বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ
‘নিরিবিলি পরিবেশ’ বলেই মাঠের জায়গায় ভবন!
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের খেলার মাঠের জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে একাডেমিক কাম স্বতন্ত্র পরীক্ষার হল। ‘নিরিবিলি পরিবেশ’র অজুহাত তুলে প্রস্তাবিত স্থান বাদ দিয়ে কলেজের মূল ক্যাম্পাস থেকে বেশ কিছু দূরে রেললাইন ও সড়ক ঘেঁষে স্বতন্ত্র পরীক্ষার হল নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কলেজসংলগ্ন অনেক ফাঁকা জায়গা থাকার পরও খেলার মাঠ বিলুপ্ত করে ভবন নির্মাণের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ অনেকেই। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব স্টেডিয়াম থাকা খুবই জরুরি। খেলার মাঠের জায়গায় ভবন নির্মাণ না করে মাঠটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য রাখা যেত। জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ দীপকেন্দ্র নাথ দাস প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, নিরিবিলি ও নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের স্বার্থেই কলেজের মূল ক্যাম্পাস থেকে বেশ খানিকটা দূরে পরীক্ষার হল নির্মাণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া খেলার ওই মাঠটি দিনে দিনে দখলও হয়ে যাচ্ছিল। একটি রাজনৈতিক দল মাঠটিকে নামাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
অধ্যক্ষ স্বীকার করেন, পরীক্ষার হল নির্মাণের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় মূল ভবনসংলগ্ন স্থানে জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্ত পরে ওই জায়গা পরিবর্তন করে রেললাইনসংলগ্ন খেলার মাঠের একপাশে ওই ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত করা হয়।
বগুড়া জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য জেলা সদরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সরকারি কলেজের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনে ‘একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন হল’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত পাঁচতলাবিশিষ্ট পরীক্ষার এ হল নির্মাণে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৯৩ টাকা।
বগুড়া শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, পরীক্ষার হল নির্মাণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে মূল ভবনসংলগ্ন ফাঁকা জায়গা দেখিয়ে দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রস্তাবিত জায়গার মাটিও পরীক্ষা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্ত কাজ শুরুর প্রাক্কালে জায়গা পরিবর্তন করে রেললাইন ঘেঁষে কলেজের খেলার মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে ভবন নির্মাণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি দেয়। বাধ্য হয়ে পরিবর্তিত স্থানে আবার নতুন করে মাটি পরীক্ষা শেষে কাজ শুরু করতে হয়। এতে বেশ সময়ক্ষেপণ হয়ে যায়।
কলেজের ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থী নিরেন সরকার বলেন, খেলার মাঠে পরীক্ষার হল নির্মাণ করার ফলে ফুটবল খেলার জন্য স্থাপিত দক্ষিণ প্রান্তের গোলপোস্ট ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভবন নির্মাণের ফলে মাঠে ক্রিকেট খেলার জন্য নির্মিত পিচও নষ্ট হয়ে গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রাথমিকভাবে যে জায়গায় পরীক্ষার হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে হল হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধা হলেও তাতে মহলবিশেষের স্বার্থ বিঘ্নিত হতো। ওই জায়গায় ফসল আবাদ হতো না। মহলবিশেষকে খুশি রাখতেই কলেজ প্রশাসন অন্য জায়গায় পরীক্ষার হল নির্মাণ করছেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সভাপতি শ্যামল কুমার বর্মণ বলেন, খেলার মাঠের জায়গায় এভাবে ভবন নির্মাণ করা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। তা ছাড়া পরীক্ষার হলের জন্য কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশ দরকার।
তবে অধ্যক্ষ দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, পরীক্ষার হল নির্মাণ হলেও খেলার মাঠের কোনো সমস্যা হবে না। মাঠের যেটুকু জায়গায় ভবন নির্মাণ হবে, অপর প্রান্তে সেইটুকু জায়গায় মাটি ভরাট করে দেওয়া হবে। রেললাইনের পাশে পরীক্ষার হল নির্মাণ নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন বা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এমনটা বলছেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






