টাকার বিনিময়ে কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন ও সুপার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে নিম্নমান সহকারী পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ওই পদের চার প্রার্থী জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মোনায়েম হোসেন নামে এক প্রার্থী জানান, গত বছর ৩ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় নিম্নমান সহকারী পদে লোক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটায় বিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা।
কেন্দ্রে যাওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজাউল আলম তাঁদের জানান, সর্বশেষ ৮ জানুয়ারি জারি করা সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অংশগ্রহণকারীদের অনেকের বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি সবাইকে চলে যেতে বলেন।
চলে আসার পরে তাঁরা জানতে পারেন, ওই রাতে গোপনে পরীক্ষা নিয়ে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার তাঁদের পছন্দের প্রার্থী রবিউল ইসলামকে সাড়ে নয় লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, নতুন পরিপত্র জারি হয়েছে ৮ জানুয়ারি। তাঁদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি। প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও সভাপতি ও সুপারের পছন্দের লোককে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কৌশলে তাঁদের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. মতিন নিয়োগ দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রার্থীদের প্রবেশপত্র দিয়েছেন সুপার। সুপার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজাউল আলম জানান, সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নিয়োগপ্রার্থী থাকায় ওই সময় পরীক্ষা বাতিল করে সবাইকে চলে যেতে বলা হয়। সেই সঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নতুন করে নিয়োগ-প্রক্রিয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রাতে মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার তাঁকে জানান, যাঁদের বয়স কম তাঁদের চাপে তাঁরা বাধ্য হয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেন। বিষয়টি ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, শুধুই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, পুরো নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জিন্নাহ জানান, বিধি অনুযায়ী সর্বশেষ পরিপত্রের আলোকে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে হতো। কিন্তু সভাপতি ও সুপার তাঁদের ভুল বুঝিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষাটি ঠিক হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






