১৪ দলের দীর্ঘ মানববন্ধন

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘যুদ্ধাপরাধী রক্ষাকারীদের না বলুন’—এ স্লোগান ধারণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে মানববন্ধনে।
রাজধানীর দুই প্রান্ত গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা এই মানববন্ধন হয়।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে ১৪ দল এ কর্মসূচি পালন করে। একই দাবিতে ৩০ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী গণসংযোগ ও জনসভা এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণপদযাত্রার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় মানববন্ধন থেকে।
গতকালের কর্মসূচিতে ১৪ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, দেশি-বিদেশি সব রকম প্রতিবন্ধকতা ও চাপ মোকাবিলা করেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। তারা জামায়াতে ইসলামীকে পরিত্যাগ করার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে মানববন্ধন শুরু হয়ে তা শ্যামলী, আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, রাসেল স্কয়ার, পান্থপথ, বসুন্ধরা সিটি, সোনারগাঁও হোটেল, শাহবাগ, হাইকোর্ট, পুরানা পল্টন মোড়, শহীদ নূর হোসেন চত্বর, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, ইত্তেফাক মোড়, রাজধানী সুপার মার্কেট ও সায়েদাবাদে শেষ হয়। এ দীর্ঘ পথে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নিলেও কিছু স্থানে রাস্তা ছিল ফাঁকা। বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন। কয়েকটি জায়গায় কর্মীরা গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীর প্রতীকী কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল করেন। পরে তাঁরা কুশপুত্তলিকায় অগ্নিসংযোগ করেন।
মানববন্ধন চলাকালে রাস্তার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দলীয় নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেষ্টা থাকলেও কোথাও কোথাও কর্মসূচির কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার এলাকায় ১৪ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অবস্থান করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো ক্যাঙারু বা সামরিক আদালত নয় যে ধরলাম আর ফাঁসি দিলাম। স্বচ্ছতার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর বিচারকার্য চলার পর রায় হয়েছে।’
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বলেন, যাঁরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে দলীয় রাজনীতি মনে করেন, তাঁদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই।
সমাবেশে শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান, আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন