শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চলন্ত ট্রেন থামিয়ে ভাঙচুর
সিলেটে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ফেল করা একদল ছাত্রকে পাস করিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েক শ শিক্ষার্থী। এ সময় ট্রেনের বিভিন্ন বগির জানালা ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে সিলেট-ছাতক রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, একটি সেমিস্টারের ১৯ জন ছাত্র ফেল করে। শিক্ষকেরা ছাত্রদের ইচ্ছা করে ফেল করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগে গতকাল সকালে বিক্ষুব্ধ হয় শিক্ষার্থীরা। ফেল করা ছাত্রদের নিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের একাংশ দিয়ে যাওয়া সিলেট-ছাতক রেললাইনে অবস্থান নেয়। সকাল ১০টায় ছাতক থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ট্রেনটি ক্যাম্পাস অতিক্রম করছিল। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লাল পতাকা উঁচিয়ে রেললাইনে অবস্থান নেয়। ট্রেনটি থেমে গেলে শিক্ষার্থীরা ট্রেনে উঠে ভাঙচুর শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ট্রেনের হেডলাইট ও ১৫টি বগির জানালার কাচ ভাঙচুর করে। দুটি বগির মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে চারটি আসন পুড়ে যায়। এ অবস্থায় প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেনটি ক্যাম্পাসে থেমে ছিল। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবস্থান পরিবর্তন করে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মুহিবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, শতাধিক শিক্ষার্থী ট্রেনটি আটকে রেখেছিল। তাদের বুঝিয়ে দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। স্টেশনে ফেরার পর ট্রেনে ভাঙচুর করার বিষয়টি দেখা গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাসে রেললাইন হওয়ায় বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ দাবি আদায়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ ও ট্রেনে ভাঙচুরে বিক্ষোভকারী অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কোনো সমর্থন ছিল না। দাবির ব্যাপারে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, যেসব শিক্ষার্থী ড্রপ আউটের শিকার হয়েছে, তাদের পাস করিয়ে পরবর্তী সেমিস্টারে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি অহেতুক উল্লেখ করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সারা দেশে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো একই নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্রদের প্রবিধান অনুযায়ী একটি সেমিস্টারের ১৯ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তাদের পাস করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেওয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সুশান্ত কুমার বসু জানান, বিক্ষুব্ধদের পলিটেকনিকের ‘ছাত্র প্রবিধান’ বুঝিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝতে পেরে আন্দোলন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রেন থামিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী এ কাজ করেছে। এর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






