ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ। এ রকম প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ঘোষণা দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। স্বপ্নপূরণের এ অভিযাত্রার লক্ষ্য হলো, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিরক্ষরতা দূর এবং সরকারের সব ই-সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সব মিলিয়ে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন করাই ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্দেশ্য।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে চলা
আর্থিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে সেবা প্রদানের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। অফিস-আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পদায়ন করার আশু সম্ভাবনা না থাকায়, আমরা প্রত্যেক সেবাদানকারী যাতে নিজেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সভা করে এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতায় তাঁকে উজ্জীবিত করি। সব সেবাদানকারী কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা সামর্থ্য না থাকায় প্রতিটি অফিস থেকে দুজন করে কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁদের নিজ নিজ অফিসের অন্য সহকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বলি, যাকে আমরা ‘ওয়াইল্ড ফায়ার’ কৌশল বলছি। সবাইকে ঘন ঘন সভায় বা কর্মশালায় না ডেকে, স্বাভাবিক কাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে, তাঁদের কাছ থেকে সময় নিয়ে প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে সচেতন করার কাজটিও আমরা করে যাচ্ছি।
ব্যাপকভিত্তিক প্রচার কার্যক্রম চালানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকার পরও আমরা বিভাগ, জেলা, এমনকি উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করেছি। এই মেলার মাধ্যমে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও মানবাধিকার, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা, অকৃষি উদ্যোগ, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ই-সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং কোথায় কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যায় তা মানুষকে জানানো হয়। জাতীয় পর্যায়ে, সব বিভাগে এবং সব জেলায় এই মেলা হয়েছে। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা সেবাদাতা এবং সেবাগ্রহীতার মধ্যে সেতু রচনা করেছে। সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে মানুষকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করেছে এই মেলা। মেলার প্রদর্শক ও পরিদর্শকেরা শেখাতে ও শিখতে; জানাতে ও জানতে; দেখাতে ও দেখতে এবং শোনাতে ও শুনতে কাজ করেছে। এই মেলা থেকে বর্তমান সেবার পাশাপাশি ভবিষ্যতের ই-সেবা সম্পর্কেও সাধারণ মানুষ ধারণা পাচ্ছে। কর্মকর্তারা সবার সামনে ভবিষ্যৎ সেবা তুলে ধরে সেই সেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে প্রকারান্তরে আরও দায়িত্বশীল হচ্ছেন। তালিকায় প্রতিদিন নতুন নতুন সরকারি-বেসরকারি সেবা যোগ হচ্ছে। নতুন নতুন উদ্ভাবিত সেবা জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সব উপজেলায় প্রতিবছর ‘ডিজিটাল মেলা’ করা হবে। আর্থিক দিক দিয়ে বাস্তবসম্মত করার জন্য এই মেলাকে অন্যান্য মেলা, যেমন বইমেলার সঙ্গে একত্রে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে জটিলতা ও ব্যয়বাহুল্য এড়িয়ে সহজ থেকে কঠিনের দিকে এগোনোর মন্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন থেকে অটোমেশন শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের দিকে এগোনোর কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ‘কুইক-উইন’ বা সহজে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগে সচিবালয় ও অধিদপ্তরকে সম্পৃক্ত করে পরে বড় বড় উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ ও সাহস সৃষ্টি করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি গা-সওয়া করতে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৪ জেলার জন্য জেলা তথ্য বাতায়ন (জেলার ওয়েবসাইট) চালু করে তারপর হাত দেওয়া হয়েছে ই-সেবায়। তথ্য বাতায়ন থেকে জনগণ তথ্য অধিকার পেয়েছে ও সেবা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে ক্ষমতায়িত হয়েছে। পাশাপাশি তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্তও হয়েছে। তথ্য বাতায়ন হালনাগাদ করা এবং জনগণকে তথ্য দেওয়ার সংস্কৃতিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারী অভ্যস্ত হচ্ছে।

শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন দক্ষ জনশক্তির সরবরাহ প্রয়োজন। ই-শিক্ষা ও ই-প্রশিক্ষণ স্বল্প সময়ে বেশ কার্যকর ও আনন্দদায়ক। আমরা তাই এ সুযোগ হাতছাড়া করিনি। শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষক কর্তৃক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দুটি মডেল উদ্ভাবন করেছি। যেখানে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, ইন্টারনেট সংযোগ ও কনটেন্ট তৈরিতে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। এ মডেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাই শিক্ষার্থীদের উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করে ক্লাসে ব্যবহার করছেন। শিক্ষকেরা তাঁদের তৈরি এসব কনটেন্ট একটি লেখালাপে (ব্লগে) আপলোড করেন। যেকোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করতে পারছেন এবং এর মান উন্নয়ন করে আবার আপলোড করছেন। এতে সবাই মিলে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করছেন। একসঙ্গে না বসেও একত্রে কাজ করছেন, যৌথভাবে কাজ করার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হচ্ছেন। এখন একটি লেখালাপে সব বিষয়ের কনটেন্ট আপলোড করা হচ্ছে। প্রতি বিষয়ের জন্য পৃথক ব্লগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যপুস্তক এখন ই-বুক করা হয়েছে। এখন সময় হয়েছে শিক্ষকদের তৈরি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ই-বুকে অন্তর্ভুক্ত করার। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো মানের কনটেন্ট চিত্রায়িত করে টেলিভিশনে প্রচারের প্রস্তুতি চলছে। এতে ভালো শিক্ষকের ভার্চুয়াল ক্লাসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিতে পারবে। পরবর্তী পর্যায়ে এই শিক্ষকদের ঘিরে পশ্চিমা দেশের মতো কনটেন্ট কোম্পানি গড়ে ওঠার ভিত রচিত হচ্ছে।
২০ লাখ টাকা খরচ করে কম্পিউটার ল্যাবে প্রতিদিন পাঁচটি (কম্পিউটার বিষয়ে) ক্লাস নেওয়ার বদলে এক লাখ টাকায় প্রতিদিন পাঁচটি বিষয়ের (বাংলা, বিজ্ঞান, ধর্ম ইত্যাদি) ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আমাদের মতো আর্থসামাজিক অবস্থানের দেশের জন্য লাগসই এ মডেল ব্যবহার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করছে। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করা হবে। কতিপয় ধনীর ছেলেমেয়ে নয়, সব শিক্ষার্থী মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুযোগ পাবে। বিদেশ থেকেও আমাদের এই মডেল তাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য আমন্ত্রণ আসছে। সুইডেনের গোটল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৪ অক্টোবর এমন একটি ওয়ার্কশপ হয়েছে।

গ্রামীণ জনপদে
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গ্রামীণ জনপদে বসবাস করা শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাপ্রাপ্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাই দেশের সব ইউনিয়নে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব তথ্যকেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্য ও সেবা পাচ্ছে। জমির খতিয়ানের নকলসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যেকোনো সেবার আবেদন এ কেন্দ্র থেকে করা যাচ্ছে।
ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সুবিধা দিতে এসব কেন্দ্র থেকে চালু করা হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। প্রতি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ৩৫ কোটি টাকার ওপরে আদান-প্রদান হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শহরের টাকা গ্রামে যাচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আপৎকালীন মানুষকে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশে প্রতিবছর সাত হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়। বেশির ভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের এবং মফস্বলের। এসব মানুষকে বিপৎকালীন সুবিধা দিতে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে জীবন বীমা করপোরেশনের বিমাসুবিধা চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৪০ লাখ মানুষ তথ্যসেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিচ্ছে। সেবা প্রদান করে তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তারা মাসে ছয় কোটি টাকার বেশি আয় করছে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দুই হাজার ৭৫০টি পোস্ট অফিস থেকে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার চালু করেছে। ডাক বিভাগের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সর্বোচ্চ এক মিনিটের মধ্যে পোস্ট অফিস থেকে অর্থ প্রেরণ ও গ্রহণ করা যাচ্ছে। শুধু ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৯৪ জন গ্রাহক এ সেবা গ্রহণ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে মোট ২২৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আদান-প্রদান করা হয়েছে। এ সেবা দিয়ে ডাক বিভাগ ২৮ কোটি ২২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে।

সমন্বিত ই-সেবা কাঠামো
‘জাতীয় ই-তথ্যকোষ’ সমৃদ্ধ ও আপডেট করার জন্য স্বশাসিত ফাউন্ডেশন হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। মোবাইলে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করার জন্য মোবাইল কোম্পানি ‘রবি’র সঙ্গে ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ আয় ও অনুদান দিয়ে ফাউন্ডেশন চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একটি সমন্বিত ই-সেবা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে বিভাগ পর্যন্ত ২৪ হাজার অফিসে ই-সেবা তৈরির কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও এই কাজ শুরু করা হবে। বিভিন্ন অফিসে একে একে ই-সেবা তৈরি হলে এই কাঠামোতে যোগ হবে। ই-সেবা যেখানে তৈরি হোক না কেন জনগণ সহজেই যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে মোবাইল ফোনে কিংবা ইন্টারনেটে সেবা নিতে বা দিতে পারবে। যাকে আমরা হাতের মুঠোয় সেবা বলছি। সেবা নেওয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে চাকরি পেতে পারে। ২০১২ সালে বোর্ডে পরীক্ষা দিয়ে ৮০ শতাংশ পাস করেছে। সেবার সংখ্যা অসংখ্য হলে ‘তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে’ যেন জট না লাগে সে জন্য মোবাইলে দেওয়ার মতো সেবা তৈরি হচ্ছে। যেকোনো জায়গা থেকে যেন কম সময়ে সেবা পাওয়া যায়, তাই আমাদের আগামী দিনের স্লোগান হবে—সর্ব বিরাজমান সরকার।
এন আই খান : সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রকল্প পরিচালক, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন