নারী মানবাধিকারকর্মী অপহূত ৩৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার
অপহরণের ৩৪ ঘণ্টা পর এক নারী মানবাধিকারকর্মীকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি বাড়ির নিচতলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণে ব্যবহূত একটি গাড়িও (প্রাডো) পুলিশ আটক করে।
ডিবি সূত্র জানায়, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) একজন নারী মাঠকর্মী গত বুধবার বিকেল চারটার পর অপহূত হন। এ ঘটনায় আসকের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় অপহরণ মামলা করা হয় এবং ডিবি পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মশিউর রহমানের (পশ্চিম) নেতৃত্বে ডিবির একটি দল ওই কর্মীকে উদ্ধারের অভিযান শুরু করে। অপহরণকারীরা তাঁকে প্রথমে সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে আটকে রাখে। পরদিন তাঁকে গাড়িতে করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এবং পরে কুমিল্লার দেবীদ্বার ও চান্দিনায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাঁকে ঢাকায় আনার পর ডিবি ফাঁদ পেতে তাঁকে উদ্ধার করে। তবে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মশিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, অপহরণের হোতা জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সেগুনবাগিচার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। তাঁর গাড়িতে করেই অপহূত ওই মানবাধিকারকর্মীকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। গাড়িটি তিনিই চালিয়েছেন। তিনি বলেন, উদ্ধারের পর আসকের ওই কর্মীর সারা শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি ডিবিকে জানিয়েছেন, নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, তাঁর কর্মী জুবায়েদ ও রাজু তাঁকে মারধর করেছেন। গতকাল শুক্রবার ওই নারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। নূর মোহাম্মদসহ অপহরণকারীরা পলাতক, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আসক সূত্র জানায়, নূর মোহাম্মদ চৌধুরীর স্ত্রী সোমবার আসক কার্যালয়ে এসে তাঁর ওপর স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন এবং নিরাপদ আশ্রয় চান। সেদিনই তাঁকে আসক তেজগাঁও থানায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে বুধবার ওই গৃহবধূ মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য আবার আসকে যান। ওই দিন বিকেল চারটার দিকে আসকের ওই নারী মাঠকর্মীর (পরে অপহূত) মাধ্যমে নির্যাতিতাকে আবার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে আসকের ওই নারী কর্মীকে অপহরণ করা হয়। পরদিন বেলা দেড়টার দিকে এক ব্যক্তি আসক কার্যালয়ে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীর হাতে একটি চিঠি দিয়ে আসেন। ওই চিঠি খুলে দেখা যায়, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই গৃহবধূকে স্বামীর বাসায় ফেরত না পাঠালে আসকের ওই নারী কর্মীর (অপহূত) বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। এর কিছুক্ষণ পর মুঠোফোন থেকে নূর মোহাম্মদ আসকের এক পরিচালককে হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁর স্ত্রীকে ফেরত দিলে আসকের ওই কর্মীকেও ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
আসকের পরিচালক মোহাম্মদ নূর খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, কোনো মানবাধিকারকর্মীকে এভাবে অপহরণের ঘটনা দেশে এই প্রথম। তিনি অবিলম্বে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






