চট্টগ্রাম মেডিকেলের কার্ডিয়াক সার্জারি

জনবল-সংকটে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না

প্রণব বল, চট্টগ্রাম | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

জনবলের অভাবে পুরোপুরিভাবে চালু করা যাচ্ছে না চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের স্বতন্ত্র হূদেরাগ সার্জারি (কার্ডিয়াক সার্জারি) বিভাগ। যন্ত্রপাতি, শয্যাসহ সবকিছু থাকলেও গত প্রায় দেড় বছরে প্রয়োজনীয় জনবল মেলেনি। তাই এখন জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের সহায়তায় স্বল্প পরিসরে এটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত নভেম্বর থেকে সাতজন চিকিৎসক ও একজন অস্ত্রোপচার সেবিকা দিয়ে নতুনভাবে স্থাপিত কার্ডিয়াক বিভাগটি কার্যক্রম শুরু করে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আড়াই মাসে ২১টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। বাকিগুলো ক্লোজড হার্ট অস্ত্রোপচার বলে জানা গেছে।
চমেক কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘পর্যাপ্ত জনবল পেলে আমরা কম খরচে এখানে ওপেন হার্ট ও ক্লোজড হার্টসহ যাবতীয় অস্ত্রোপচার করতে পারব। আশা করি, জনবলও আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে পেয়ে যাব। কারণ, ৯০টি জনবল ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করা হয়েছে। এখন কেবল নিয়োগ-প্রক্রিয়া বাকি।’
জানা গেছে, চমেক কর্তৃপক্ষ ১৬২টি জনবলের পদ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেখান থেকে ৯০টি পদ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন ৩২টি, টেকনিশিয়ান ২০ ও সেবিকা ৩৮ জন। স্বাস্থ্য, অর্থ, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই জনবলকাঠামো পাস হয়ে গেছে বলে নাজমুল হোসেন জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য পাঁচতলাবিশিষ্ট ৩৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নতুন একটি ভবনে রোগীদের জন্য ৪৪টি শয্যা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট শয্যা। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারকক্ষে টেবিল, লাইট ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি লাগানো হয়। বসানো হয়েছে হার্ডলাইন মেশিন ও আইসিও মনিটর। অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারকক্ষ রয়েছে দুটি।
চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর হাজার হাজারে হূদেরাগী ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। চমেক হাসপাতালে এই সার্জারি ওয়ার্ড চালু হলে তখন ওই প্রবণতা কমে যাবে।
বর্তমানে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে দুই সপ্তাহ পরপর সাত-আটজনের একটি দল এসে এখানে অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এখানে যাঁরা ওপেন হার্ট অস্ত্রোপচার করেছেন, তাঁদের অস্ত্রোপচার বাবদ খরচ পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। আর ক্লোজড হার্ট অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে খরচ পড়েছে ১০ হাজার টাকার মতো।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন