এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

চাহিদা বৃদ্ধির চেষ্টা আছে মুদ্রানীতিতে

| তারিখ: ০৯-০২-২০১৩

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
হাসান জামান

হাসান জামান

বাংলাদেশ ব্যাংকের জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামান

প্রথম আলো: আগের মুদ্রানীতি অনুসারে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো যায়নি। তার পরও আপনারা বেসরকারি খাতে ঋণ লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মুদ্রানীতিতে। এটার যুক্তিটা কী?
হাসান জামান: দেশে প্রবাসী-আয়ে (রেমিট্যান্স) উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে গেছে। মুদ্রা সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি আবার মুদ্রার রিজার্ভও (স্তূপ) বেড়ে গেছে। মুদ্রানীতিতে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদের হার (সব রেপো) কমিয়ে দিয়েছি। ফলে ব্যাংকঋণের সুদের হারও কমে আসবে। এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কম সুদে অর্থ বিনিয়োগে যায়। তবে আমরা কিন্তু বেসরকারি খাতে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ঋণ বৃদ্ধি করতে বলছি না। আমরা এই পরিমাণ অর্থ সরবরাহ রাখছি ঋণের জন্য। আর একই সঙ্গে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে উৎপাদন খাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতিকে আটকাতে চায়, আবার মুদ্রা সরবরাহও বাড়াচ্ছে। তাহলে কীভাবে এটা সমন্বয় হবে?
হাসান জামান: এক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক স্থিতিশীল বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেপো হার বাড়িয়েছিল। তারপর অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার কমালেও আমরা ধরে রেখেছিলাম। এখন কমানো হচ্ছে। আপনি দেখবেন যে দেশে মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য থেকে শুরু করে সব আমদানিই কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মনোভাবকে আমলে নিয়ে আমরা মুদ্রা সরবরাহ বাড়াচ্ছি। এতে আমদানি বেড়ে আরও কিছুটা গতি তৈরি হবে অর্থনীতিতে। তবে একই সঙ্গে আমরা মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির মধ্যে একটা সমন্বয়ও করছি। আমাদের মনোযোগ আছে মূল্যস্ফীতির দিকে। আবার প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানও রাখা হচ্ছে।
প্রথম আলো: দেশে একটা বিনিয়োগে ধীরগতি পরিস্থিতি আছে। কীভাবে এটা কাটাতে চাইছেন?
হাসান জামান: একটা সামষ্টিক চাহিদা বৃদ্ধির চেষ্টা নেওয়া হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বাড়লে এবং একই সঙ্গে সুদের হার কমলে এটা তৈরি হবে। আগেই বলেছি, আমদানি কিছুটা বেড়ে আরও কিছুটা গতি আসবে অর্থনীতিতে। এর সঙ্গে অবকাঠামোর যে সমস্যা, তা সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।
প্রথম আলো: সম্পদের মূল্যে যাতে ফুলে-ফেঁপে বুদ্বুদ না ওঠে, তার জন্য সংরক্ষণ নীতি কীভাবে হবে?
হাসান জামান: আপনি দেখবেন এই প্রথমবারের মতো আমরা বলেছি জমির মূল্যে বুদ্বুদ (বাবলস্) হচ্ছে। আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) জমির দামের কোনো পরিমাপ সূচক নেই। বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে মূল্যবৃদ্ধি কেন, কত বছরে, কত দাম বাড়ল—তার পরিমাপ করা হয়। আমরা গবেষণার মাধ্যমে এই খাতে একটা পরিমাপ সূচক তৈরি করতে চাই। আবার ব্যাংকের বিপুল নগদ অর্থ যাতে এখানে বিনিয়োগ না হয় সে জন্যও আমাদের নির্দেশনা আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নিজস্ব জমিতে নিজের ভবন তৈরি করতে হবে এমন যেন ব্যাংকগুলো না ভাবে। অন্যদিকে আমরা ব্যাংকগুলোকে বলছি, তারা যখন ঋণ দিচ্ছে তখন তার বিপরীতে গ্রাহকের যে জামানত রাখা হচ্ছে, তা যেন অতিমূল্যায়িত না হয়—এ জন্য ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
প্রথম আলো: ব্যাংক খাতে কিছু জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংকের তথ্য লুকোচুরি আছে। মুদ্রানীতির পরিপূরক নজরদারি বা তদারকি কীভাবে হবে?
হাসান জামান: মুদ্রানীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত একটা উদাহরণ দিই। আমরা প্রকৃত আমানতের সুদহার হিসাব করতে চাই। কোনো কোনো ব্যাংক ঘোষিত দরের চেয়ে আমানতের সুদ বেশি দিচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের কাছে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা সমীক্ষা করছি। সমীক্ষা শেষে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে। বাকি ক্ষেত্রগুলোতেও তদারকি ও নজরদারি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগ আছে।
[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর আহমেদ]

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Mehedi Hasan

Mehedi Hasan

২০১৩.০২.০৯ ১৩:৪৪
Please ask them what will they do for stock market?
Why cant they lend 1000 cr to ICB? People are getting
bankrupt everyday... Please..