পাবনায় ক্লিনিক ভাঙচুর, মামলা
চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু
পাবনা শহরের শালগাড়ীয়া মহল্লার পিডিসি হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গত বুধবার চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর আত্মীয়স্বজন ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর চালান।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কারণে মোছাম্মাৎ জিয়াসমিন আরা (২৫) নামের এক গৃহবধূকে চিকিৎসা পরামর্শের জন্য সম্প্রতি তাঁকে পাবনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোজামেঞ্চল হকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি রোগীকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী ১৯ জানুয়ারি তাঁকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় মোজামেঞ্চল হক তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। এরপর রোগীর পেট ফুলে যায় ও খিঁচুনি শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে বারবার জানানো হয়। কিন্তু তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। বুধবার দুপুরে মোজামেঞ্চল হক রোগীকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি রোগীর অবস্থা খারাপ উল্লেখ করে ভালো চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। রোগীর আত্মীয়স্বজন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি চিকিৎসা না দিয়ে চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন রোগীর অবস্থা নিয়ে দুপুর থেকেই চিকিৎসক ও ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের বাগিবতণ্ডা হতে থাকে। উভয়পক্ষে ধস্তাধস্তিও হয়। বিকেল চারটার দিকে রোগী মারা যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর আরও আত্মীয়স্বজন এসে ক্লিনিকটিতে জড়ো হন এবং ভাঙচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিমউদ্দিন সরকার বলেন, ‘গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ওই চিকিৎসক, ক্লিনিকের মালিক ও ব্যবস্থাপককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।’
চিকিৎসক মোজামেঞ্চল হক বলেন, ‘টাকা-পয়সা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। এটি মিথ্যা অভিযোগ। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক ছিল।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






