বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার ২৩
শিবিরের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামী ছাত্রশিবির ঝটিকা মিছিল বের করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। গাইবান্ধায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও উত্তেজিত জনতা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন দেয়। এ ছাড়া ছাতকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ছাত্রশিবিরের ২৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শিবিরের শ-খানেক নেতা-কর্মী ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা হাতে রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল বাজার থেকে ঝটিকা মিছিল বের করেন। তাঁরা দুটি বাস ভাঙচুর করেন এবং সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেন। শিবিরের কর্মীরা একপর্যায়ে আল-হেলাল পুলিশ বক্সেও ভাঙচুর চালান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। শিবিরের কর্মীরা এ সময় দুটি ককটেল ফাটান। আধা ঘণ্টা ধরে এ অবস্থা চলার সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে শিবিরের সাত নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলা ও দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবর থেকে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতা-কর্মী ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে ওই মিছিল থেকে শ্যামলীর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা চালানো হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাঁরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্তত ২০ মিনিট ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলার সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। একসময় পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মহানগর উত্তর শিবিরের একজন নেতা বলেন, ‘সারা দেশে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদে আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি।’
ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, হত্যা ও শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল করেন তাদের নেতা-কর্মীরা।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমীন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গাইবান্ধা: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রশিবির গ্রেপ্তারকৃত জেলা জামায়াতের আমির আবদুর রহিমসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বেকারির মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের পাঁচটি শেল ও আটটি রাবার বুলেট ছোড়ে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা রেলস্টেশন কার্যালয়ের জানালা-দরজা ভাঙচুর করেন। পুলিশ এ সময় শিবিরের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও উত্তেজিত জনতা মিলে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আগুন দেয়। এতে সেখানকার যাবতীয় জিনিস পুড়ে যায়। পরে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিশোরগঞ্জ: সকালে শিবির মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে শহরে মিছিল বের করে। মিছিল শহরের আখড়া বাজার এলাকায় এলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শিবিরের ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
মাগুরা: বিকেলে ছাত্রশিবির শহরের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশ জেলা শাখা প্রকাশনা সম্পাদক হাসমাত আলীসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শ্যামা প্রসাদ জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবিতে ওই ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ: শহরে সকাল ১০টার দিকে ছাত্রশিবির ঝটিকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে। চাষাঢ়া থেকে মিছিল বের হয়ে চাঁদমারী এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনের পুরস্কারের তালিকাভুক্ত শিবিরের ৪২ ক্যাডারের অনেককেই দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গেলে ছাত্রশিবিরের লোকজন পালিয়ে যায়। এর আগে শিবিরের মিছিল থেকে হামলা চালানো হলে সদর মডেল থানার ওসিসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছিলেন।
ছাতক: সুনামগঞ্জের ছাতক ডিগ্রি কলেজে গতকাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, দুপুরে কলেজ কমিটি গঠন উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের সভা চলছিল। শিবিরের কর্মীরা এক ছাত্রকে সভায় নিতে চাইলে ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সজীব কুমার বলেন, ‘ছাত্রশিবির মিছিল করার সময় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিলে আমরা প্রতিবাদ করি। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’
অন্যদিকে ছাতক (উত্তর) ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘শিবিরের এক কর্মীকে ছাত্রলীগের নেতারা নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাঁরা আমাদের ওপর হামলা চালান।’







Tajerul islam sadhin
২০১৩.০১.২৫ ০৯:১২ABDUL MAJID QUAZI
২০১৩.০১.২৫ ০৯:৫০kazim konoze
২০১৩.০১.২৫ ১০:৩৪মাসুম আহমেদ জনি
২০১৩.০১.২৫ ১৪:০৫Mirza Mehedi Hasan
২০১৩.০১.২৬ ১২:৪০