জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ
লজ্জা!
আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ছাত্রলীগ সংবাদ শিরোনাম হয় প্রধানত সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার কারণে। অতীতে তারা বেশি দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধানোর কাজটি করত প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে। আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান মেয়াদে তারা সবচেয়ে বেশি মারামারি করেছে নিজেদের মধ্যেই। গত বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের দুই অংশের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধের একটা ছোটখাটো মহড়া হয়েছে। কারণটা ন্যক্কারজনক।
গত মঙ্গলবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি লেকে নৌকায় চড়ে বেড়াচ্ছিলেন দুজন ছাত্রছাত্রী। ওই লেকে মাছ ধরছিলেন চার-পাঁচজন ছাত্র, যাঁরা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী। তাঁরা নৌকার মেয়েটির উদ্দেশে অশ্লীল মন্তব্য ছুড়লে তাঁর সঙ্গী ছাত্রটি প্রতিবাদ করেন, তাঁদের ভদ্রতা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। এই ‘অপরাধে’ সেদিন রাতে সেই ছাত্রটি ছাত্রলীগের ওই কর্মীদের হাতে যখন মার খাচ্ছিলেন, তখন ছাত্রলীগের আরেক কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলে তাঁরা তাঁকেও পেটান।
ঘটনাক্রমে ছাত্রলীগের এই প্রহূত কর্মীটি প্রহারকারীদের চেয়ে এক শিক্ষাবর্ষ জ্যেষ্ঠ। অচিরেই রাষ্ট্র হয়ে যায়, ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীরা সিনিয়র কর্মীদের মারধর করছেন। ফলে রড, পাইপ, রামদা, কিরিচ, লাঠিসোঁটাসহ নানা রকমের দেশীয় অস্ত্রপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষ দুটি পক্ষের সজ্জিত হতে আর সময় লাগে না। ঘটনাটি অবশ্য পরস্পরকে ধাওয়া করা এবং পরস্পরের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবু আট-নয়জন আহত হয়েছেন। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, সংশ্লিষ্ট হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন, তারপর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই বছর দুই আগে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে এক মেধাবী ছাত্রকে জীবন দিতে হয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে, চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবে, সিলেটের শহীদ মিনারে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী পাশাপাশি, হাতে হাত রেখে নেমেছেন প্রতিবাদ মিছিলে, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা কি এসব নিয়ে ব্যস্ত? মেয়েদের দিকে অশ্লীল কথা ছুড়ে দেওয়া, নিজেদের মধ্যে মারধর বাধানো? এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে?







Faruk Alam
২০১৩.০২.০৯ ১৩:৪২Iftekhar
২০১৩.০২.০৯ ১৪:৪০