পরমাণু চুক্তি

কার স্বার্থে রূপপুর পরমাণু প্রকল্প?

পিটার কাস্টার্স | তারিখ: ২৫-০১-২০১৩

  • ৩০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

রূপপুরে দুটি পরমাণু জ্বালানিকেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ থেকে তেমন প্রশ্ন ওঠেনি। তাহলেও কিছু প্রশ্ন তুলতেই হবে। ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি রি-অ্যাক্টর সরবরাহ বিষয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা পরমাণু জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো গত ২ নভেম্বর। খেয়াল করার বিষয়, এই চুক্তির কাছাকাছি সময়েই এক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তিও হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে রাশিয়া বাংলাদেশকে সামরিক যান, পরিবহন হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য অস্ত্রপাতি সরবরাহ করবে। পরের চুক্তিটি সম্পাদিত হয় শেখ হাসিনার মস্কো সফরের সময়। চুক্তি দুটি যে কায়দায় সম্পাদিত হলো, তার সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায় ২০০৮ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন। উভয় ক্ষেত্রেই পরমাণু প্রযুক্তি ক্রয়-বিক্রয় বড় আকারে সামরিক অস্ত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ভারতে অস্ত্র রপ্তানিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তির অন্তরালের উল্টো দিক। এবং যেখানে দৃশ্যত এই দুই ধরনের বাণিজ্যের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়েই দক্ষিণ গোলার্ধের কম উন্নত দেশগুলোয় তাদের পরমাণু প্রযুক্তি ও অস্ত্রের বাজার বাড়াতে উৎসাহী। সে কারণেই প্রশ্ন, রূপপুর প্রকল্প ও প্রতিরক্ষা চুক্তি আসলে কতটা বাংলাদেশের স্বার্থে হয়েছে? জরুরিভাবে বিষয়টা খতিয়ে দেখা দরকার।
রূপপুর চুক্তিতে বাংলাদেশের নিউক্লিয়ার লবি বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছে। সেই পাকিস্তান আমল থেকে পরমাণু জ্বালানির স্বপ্ন বাংলাদেশের। কিন্তু এ বিষয়ে প্রথম সমস্যা হলো, পরমাণু চুক্তির বিষয়বস্তুর সামান্যই বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রকাশিত। ২০১২ সালের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সির (আইএইএ) কাছে দেওয়া বাংলাদেশের ‘সেল্ফ-ইভালুয়েশন রিপোর্ট’ থেকে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া বাংলাদেশকে ভিভিএআর-১০০০ ডিজাইনের দুটি রি-অ্যাক্টর সরবরাহ করবে। এই মডেলটি ১৯৭০ দশকের পানি দ্বারা শীতায়িত ধরনের। নিউক্লিয়ার ফুয়েল রডগুলো শীতল করায় রি-অ্যাক্টরের প্রাইমারি সার্কিটের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত করা হবে এবং এই প্রবাহ নির্ধারিত চাপে সব সময় চলবে, যাতে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার পর্যায়ে না যায়। রি-অ্যাক্টর কমপ্লেক্সে ব্যবহারের পর এই পানি ছেড়ে দিতে হবে। তার মানে তা পরিবেশে নির্গত হবে। এখান থেকেই প্রশ্নটা আসে যে এর কারণে রূপপুরের জেলেদের কী হবে? কী হবে সেখানকার প্রাণবৈচিত্র্য ও জলদেহের? সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না? হ্যাঁ বা না?
পরের প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হলো, রূপপুরের নিউক্লিয়ার রডগুলো কীভাবে সরবরাহ ও ব্যবহারের পর অপসারণ করা হবে? রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজটা বাংলাদেশ করবে না। রাশিয়া রি-অ্যাক্টরের জ্বালানি উপাদান যেমন সরবরাহ করবে, তেমনি তেজস্ক্রিয় রডগুলোর জীবনচক্র ফুরালে তারাই এগুলো ফিরিয়ে নেবে। তাহলেও, এর মানে ঈশ্বরদী ও পাবনার জনগণ আশ্বস্ত হতে পারে না। মূল সমস্যা হলো, ব্যবহূত হয়ে যাওয়ার পর তেজস্ক্রিয় জ্বালানির রডগুলো কোথায় সাময়িকভাবে মজুত করা হবে এবং কীভাবে সেগুলো রূপপুর থেকে পরিবহন করা হবে। ইউরোপে বহু বছর ধরে এ ধরনের জ্বালানি সরঞ্জাম সড়কপথে আনা-নেওয়ার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ হয়ে আসছে।
তৃতীয়ত, পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে এই রি-অ্যাক্টর কীভাবে নিরাপদ থাকবে? রুশ কর্মকর্তারা যুক্তি দেবেন ভিভিএআর-১০০০ মডেল বিশ্বের ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়ের কেন্দ্র চেরনোবিলে ব্যবহূত গ্রাফাইট-মডারেটেড মডেলের থেকে অনেক নিরাপদ বলে প্রমাণিত। চেরনোবিল দুর্ঘটনা রাশিয়ার জন্য এখনো দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে, হাজার হাজার মানুষের ক্যানসারে মৃত্যু, বিরাট এলাকায় কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দুর্ঘটনাস্থলকে বিপদমুক্ত করায় বিপুল ব্যয়ের ভারে রাশিয়া জর্জরিত। তার পরও ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমায় আরেকটি পরমাণু বিপর্যয়ের পর রাশিয়ায় একটি তথাকথিত ‘স্ট্রেস টেস্ট’ করা হয়। তাতে দেখা যায়, জাপান ও রাশিয়ার রি-অ্যাক্টরগুলো একই রকম কিছু মৌলিক ত্রুটিযুক্ত।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম ২০১১ সালে একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে দেখা যায়। যেমন শীতলীকরণ-প্রক্রিয়া কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে রাশিয়ার রি-অ্যাক্টরগুলোর নিরাপদ থাকার সামর্থ্য নিয় প্রশ্ন ওঠানো হয়েছে। শীতলীকরণ-প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে পাওয়ার ব্যাকআপ সিস্টেমও কাজ করবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই বলে বলা হয়েছে। তাদের সরকারি কর্মকর্তারা এও বলেছেন, স্থানাভাবে পরিত্যক্ত জ্বালানি রি-অ্যাক্টরের স্থানেই মজুত করা হয়। যে কেউ-ই প্রশ্ন করতে পারে যে বাংলাদেশের পরমাণু প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থার এই প্রতিবেদনটি কি পর্যালোচনায় নিয়েছেন? তাঁরা কি সব দেখেশুনে উদ্বেগমুক্ত হয়েছেন?
তাহলে এ বিষয়ে এগোবার সেরা পথ কোনটি? রূপপুর প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্ভূত ঝুঁকি কীভাবে পরিমাপ করা হবে? যেসব বিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁরা নিঃসন্দেহে বলবেন, এ বিষয়ে নিরাবেগ আলোচনা হওয়া উচিত এবং কেবল ভয়ের কারণে রূপপুর প্রকল্পের বিরোধিতা করা উচিত নয়। বিজ্ঞানী না হয়ে এবং অতিসরলীকরণ না করেও আমি বলতে চাই, পরমাণু জ্বালানি ঘিরে বিশ্বব্যাপী যে বিরাট বিতর্ক হচ্ছে, সেদিকে তাকান। যেমন ভারতে এ ব্যাপারে বেশ পরিণত বিতর্ক হচ্ছে। সেই বিতর্ক বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। কাকতালীয়ভাবে হলেও এ মুহূর্তে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলামে রাশিয়ার সরবরাহ করা ভিভিএআর রি-অ্যাক্টর বসানো নিয়ে বিরাট আন্দোলন হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে, বছরওয়ারি বন্যায় প্লাবিত হওয়ার দেশ হিসেবে এত বড় ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই।
রূপপুরে কোনো নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে, যদি কিছু হয়েও থাকে, তথ্যযুক্তি নিয়ে গণবিতর্ক হওয়া উচিত। যে বিতর্কে বাংলাদেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ, শহুরে কর্মীরা এবং পাবনার কৃষক ও জেলেদের অংশগ্রহণ জরুরি।

ইংরেজি থেকে অনূদিত
ড. পিটার কাস্টার্স: গবেষক, বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Fahim

Fahim

২০১৩.০১.২৫ ০৩:১৭
না আনলেও সমস্যা, আনলেও সমস্যা। অন্তত একটা দুইটা পারমানবিক ওয়েপন থাকলে বর্ডার কিলিংটা কমবে বলেই আমার মনে হয়। তবে হ্যা, মেল্টডাউন হলে বাংলাদেশের ১/৪ ভাগই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। রাশিয়াকে বলে দেখা যায় বরং আমাদের ময়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাবস্থা করে দিতে। করা গেলে ভাল, না গেলে....

Titon

Titon

২০১৩.০১.২৫ ০৩:২০
আমাদের এত কয়লা থাকতে ঝুকিপুর্ন , তথা পারমাণবিকের কি দরকার ? আমরা গরিব মাণুষ কায়িক পরির্শমে কয়লা তুলতে পারবো আমাদের পেটেও ভাত জুটবে । বিদেশিদেরকে ডলার দিয়ে পারমাণবিকের ঝুকি নিবো এটা কোন ফুটানি ??

Titon

Titon

২০১৩.০১.২৫ ০৩:৩১
আমরা ৈভাগলিক দিক থেকে অনেক ছোটদেশ ১৬ কুটি লোকসংখা , এখানে পারমাণবিক জ্বালানির ব্যবহার মোটেও নিরাপদ নয়, সরকারের নিকট অনুরোধ থাকবে যে , যে সমসত গবেষকদের পরিবার বিদেশে বসবাসকরে তাদেরকে এই পরমাণু বিদ্যুৎতের নিরাপত্বা গবেশনার দ্বায়ীত্বে দিবেননা , কারন তাদেরতো জীবন যাবার ঝুকি থাকবেনা ।

zakir ( জাপান )

zakir ( জাপান )

২০১৩.০১.২৫ ০৩:৫৪
আমার মতে বাংলাদেশে পারমাণবিক প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে একটু বেশি করে চিন্তা করা উচিত। কারন জাপানের মত উন্নতশীল রাষ্ট্র যাদের কারিগরি দক্ষতা এবং পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকা সত্তেও ফুকুসিমার পারমাণবিক বিপর্যয় রোধ করতে পারেনি।

Ashraf

Ashraf

২০১৩.০১.২৫ ০৪:৫৬
সারা দুনিয়ার মানুষ জেগে উঠেছে। আমাদেরও সচেতন হতে হবে এবং পরতিবাদ জানাতে হবে

Manna A

Manna A

২০১৩.০১.২৫ ০৬:১২
আমি প্রথম যখন জানতে পারি যে সরকার পারমানবিক রিয়েক্টর নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার জন্য কাজ করছে তখনি আমি বলেছিলাম যে বাংলাদেশের জন্য কেবল মাত্র উপযুক্ত একমাত্র সোলার পাওয়ার যা পরিবেশ বান্ধব । এর বাইরে আমাদের এখন যাবার কোনো উপায় নাই । সরকার খুব ভালো ভাবে চিন্তা ভাবনা করে সিধান্ত নিলে জনগনের জন্য ভালো হয় । এর জন্য আবার জনগনকে না আন্দোলন করতে হয় ।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

২০১৩.০১.২৫ ০৬:৫৮
বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো বিদেশি কোন চুক্তি সম্পাদিত হলে তা দেশের সাধারণ জনগণের পুনাঙ্খ জানার সুযোগ কম থাকে । আবার যখন তারা জানতে পারে আবার সেটি যদি দেশের স্বার্থের বিপরীতে যায় তখন জনগনের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় লক্ষ্য করা যায় ।
রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট পারমানবিক আর অন্ত্রের ব্যাবসা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দিয়েছে । সেই ফাঁদে এখন বাংলাদেশ পা দিয়েছে ।
অস্ত্র কেনার যৌক্তিকতা পুরো পুরো সঠিক নয় । সামরিক অস্ত্র লাগতে পারে তবে সেটি অস্ত্রের পাহাড় গড়ে নয় ।
পারমানবিক বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র দ্বারা সার্বিক ক্ষতির প্রভাব কম নয় আর যদি বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র থেকে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে তবে তা গোটা দেশবাসিকে চরম মূল্যে দিতে হতে পারে । তাছাড়া পারমানবিক শক্তি দ্বারা বিদ্যুতের ধারনা এখন পাল্টিয়েছে । রুপপুরের সেই প্রকল্পটি পাকিস্থান থেকে এপর্যন্ত সকলেই শুনছে । এতদিনে প্রকল্পটি হয়নি না হবার জন্য । রুপপুরে বিশাল জায়গা সরকার অধিগ্রহন করে রেখেছে অথচ জায়গাটি অন্য কাজে লাগাতে পারলে সরকার অর্থনৈতিক সহায়তা পেতে পারতো । অস্ত্র ক্রয় এবং পারমানবিক বিদ্যত্‍ কেন্দ্র নির্মান দেশবাসির কাছে অস্পষ্ট । দুটির চুক্তির ফল যে ভাল হবেনা তা সকলেই বোঝেন । তবে তার পরেও কেন? এতে দেশের চেয়ে ব্যাক্তির সার্থ যে ফুটে উঠছে তা এখন স্পষ্ট ।

Abul

Abul

২০১৩.০১.২৫ ০৭:১৭
লেখক ও অনুবাদককে অনেক ধন্যবাদ ! আমার বাড়ি প্রকল্প এলাকায় হওয়াতে যখনই প্রকল্পের কনো অগ্রগতির সংবাদ ছাপা হয় তখনই এক অজানা আতংকে গা শিহরে উঠে । প্রবাসে থাকি বলে কনো প্রতিবাদও করতে পারছি না । পারমানবিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথা মনে করে ছটফট করি । ফুকুশিমার অবস্থা সচক্ষে দেখেছি । এটার সাথে রুপপুরের চিত্রটা মিলিয়ে দেখি একসময় গোটা ঈশ্বরদী, নাটোর, পাবনা, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়ার পুরো এলাকা পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে জনমানব শুন্য হয়ে যাবে ! এধরনের একটা ভয়াবহ ঝুঁকি আমরা কেন নিতে যাব । পৃথিবীর কনো দেশে রুপপুরের মতো ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় পারমানবিক স্থাপনা আছে কিনা আমার সন্দেহ ! রাশিয়া তো বলবেই কনো সমস্যা নেই । পুরো বাংলাদেশই থাকলো কি থাকলোনা তাতে রাশিয়ার কিছু আসে যায় না । তাঁদের দরকার ব্যাবসা । কিন্তু এলাকাবাসির তো এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করা উচিৎ । কয়লা ভিত্তিক বা অন্য কোন জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হোক, আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না । আশাকরি প্রথম আলোর এই লেখাটি পড়ে প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ, শহুরে কর্মীরা এবং এলাকাবাসী সোচ্চার হবেন ।

Mohamed Motiur Rahman Khan

Mohamed Motiur Rahman Khan

২০১৩.০১.২৫ ০৮:০৯
very good question about security? we must not support public opinion rather the expert suggestion for the subject . in Bangladesh there is few people always against changes or new invention, we'r suffering long time for shortage of electricity, so better ask to the expert not to make political issue .

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১৩.০১.২৫ ০৮:৩৪
আমাদের জ্বালানী দরকার, কিন্তু যে জ্বালানী আমাদের ধংস করে দিতে পারে, যার ব্যপক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমরা নিজেদের নিরাপদ রাখার প্রযুক্তি জানিনা বা যে প্রযুক্তি আমাদের হাতে নেই, তা ব্যবহার করার চেয়ে, বরং প্রস্তর যুগ, আদিম যুগে ফিরে যাওয়াও ভাল।

Tajerul islam sadhin

Tajerul islam sadhin

২০১৩.০১.২৫ ০৮:৫৪
অনেককিছু করবার আছে এখানে। যে দেশের কম্পানী গুলোর তৈরি পণ্য জনগণ সঠিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়, সে দেশে কি পরিমাণ দুর্নিতি হয় তা বলাবাহুল্য। আর্থাত্‍ পণ্যে খুচরা মূল্য যেখানে বেশি লাভচাওয়া মহাজনদের জন্যে মনগড়া ভাবে বসিয়ে দেশের ক্রেতাকে ঠকানো হয় সে দেশর দুর্নিতির মাত্রা কত প্রবল তা আপনিই চিন্তা করুন। আর সেই দেশটিই হচ্ছে বাংলাদেশ। পারমানবিক বিদ্যুত্‍ কেন্দ্রের স্থাপন এই দেশে করার আগে তাই এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো চিন্তা করা উচিত। কিন্তু সেটা করতে গেলে আমাদের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়না। এই পরিস্থিতিতে আলোচনা আরেকটু সহযকরবে এই সময়টাকে।

syed Kamal mohammad Mukul

syed Kamal mohammad Mukul

২০১৩.০১.২৫ ০৯:০৩
বাংলাদেশ পারমানবিক বিদ্যুৎ কেনদরো রখখনাবেখখনের মত য়থেষটো সামরথ অরজন করেছে বলে মনে হয় না এব; আগামি ১০-২০ বছরে তা পারবে বলে আমি মনে করিনা । এ হচছে ঘোড়া রোগ ! ঘন জন বসতি পূরণ বা;লা দেশের জনগন কে ঝুকির মধ্যে ফেলার পায়তারা !!!

Mohammad Shah Alam

Mohammad Shah Alam

২০১৩.০১.২৫ ০৯:০৪
অাপনার লেখাটা পড়ে বড়ই উদ্বগ লাগছে ! বাংলাদেশর জন্য বিষয়টা যে শুধু ভীতিকর তাই-ই নয় ক্ষতিকর ও মনে হচ্ছে ্। কিন্তু স্যার অামরা যারা সাধারন জনগন তারা বুঝে কী হবে বলুন ?অামাদের দেশটাকে যাদের মায়ের মত অাগলে রাখার কথা যাদের হাতে দেশকে সপে দিয়েছি তারা যদি বোঝেন তবেই না রক্ষা । অামাদের উদ্বেগ তো সব সময় অরন্যে রোদন হয় !তাই মন খারাপ হলেও লাভ নেই মেনে নিতেই হবে !

MK. Hasan

MK. Hasan

২০১৩.০১.২৫ ০৯:০৬
We must take positively. Power development is the only way of overcome the national power sector. We should take it positively.

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১৩.০১.২৫ ১০:০২
আমাদের দেশে অস্ত্রের প্রয়োজন আছে। দেশের বনদস্যুর দৌরাত্য বাড়ছে, সুন্দরবনে ডাকাতের দৌরাত্যের কারনে জেলেরা জিম্মি হচ্ছে, তারা আটক থাকায় সাগরে বিদেশি ট্রলার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে । আমাদের দস্যুরা তাদের চুল স্পর্ষ করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিজের দেশের গরীব মাঝিদের ধরে নিয়ে মেরে ফেলে অন্যদিকে সাগরের মোহনা খোলা পেয়ে বিদেশি দেশের সম্পদ লুটে নেয়, বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশি মুদ্রা অর্জন করে । যদি অস্ত্র সেই দস্যু নিবারনে, বা বিদেশি লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, নিজের দেশের সীমানা, সার্বভৌমত্ত রক্ষার কাজে লাগে তবে ঠিক আছে। কিন্তু গোদামে পড়ে থেকে পচে নষ্ট হলে তা অপচপয়ের সামিল।

Halim Shan

Halim Shan

২০১৩.০১.২৫ ১০:০৮
বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ন দেশে নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর!!! যে দেশে রয়েছে ভাল রকম ভূমিকম্পের ঝুকি, আর মেইটেনেন্সে চরম অবহেলার রেকর্ড সেখানে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র!!! ফুকুশিমার পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভূমিকম্পের পর কি হয়েছিল তা কি কেউ হিসাব করছে? যারা ভাবছেন রূপপুর অনেক দূরে আমার তো কিছু হবে না তারা চেরনোবিল দূর্ঘটনার পর তেজস্ক্রিয়তা কতদূর আঘাত হেনেছিল চেক করে নিতে পারেন। দয়া করে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন করে উত্তরবঙ্গে কয়েকটা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্হাপন করেন। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফলে বিরাট কিছু বাড়বে না।

s rahman

s rahman

২০১৩.০১.২৫ ১১:২২
উন্নয়নশীল রাষ্ট্র জাপান ফুকুসীমার পরমাণবিক বিপর্যয় ঠেকাতে পারেনি। পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরমাণবিক জ্বালানিকেন্দ্র থেকে সরে এসেছে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য। সেখানে আমাদের সরকার ডিজিটালে না গিয়ে এনালগে কেন? কার স্বার্থে? অস্ত্র কেনার ব্যাপারে যেখানে রাশিয়ার চেয়ে চীনের প্রযুক্তি অনেক উন্নত সেখানে রাশিয়া থেকে কেন? কার স্বার্থে? অথচ চীনই স্বাধীনতার পর থেকে সব ধরণের অস্ত্র এবং অন্যান্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। বন্ধুত্বে ফাটল ধরাবার কারণ কি?
২০১৩.০১.২৫ ১১:৪৫
This is highly technological issue. We encourage Nuclear scientist to take part in writing articles or participate in TV talk Show or providing their feedback about this issue. Other wise people who have no scientific knowledge and providing partial information about this are creating fear among the mass people which should be stopped. Media should also invite only the nuclear scientists in this debate not the Journalist or the economist who usually talks in every issues in TV talk show.

mahfuza bulbul

mahfuza bulbul

২০১৩.০১.২৫ ১১:৫৬
সমস্যা হলো আমাদের দেশে সব সরকার সাধারণের দোহাই দিয়ে সবসময় সঠিক কাজটাই করে যে ! কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে বা আন্দোলন করলে হরেক রকম লাঞ্ছনার কি শেষ থাকবে ? অতএব রূপপুর পুড়লে আমাদের কী, এইভেবে নিয়ে আমাদের চুপ করে বসে থাকা ছাড়া বিকল্প আর আছে ?

M. Shahidul Islam

M. Shahidul Islam

২০১৩.০১.২৫ ১১:৫৯
Electricity from nuclear energy sources may be a choice in Bangladesh but certainly not before utilizing the coal option -- in terms of cost efficiency as well as safety reasons. Actually, only 32 countries in the world generate electricity from nuclear sources, certainly none of them are as densely populated as Bangladesh. Of the 32 countries, 19 are European, 6 Asian, 3 North American, 3 South American and 1 African (South Africa). The Asian countries are Japan, South Korea, Taiwan, China, India and Pakistan. Without going in to the technicalities and the safety hazards now being talked about widely (and some countries are actually trying to contain their exposure), doesn't it make sense to conclude that nuclear electricity at the moment is not the priority for Bangladesh, rather it is much sensible to explore the coal option?

Abdul Bari

Abdul Bari

২০১৩.০১.২৫ ১২:১৩
As a scientist I strongly believe that we have to go forward. We must have to go to nuclear power. We need strong support from our people. We need constructive criticism from experts. If we can build nuclear power plant properly then it would be second biggest achievement (first one is independence of Bangladesh) for Bangladesh.

Taslima Akter

Taslima Akter

২০১৩.০১.২৫ ১২:২৭
আমি বুঝি না সরকার এ ধরণের মরণঘাতী চুক্তি কিভাবে নেয়।বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে সোলার পাওয়ার খুবই উপযোগী।সরকারের কাছে অনুরোধ দয়া করে সোলার পাওয়ার এর দিকে নজর দিন।আমাদের পারমানবিক রিয়েক্টর দরকার নাই।

২০১৩.০১.২৫ ১২:৪৩
very nicely written. We need to protest & protect it.

২০১৩.০১.২৫ ১৩:০৫
Scientist Mr.Abdul Bari how do you feel when India & Pakistan got free from British & we Bangladeshi from Pakistan?

saad

saad

২০১৩.০১.২৫ ১৩:০৯
রাশিয়া পারেনি চেরনোবিল বিপর্যয় ঠেকাতে ,জাপান পারেনি ফুকুসিমা বিপর্যয় ঠেকাতে।আল্লাহ না করুক যদি এমন হয় বাংলাদেশ কি পারবে "রূপপুর" বিপর্যয় ঠেকাতে।আর যে দেশে রাজনৈতিক সমস্যারই কোনো সমাধান নেই সেই দেশে পারমানবিক সমস্যার কি সমাধান থাকবে?বাংলাদেশের কোনো শর্মার কি পারবে "বিরোধী দল কিংবা তাদের ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী সংগঠন " গুলোর হাত থেকে এই পারমানবিক প্রকল্প কে ঠেকাতে?যদি না পারে তাহলে এর ভয়াবহতা কি হবে সেটা কি আওয়ামিলিগ সরকার ভেবে দেখেছে?ছোট উদাহরণ- চেরনোবিল এর ১৩০০ বর্গমাইল এলাকা ৫০০ বছরের আগে বসবাসযোগ্য হবেনা।আর এর সম্পূর্ণ তেজস্ক্রিয়তা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪০০০০ বছর?সময়টা খুব কম হয়ে গেল না ?

Tohid

Tohid

২০১৩.০১.২৫ ১৪:১৬
বাংলাদেশ ময়লা থেকে বিদুত ৈরি করার জনন সুইেডন এর সাথে আেলাচনা করতে পাের, কারন বাংলাদেশ এ ময়লার অভাব নাই। আমার মনে হয় এই পদ্দতিতে রাসায়নিক চুললির চাইতে খরচ কম। এইটা ভেবে দেখা জেতে পারে।

Tawhid

Tawhid

২০১৩.০১.২৫ ১৪:৩৪
কার স্বার্থে রূপপুর পরমাণু প্রকল্প?
নির্বাচনের স্বার্থে। সরকার দেখাবে আমরা নতুন দিগন্ত শুরু করলাম আর সবাই দৌড়ে গিয়ে ভোট দিবে।আর পকেটের স্বার্থে। দক্ষিন কোরিয়াতে একটা পারমাণবিক চুল্লীর প্রাথমিক প্রস্তুতিতে খরচ ধরেছিল ১৩০ কোটি টাকা আর বাংলাদেশ ধরেছে ৪০০০ কোটি। কিছু তো বুঝতে বাকি নেই। বলা হয়েছে ১০০০ মেগাওয়াট করতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে। তাহলে কি লাভ হবে দেশের? তাছাড়া বাংলাদেশ বড় একটা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। যেই দুর্ঘটনা জাপান সামলাতে পারে নাই,জাপানকে সাহায্য করেছে আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া তাতেও জাপানের চিন্তার অতীত ক্ষতি হয়েছে সেখানে কোন দুর্ঘটনায় আমরা কি করব? কোরিয়া, জাপান, জার্মানি সবাই ঘোষণা দিয়েছে ধীরে ধীরে সকল পারমাণবিক বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিবে আর আমরা?

Muzibur rahman

Muzibur rahman

২০১৩.০১.২৫ ১৫:৫৩
Nuclear plants in bangladesh is a big mistake.

Ratan Jyoti

Ratan Jyoti

২০১৩.০১.২৫ ১৬:২৫
ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে, বছরওয়ারি বন্যায় প্লাবিত হওয়ার দেশ হিসেবে এত বড় ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই।
Dear Dr. Peter Costers, the above statement made your opinion not to construct the nuclear power plant. But, we haven't seen any serious discussion on this issue.
২০১৩.০১.২৬ ১৩:২৩
রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ভাল রাখা জরুরী, তবে সেটা পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তি করে নয়, অস্ত্র ক্রয় করেও নয়, হওয়া উচিৎ রাজৈনতিকভাবে, সামাজিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে। চীনের সাথে কেবল সৌজন্যমূলক সম্পর্ক, কারণ তারা আমাদের পরাজিত গোষ্ঠীর সহায়ক, আমাদের মূলনীতির বিরোধীদের সহায়ক।