অভ্যাস

| তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘হ্যালো শফিক, কোথায় তুমি?’ ‘এই তো বাসে’ শফিকের উত্তর। ‘সকালে নাশতা করোনি কেন? শরীর খারাপ করবে তো? ‘নীলা, আমি নাশতা করে এসেছি। বুয়াকে জিজ্ঞেস করো। বুয়াই তো স্যান্ডউইচ আর কফি বানিয়ে দিয়েছে।’
‘তুমি আমাকে ডাকলে না কেন? বুয়া সব সময় কফিতে চিনি বেশি দেয়! আর বুয়ার হতের স্যান্ডউইচ না তুমি খেতে পারো না!’
‘নীলা, তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই ডাকিনি তোমায়’
‘নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। এত কেন ঘুমালাম সকালে। শোনো, অফিসে গিয়ে সময়মতো লাঞ্চ করবে’
—‘হু’
‘বেশি বেশি পানি খাবে’
‘হু’
‘এসির পাওয়ার কমিয়ে রাখবে’
‘হু’
‘হু কী! বলো হ্যাঁ’
‘আচ্ছা বাবা, আমি ঠিকমতো সবকিছু করব।’
‘এখন কোথায়’
‘এখন জ্যামে’
‘এখনো জ্যামে? নিশ্চয়ই ঘেমে একাকার হয়ে আছ। টিস্যু বের করো।’
‘মনে হয় টিস্যু আনিনি’
‘তুমি যে ভুলে যাবে এটা জানতাম আমি। ওয়ালেট খুলে দেখো, গত রাতে রেখে দিয়েছি আমি। এক্ষুনি, নইলে ঠান্ডা লেগে যাবে...’
‘মামা ভাড়াডা দ্যান। কহোন থাইক্যা খাড়াইয়া আছি।’
হেলপারের কথায় সংবিৎ ফিরে পায় শফিক। ভাড়া দিতে ওয়ালেট বের করে সে। না, এখন আর কেউ টিস্যু রাখে না। সকালে নাশতা করলে, রোদে পুড়লে, ঘামে ভিজলে কেউ কিছু বলে না। আড়াই বছরের দাম্পত্য জীবন ছেড়ে নীলা হয়তো সুখেই আছে। কিন্তু শফিক তাকে কীভাবে ভুলবে! তার জীবনের প্রতিটি পরতে নীলার ছোঁয়া। এখন নীলা নেই। কিন্তু মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া।
 কাজী মেহেদী হাসান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন