চি ঠি প ত্র

| তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

জ্বালানি তেল
সম্প্রতি আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সাধারণ মানুষ এমনিতেই যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়ে এল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা। উচ্চবিত্তদের এতে তেমন সমস্যা না হলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত সমস্যাদায়ক।
এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম একশ্রেণীর অসাধু চক্র বাজারে সিন্ডিকেট করে ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে। এর ওপর কিছুদিন পর পর সরকারিভাবে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম যেভাবে বাড়ানো হচ্ছে, তাতে করে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। অথচ খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জন যে বাড়েনি, সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
যে জিনিসের দাম একবার বাড়ে, তা আর কমে না। সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি না করে বরং কম প্রয়োজনীয় বিলাসবহুল বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে আর্থিক ঘাটতির সমন্বয় করতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।
অচিরেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।

প্লট বরাদ্দ
পদ্মা সেতুর জন্য সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার/ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হতে যাচ্ছে। অবশ্য ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য কাছেই আবাসিক প্রকল্প নির্মাণ করে নির্ধারিত মূল্যে ৫ ও ২.৫ শতাংশের প্লট বিতরণ শুরু করেছে। প্লট বিতরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিমোতাবেক, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির যদি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসযোগ্য জমি থাকে, তবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও সেতু প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে না, এটা খুবই দুঃখজনক।
আমি নিজের কথাই বলি। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। ব্যাংকঋণের টাকায় সাভারের পল্লিতে ৫ শতাংশ জমি কিনেছি। কিস্তির টাকায় ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় অবসরকালীন প্রাপ্ত অর্থ থেকে তা সমন্বয় করা হয়েছে। সেখানে টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। এ কারণেই কি আমি আমার জন্মস্থান পূর্বপুরুষের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হব?
লৌহজং থানার উত্তর কুমারভোগ গ্রামে আমার জন্ম। পৈতৃক সূত্রে ও বংশপরম্পরায় এটাই আমার স্থায়ী ঠিকানা। চাকরি বা ব্যবসার খাতিরে অন্যত্র থাকলেও সেটা আমার অস্থায়ী বাসস্থান। যেকোনো ছুটিতে বা অবসর পেলেই আমি ছুটে আসি আমার গ্রামের বাড়ি, আমার শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতিভরা স্থান উত্তর কুমারভোগে। অর্থনৈতিক টানে দূর-দূরান্তে অবস্থান করলেও মন পড়ে থাকে এখানকার মুক্ত আকাশের পদ্মাপারের নির্মল পরিবেশ। কত স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান। এখানে এলে আমার ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়। ছেলেবেলার সাথিদের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। হারিয়ে যাই সেই শৈশবের জগতে, খেলার মাঠে।
সেখানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন আমার মা-বাবাসহ পূর্বপুরুষেরা। এই স্থান কি ছেড়ে যেতে মন চায়? এটা যে আমার শিকড়। এতকাল দেখে এসেছি, এই এলাকায় জন্মগ্রহণকারীকে, যেখানেই মৃত্যু হোক না কেন, চিরনিদ্রায় শায়িত করার জন্য নিয়ে আসা হয় এখানে।
উত্তর কুমারভোগ যে আমার পৈতৃক নিবাস। আমার স্থায়ী ঠিকানা। এখান থেকে আমি চিরতরে বিতাড়িত হতে চাই না। তাই সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, এখানকার যেসব অধিবাসীর অন্যত্র ছোটখাটো বসতবাড়ি বা আবাসযোগ্য অল্পস্বল্প জমি আছে, তাদেরও যেন প্লট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এটা আমাদের প্রাণের দাবি, সুবিবেচনার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ রইল।
মো. আমিনুল হক
উত্তর কুমারভোগ, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ।

ব্যাংকের শাখা
পলাশ থানা থেকে আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে ঘোড়াশাল বাজার। বাজারের ৭০-৭৫ ফুটের মধ্যে ঘোড়াশাল উচ্চবিদ্যালয় এবং ৪৫০ ফুটের মধ্যে একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে একটি সিনিয়র মাদ্রাসা। এই দুটি স্কুল এবং একটি মাদ্রাসায় অন্তত দুই হাজার ২০০ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে।
বাজারের নিকটবর্তী চারদিকে ঘোড়াশাল, করকটিয়া, সোনাপুর, ধনিরামপুর, পূর্ব সোনাউল্লা, মানিককান্দি, পশ্চিম সোনাউল্লা, আলীরচর, নাগের কান্দি, সুরসদ্দি, ডুমুরিয়া, দরিয়াকান্দি, মটকির চর, রামপুর—এই ১৪ গ্রামের লোকসংখ্যা ৬৫ হাজারের মতো। উল্লিখিত ১৪টি গ্রামে অন্তত নয় হাজার প্রবাসী রয়েছেন। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো, গ্যাস বিল ও ইলেকট্রিক বিল দেওয়ার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসব গ্রামের লোকজন খুবই অসুবিধায় রয়েছে।
যদি ঘোড়াশাল বাজারে যেকোনো ব্যাংকের একটি শাখা খোলা হয়, তাহলে ১৪টি গ্রামের ৬৫ হাজার মানুষ শুধু উপকৃতই হবে না; ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষাসহ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মো. শাহজাহান
ঘোড়াশাল।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন