অ, আ শেখার জন্য
-
নকশার আয়োজনে মেয়ে রায়া ও বোনের মেয়ে মায়াকে নিয়ে মডেল হয়েছেন মনিদীপা দাশগুপ্তা। শিশুদের পোশাক: সাদাকালো
ছবি: কবির হোসেন
-
অ, আ সবে চিনতে শুরু করেছে শিশুটি। আধো বুলিতে তা শুনতে ভালো লাগে। এই বাংলা বর্ণ শেখানোর জন্য নানা চেষ্টা করেন মা-বাবা। তবে সারাক্ষণ শিশুকে চাপ না দিয়ে শিশুর মতো করে শেখাতে হবে বাংলা। শিশুরা সহজে অনেক কিছু শিখে ফেলে। আর শেখানোর প্রক্রিয়াটা যদি শিশুর কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তাহলে তো আরও ভালো।
ফ্যাশন ডিজাইনার মনিদীপা দাশগুপ্তার মেয়ে রায়া। ওর বয়স যখন তিন, তখনই বাংলা বর্ণ শেখানোর জন্য সিডি কিনে আনেন তিনি।
‘বইমেলা থেকে বাংলা অক্ষরের সিডি কিনেছিলাম মেয়েকে শেখানোর জন্য। আমি মনে করি গতানুগতিকভাবে না শিখিয়ে আনন্দের সঙ্গে শেখালে শিশুও আগ্রহী হবে। তবে বাজারে পাওয়া সিডিগুলোর উচ্চারণ সঠিক হওয়া উচিত। শিশু সহজে বুঝতে পারে, এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে বই বা সিডিতে’—বলেন মনিদীপা। মেয়েকে সিডি শোনানোর পাশাপাশি অক্ষর চেনানোর জন্য নানা জিনিসের ছবি এঁকেও পড়া শিখিয়েছেন তিনি।
সব শিশুর মনে রাখার ক্ষমতা, শেখার আগ্রহ এক রকম নয়। একেকজনের একেক রকম। শিশুর মন বুঝে তাকে অক্ষর চেনাতে ও শেখাতে হবে। এমনটাই মনে করেন ভিকারুন নিসা নূন স্কুলে বাংলার জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক পারভীন বানু। সাধারণত তিন বছর বয়স থেকে বর্ণ চিনতে শুরু করে শিশুরা। এ বয়সেই হাতেখড়ি হয় তাদের। রং-বেরঙের বই, সিডি, বাংলা বর্ণ ব্লক কিনে শেখাতে পারেন বাংলা।
বিশেষজ্ঞের মতে, শিশু যে পদ্ধতিতে শিখতে আগ্রহী তার জন্য সেটিই বেছে নিতে হবে। কোনো কোনো শিশুর শিখতে দেরি হতে পারে, এ জন্য অভিভাবককে ধৈর্য হারালে চলবে না। না পারলে শিশুর প্রতি রাগ হওয়া ঠিক নয়। কেননা, ভবিষ্যতে লেখাপড়া তার কাছে আতঙ্ক হয়ে দেখা দেবে।
আবার একদিনেই যে সব শিখে ফেলবে শিশু এমনটিও মনে করা উচিত নয়। প্রতিদিন দুটি করে বর্ণ চেনাতে পারেন। পাঁচটা বর্ণ শেখার পর এলোমেলো করে দিতে পারেন বর্ণগুলো। ওর মনে আছে কি না, সেটি পরখ করে দেখতে পারেন। বর্ণগুলো খাতায় বিন্দু বিন্দু দিয়ে লিখে দিতে পারেন। এরপর শিশুকে বলতে হবে বিন্দুগুলো মিলিয়ে দিতে। না পারলে ওর হাত ধরে লেখার ওপর দিয়ে হাত ঘোরাতে হবে। এভাবেই ওর হাতেখড়িও হয়ে যাবে।
আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, শিশুদের বর্ণমালার বইগুলো যেন নির্ভুলভাবে তৈরি করা হয়। যাতে শিশুরা ভুল না শেখে।
বাজারে বর্ণমালা শেখার আদর্শলিপির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সিডি ও ব্লক পাওয়া যায়। ঢাকার জ্ঞানকোষ, বই বিচিত্রাসহ ছোট-বড় বইয়ের দোকান, নীলক্ষেত ও নিউমার্কেটের স্টেশনারি দোকানগুলোতে পাবেন এসব।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






