সরকারের ভেতরে নানা আলোচনা
জামায়াতের বিচার হবে, তবে এখনই নিষিদ্ধ নয়
সরকারের মধ্যে কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার কথা বললেও আসলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করার পক্ষে নীতিগত অবস্থান নিয়েছে সরকার। তরুণ প্রজন্মের সমর্থন থাকায় সরকার বা দলগতভাবে আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে কোনো আপস করবে না।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে এই মনোভাব পাওয়া গেছে।
দলের নেতারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চিন্তাভাবনাকে তা নতুন মাত্রা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস সংশোধনী আইনে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপিলের সমান সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ‘সংগঠন’কেও বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও নেতার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এতে নানা মত থাকলেও শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে সংগঠনকেও বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও মহাজোটের সাংসদ রাশেদ খান মেনন ওই আইনে ‘সংগঠন’ শব্দটি সংযোজনের প্রস্তাব করেন।
সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা নিয়ে সরকারের ভেতরে দুটি মত আছে। রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে কী হতে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত হবে কি না, সংগঠন হিসেবে জামায়াত না থাকলে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে—ইত্যাদি নিয়ে সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানা পর্যালোচনা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হলে রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও সরকারের মধ্যে উদ্বেগ আছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ের সম্ভাব্য প্রভাবের দিকটাও ভাবা হচ্ছে। সরকারের মধ্যে এমন আশঙ্কাও আছে যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে দলটির নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে গিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারেন বা ভিন্ন কোনো নামে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন নীতিনির্ধারক বলেন, প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কেমন বা সেসব দেশ এ নিয়ে কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে উপমহাদেশের অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার কারণে দলটি আত্মগোপনে চলে যায়। তখন পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেটাও আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
’৭৯ সালে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসে জামায়াত: স্বাধীনতার পর বাহাত্তরের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়। এ কারণে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারেনি। দলটির তৎকালীন আমির গোলাম আযমের নাগরিকত্ব তখন বাতিল করা হয়। তিনি তখন পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী আত্মগোপনে চলে যায়। তখন দলটির নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।
বাংলাপিডিয়া ও অন্যান্য রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার সংবিধান সংশোধন করে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তার আগে ১৯৭৬ সালে মওলানা আবদুর রহীমের নেতৃত্বে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) রাজনৈতিক দল হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি পায়। তখন জামায়াতের সদস্যরা এ দলের ব্যানারে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ’৭৯ সালে গোলাম আযম পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ লাভ করেন। তিনি আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি। তখন তাঁর নাগরিকত্ব না থাকায় আব্বাস আলী খান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান। তবে গোলাম আযম নেপথ্যে আমিরের দায়িত্ব চালিয়ে যান।
সংবিধান প্রণীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান প্রণয়ন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না। ওই সময় জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো পরিবেশই ছিল না।
রাষ্ট্রপতির সই: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচারের সুযোগ রেখে সংসদে পাস হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিলে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হলো। এখন সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করবে।







’৭৯ সালে গোলাম আযম পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ লাভ করেন। তিনি আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি।
SHUVRO SARKAR
২০১৩.০২.১৯ ০৫:৫২rubel raj
২০১৩.০২.১৯ ০৬:২৮আপনাদের বহুদলের রাজনীতির উদ্দেশ্যই কি ছিল পাকি বীজ গোলাম আজমকে তার দল জামায়াত নিয়ে মাঠে নামানু ?
তা না হলে এই কেন ?
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার সংবিধান সংশোধন করে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ???
আজ বি এন পি এবং খালেদা জিয়া যা করছেন , তার জবাব মানুষ দেবেই । মানুষের আবেগ কিবা দেশের আবেগ নিয়ে নিজেদের ক্কমতায় যাবার রাজনীতি করার ফল গত কয়েকদিন দেখলেই বুঝা যায় । বাকিটা বুঝে নিয়েন , তবে সহজ ভাবে প্যাচাইয়েন না ।
rahman
২০১৩.০২.১৯ ০৮:০৩Jamat to be banned, otherwise it is in the opinion that AL has political interest with Jamat for future benefit - like ABUL in the Padma Bridge
rahman
২০১৩.০২.১৯ ০৮:১৬Md. Rowshonuzzaman
২০১৩.০২.১৯ ১০:৩১didarul islam
২০১৩.০২.১৯ ১১:১২Nitu Dutta
২০১৩.০২.১৯ ১১:৩৫Banning Jamaat will end Islamic politics, but we also don’t want and Hindu, Christian, or Buddha political parties as well.
If the government miss this chance then there is no way for them to come onto power once more.
Ahmedul Bari
২০১৩.০২.১৯ ১১:৫৮Abul Kalam Azad
২০১৩.০২.১৯ ১২:১০Faisal
২০১৩.০২.১৯ ১৩:১২জামাত-শিবির রাজনৈতিক ধর্মভিত্তিক দল। এরূপ দলকে রাজনৈতিক বা শারীরিকভাবে প্রতিরোধ করতে গেলে হিতে বিপরীতটাই বেশি হয়। এদের প্রতিরোধের জন্য দরকার ধর্মীয় যুক্তি। যার জন্য দরকার প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞান। ধর্মীয় যুক্তির মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক কমকান্ড, ব্যাক্তিচরিত্র এবং এর মধ্যকার বৈপরিত্য দেখিয়ে দিলে, তারা মুখ লুকাতে বাধ্য।
হেলাল
২০১৩.০২.১৯ ১৩:৩২Prodip
২০১৩.০২.১৯ ১৪:২১Prodip
২০১৩.০২.১৯ ১৪:২৯