শিরোনাম:

ইটভাটায় করাতকল পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

সাইফুর রহমান, বরিশাল | তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দর এলাকায় এভিবি ব্রিকস নামের এই ইটভাটায় পোড়ানোর

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দর এলাকায় এভিবি ব্রিকস নামের এই ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য কাঠ কাটতে স্থাপন করা হয়েছে করাতকল

প্রথম আলো

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইটভাটার মধ্যে ১২টিই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রাম-চিমনির এসব অবৈধ ইটভাটায় দেদার পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।
কয়েকটি ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য কাঠ চিরতে বসানো হয়েছে করাতকল; এগুলো কৃষিজমিতে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের হিসাবে উপজেলায় ছয়টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে একটির অধিদপ্তরের অনুমতি আছে। উপজেলার দুর্গম এলাকায় অবৈধভাবে অনেকে ইটভাটা করেছে। সব কটি ইটভাটায় ইট তৈরিতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার লেংগুটিয়া, গাজিরচর, চর গোপালপুর, পাতারহাট লঞ্চঘাট এলাকার চারটি ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ চেরাই হচ্ছে। এসব ভাটা কৃষিজমিতে নির্মিত এবং সব কটিতে অবৈধ ড্রাম চিমনি রয়েছে।
পাতার হাট এলাকার এভিবি ব্রিকসের মালিক মাহবুব তালুকদার বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ এলাকা নদীভাঙনকবলিত। এখানে স্থায়ীভাবে ইটভাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ১৩টি ইটভাটাই বাংলা পদ্ধতিতে (ড্রাম-চিমনি) তৈরি করা হয়েছে। বারবার স্থান পরিবর্তন করার কারণে কিছু কৃষিজমির ওপর প্রভাব পড়ে।
লেংগুটিয়া এলাকার ফাইভ স্টার ব্রিক ফিল্ডের শ্রমিক শাহীন রাঢ়ী জানান, তাঁদের ভাটায় দৈনিক প্রায় ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এসব কাঠ ভাটায় স্থাপিত করাতকলে চিরে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইটভাটার মালিক আবদুল জব্বার বলেন, ড্রাম-চিমনি ব্যবহারের কারণে তাঁরা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি পাচ্ছেন না। তবে আগামী বছর ইটভাটাটি আধুনিক করার পরিকল্পনা আছে। তাঁর ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের কারণে মেহেন্দিগঞ্জে সবাই অবৈধ ড্রাম-চিমনি ব্যবহার করছে এবং কাঠ পোড়াচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর ভাটায় ৯০ ভাগ কয়লা পোড়ানো হয়।
লেংগুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলায় ১০-১২টি ইটভাটা রয়েছে। ড্রাম-চিমনির এসব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
চরগোপালপুর এলাকার বাসিন্দা সাদেম আলী হাওলাদার জানান, তাঁদের এলাকার এম কে এফ ব্রিকসের মালিকেরা কাঠ চিরতে ইটভাটায় করাতকল স্থাপন করেছেন। ভাটার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ভাটা দেখাশোনা করি। তবে এখানে কয়লা রয়েছে। কাঠের সঙ্গে কয়লাও ব্যবহার করা হয়।’
পাতারহাট এলাকার এভিবি ব্রিকস নামের ইটভাটাটি প্রায় ৫০ একর কৃষিজমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। ইটভাটার আশপাশে জনবসতি রয়েছে।
ইটভাটার শ্রমিক আবদুর রহমান জানান, এখানে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ মণ কাঠ লাগে। ইটভাটার মালিক মো. মাহবুব তালুকদারের মুঠোফোনে কল করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মেহেন্দিগঞ্জে পাকা চিমনির একটি ইটভাটা ছাড়া বাকিগুলো অবৈধ। ইতিমধ্যে তিনটি ইটভাটাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরও বন্ধ না হলে এগুলো ভেঙে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অনেক ইটভাটার মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরকে না জানিয়েই ইটভাটা করেছে। আমরা অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দেব।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন