অমানবিক!

মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী | তারিখ: ১৯-০১-২০১৩

  • ৩৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
হেফায়জুল ইসলাম

হেফায়জুল ইসলাম

সকাল হলেই ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আমিনা বেওয়া (৫০)। বাড়ির অদূরে একটি বাঁশঝাড়ে গাছের সঙ্গে ছেলেকে বেঁধে তবেই যান কাজে। কাজ শেষে সন্ধ্যায় ছেলেকে নিয়ে আবার বাড়িতে ফেরেন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা জোটে, তা-ই ছেলেকে নিয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবেই চলছে আমিনার। স্বামীহারা সংসারে ছেলে হেফায়জুল ইসলামই (২০) একমাত্র সন্তান। কিন্তু সাত রাজার ধনকে নিয়ে তাঁর দুঃখের শেষ নেই। হেফায়জুল যে বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধী।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলবাড়ী গ্রামে থাকেন আমিনা। নিজস্ব জমিজমা বলতে কিছুই নেই। থাকেন অন্যের বাড়িতে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ বছর বয়স থেকে ছেলেটি বেশি অসুস্থ। একটু ছাড়া পেলেই তেড়ে যায় অন্যের দিকে, নষ্ট করে খেতের ফসল। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের অভিযোগের অন্ত নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমিনা এ পথ বেছে নিয়েছেন।
সম্প্রতি শিমুলবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে বাঁশঝাড়ের ভেতরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে হেফায়জুলকে। যখন-তখন তিনি গাছের চারদিকে ঘুরছেন। ক্লান্ত হয়ে এলে গাছে মাথা ঠেকিয়ে দেন। কোনো কিছুর টের পেলে আবার জেগে ওঠেন। আকাশপানে তাকিয়ে থাকেন ফ্যালফ্যাল করে।
গ্রামের বাসিন্দা সুজাউল ইসলাম জানান, ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে হেফায়জুলের বাবা মারা যান। নিজেদের কোনো সহায়-সম্বল নেই। তাই ছেলের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে আমিনাকে প্রায়ই প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর বকাঝকা শুনতে হয়। তা ছাড়া একটু ছাড়া পেলেই হেফায়জুল পানিতে নেমে যান। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমিনা ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কাজে যান।
সুজাউল বলেন, যদিও বিষয়টি অমানবিক, কিন্তু ছেলেটির মায়ের কিছু করার নেই।
ছেলের কথা জানতে চাইতেই আমিনা অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেক বান্ধি থুবার সময় কান্দোং (কান্না আসে) আর বান্ধি থং (তবু বেঁধে রাখি)।’ তিনি জানান, অসুস্থ ছেলেকে এভাবে বেঁধে রাখতে খারাপ লাগলেও তাঁর কিছু করার নেই। থাকেন অন্যের জমিতে। ছেলের কারণে সেই আশ্রয়টুকুও হারালে উপায় থাকবে না।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ব্লাস্টের নীলফামারী শাখার আইনজীবী রোখসানা আনজুম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। কিন্তু এখানে মাকে দোষারোপ করলে চলবে না। বরং ওই সমাজের মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

মাহমুদুল হক

মাহমুদুল হক

২০১৩.০১.১৯ ০২:৩৩
জারা মানব শেবা করতে চান তাদের উচিত এই অসহায় মাকে সাহাজ্যে হাত বারিয়ে দেয়া এটাই হবে উত্তম দ্বান।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

২০১৩.০১.১৯ ০৫:২৯
বিষয়টি অমানবিক । তবু বাধ্য হয়ে মাকে অমানবিকতার পরিচয় দিতে হচ্ছে । যা ছেলেটির মায়ের জন্যে কষ্টকর । এই প্রতিবন্ধি ছেলেটির বর্তমান অবস্থার কথা জেনে খারাপ লাগছে । একে পূর্নবাসিত করতে হবে । চিকিত্‍সার মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকতায় আনার চেষ্টা করতে হবে । ফলে প্রয়োজন যথেষ্ট সহযোগিতা । এ জন্য সরকারকে এবং বেসরকারি সংগঠন গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে ।

Iqbal Hossain

Iqbal Hossain

২০১৩.০১.১৯ ০৬:০৬
হায় হতভাগা মা আমিনা তোমার এলাকায় কি কোন সচ্ছল ব্যক্তি কিংবা জনপ্রতিনিধি নেই !!!!!!!!!!! একটুও কেউ তোমাকে সাহায্য করতে পারে না ।

Muzahidul Islam Mazumder

Muzahidul Islam Mazumder

২০১৩.০১.১৯ ০৬:১৬
এদের জন্য আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। মাটি, পানি, বাতাস ও খাদ্য দূষন রোধে সরকারের আরো অনেক কঠোর হওয়া জরুরী।

MASUD

MASUD

২০১৩.০১.১৯ ০৬:২৫
এখানে মাকে দোষারোপ করলে চলবে না। বরং আমরা,সমাজের মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে।

ABUL KALAM AZAD

ABUL KALAM AZAD

২০১৩.০১.১৯ ০৭:১৯
help them, pls

Engineer Akther

Engineer Akther

২০১৩.০১.১৯ ০৮:১৮
আমরা কোথায় আছি ? কেউ কোট্রি কোট্রি টাকার দুরনীতি করে কামিয়েনিচ্ছে আর কেউ রাজনীতি করে টাকা বানিয়ে নিচ্ছে। অথচ এই ছোট ছেলে টা বেদে রেখে যেতে হয় তার মায়ে যেন অন্যে কোন ক্ষতি করতে না পারে। হায়রে দুনিয়া কে করবে এই সমাজ পতিদের বিচার। আল্লাহ তুমি এই জাতিকে সঠিক পথ দেখাও।

Mahmudul Hasan

Mahmudul Hasan

২০১৩.০১.১৯ ০৮:৩৬
We should help those autistic people. The leaders & the rich people should take some responsibility to establish them selves in the society.

dulal

dulal

২০১৩.০১.১৯ ০৯:১৬
সত্যই দুঃখজনক বেদনা বিধুর অবস্থা

Abul Sarker, Sydney

Abul Sarker, Sydney

২০১৩.০১.১৯ ০৯:২৭
ছেলেটির জন্য আমরা দায়িত্ব নিতে চাই। আমার ইমেইল abulsarker@hotmail.com । ষোগাষোগ করতে অনুরোধ করা হলো।

Alauddin Alo

Alauddin Alo

২০১৩.০১.১৯ ১০:৩২
আল্লাহ যেন ছেলেটিকে সুস্থ্য করে দেন, সকলে সেই দোয়া করবেন। আর যারা বিত্তবান আছেন তারা যেন এই দরিদ্র ও অসহায় মায়ের দিকে আর্থিক সাহার্য্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

Mahadi Sikder

Mahadi Sikder

২০১৩.০১.১৯ ১০:৫৫
ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পৃথিবীতে এখনো ভাল মানুষ আছে।

Farid (ফরিদ), নরসিংদী।

Farid (ফরিদ), নরসিংদী।

২০১৩.০১.১৯ ১১:০২
আল্লাহ্‌ তুমি এই জনম দুখি মাকে আরও সহনশীল করো! আর আবুল সরকার ভাইকে আমার অনেক ধন্যবাদ।

Hotobak Bashar

Hotobak Bashar

২০১৩.০১.১৯ ১১:১৭
আসলে অমানবিক শব্দটি অনুধাবন করার বিবেক সম্পন্ন ব্যাক্তির খুব অভাব। তা না হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনকল্যান সংশ্লিস্ট বিভিন্ন সংস্থার দেশে অভাব নেই। এছাড়া বড় বড় মানুষেরা নাকি ঘুমেও দিন কাটায়।

Bashar Khan

Bashar Khan

২০১৩.০১.১৯ ১১:২১
মায়ের মত আপন কেহ নাই, নাইরে.............মায়ের মত আপন কেহ নাই। এই মায়ের করুন দশা দেখে এই গানটির কথা মনে পড়ে গেল। সত্যি “মা” মা-ই উনার মত পৃথিবীতে আর কেহ আপন হতে পারে না।
আমাদের দেশে অনেক ধনবান লোকেরা আছেন কেউকি এই মায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না ? এই দেশে কোটি কোটি টাকা যে যেভাবে পাড়ছে লুটপাট করে খাচ্ছে। তাহলে কি এই মায়ের প্রতিবন্ধি ছেলেটাকে নিয়ে চলার মত টাকা আমরা কেহ দিতে পারি না ? এই দেশে এমনও ব্যাক্তি যারা আছেন তারা তাদের পকেট থেকে এই “মা” কে ১০০০০০ (এক লক্ষ্য টাকা ) দিলেও উনাদের গায়ে লাগবে না। জীবনে তো বহু টাকা আমরা ফালতু ভাবে খরচ করে ফেলি। তাই আমার একটি অনুরোধ কোন স্বহৃদয়বান ব্যাক্তি কি আছেন যারা এই মাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন ? তাহলে প্রথম আলোর মাধ্যমে এই মাকে সাহায্য করার অনুরোধ রইল।

Zakaria Mahamud

Zakaria Mahamud

২০১৩.০১.১৯ ১১:৩৮
@ Abul Sorkar: Hats off you... আপনার মত ভাল মানুষ আজ খুব বেশি দরকার। আললাহ আপনার সহায় হন।

Sayham Hassan

Sayham Hassan

২০১৩.০১.১৯ ১১:৫০
সত্যিই অমানবিক ও কষ্টের। আমরা সমাজের সবাই অসহায় এই দুইজনের ছোট পরিবারটির দায়িত্ব নিতে কি পারিনা? আমার ভাগ্নিটিও অটিস্টিক, অনেকটাই হেফায়জুল ইসলাম এর মতো। আমরা ভাগ্নিটিকে বুকের মধ্যে আগলে রাখার চেষ্টা করি। কারন আমরা জানি ওরা আমাদের মতোই, কিন্তু ওরা আমাদের মতো কলুষিত নয়। আমাদের দায়িত্ব এদের ভালোবাসা আর বুকের মাঝে আগলে রাখা।

Md. Mahfuzur Rahman

Md. Mahfuzur Rahman

২০১৩.০১.১৯ ১২:০৭
@ Mr. Zakaria, May Allah bless you for your kindness.

Nur Alam

Nur Alam

২০১৩.০১.১৯ ১২:০৯
I am surprized since last 10 years nobody inform, no media inform , no public inform to the Goverment, NGO such like a small our country!!!!!!!
I request ALL NGO or Goverment to immediately take care of this child and relief the mother. Also I request to take help to the mother for her smooth life up to end. I request our PRIME MINISTER to take necessary steps to take care of the child and mother.
If nobody come I shall come for help. ALLAH PLEASE HELP ME.

Shawon

Shawon

২০১৩.০১.১৯ ১২:১৩
অত্যন্ত মর্মস্পশর্ী।

golam

golam

২০১৩.০১.১৯ ১২:২২
Thanks,
Abul Sarker, Sydney

mosharaf minto

mosharaf minto

২০১৩.০১.১৯ ১২:২৫
আপনী এগিয়ে যান , এই শুভ কামনা করি আল্লাহ আপনার সহায় হোক.

Kamrul Hasan Sajib

Kamrul Hasan Sajib

২০১৩.০১.১৯ ১২:৪৮
ঐ মায়ের কষ্ট আমি সামান্যও হলে বুযতে পারছি, কারন আমার ছোট বোন টাও ঐ ছেলেটার মত।আমি যানি আমার মা আমার বোন কে নিয়ে (পালতে) কি কষ্ট করে।

Runa Rahim Sheikh

Runa Rahim Sheikh

২০১৩.০১.১৯ ১২:৪৯
মনটা আর ভালো থাকল কই . এমন সংবাদ থাকে , অথচ sahazzo পাঠানোর কোনো আকাউন্ত নামবার থাকে না . একবার ঢাকার করাইল বস্তি সর্কার যখন ভেঙ্গে দিয়েছিল- সেখানে গর্ভবতী মায়েরা ছিলেন, যারা ফুটপাতে আশ্রয় নিয়েছেন . তিভিতে খবর পেয়ে প্রায় আমার এক মাস সময় লেগেছিল একতা ঠিকানা বের করতে!!!!!

satyajit

satyajit

২০১৩.০১.১৯ ১৩:১৪
যেদিন জানব ছেলেটি সুস্থ-স্বাভাবিক সেদিন ভাল লাগবে ...........

Abul Sarker, Sydney

Abul Sarker, Sydney

২০১৩.০১.১৯ ১৪:৩৩
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ মন্তব্য লেখার জন্য। আমি ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করেছি ছেলেটির মায়ের ঘড়ে বসে আর্থিক উপার্জনের যাতে ছেলেটি তার মাকে সার্বক্ষনিক কাছে পায়।

Md Saddam Hossain Roni

Md Saddam Hossain Roni

২০১৩.০১.১৯ ১৬:১৯
আমাদের দেশের সামাজিক সঙ্ঘটনগুলো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দায়িত্ব শিখানো উচিত।তারা এগিয়ে আসলেই এই ঘটনাগুলো পরিবরতন সম্ভব।
২০১৩.০১.১৯ ১৬:৩১
আমি জানি প্ল্যান বাংলাদেশ নামে একটি বেসরকারী আন্তজাতিক সংস্থা সেখানে কাজ করে এবং তারা শিশুদের নিয়ে কাজ করে। আমার জানা মতে তাদের আরও আগে এই বিষয়টির দিকে নজর দেয়া উচিৎ ছিল। আমরা মুখে মুখে অনেক কথা বলি আসলে কাজে কি তাই????

M A Ghani Sarker

M A Ghani Sarker

২০১৩.০১.১৯ ১৬:৫১
দৈনিক প্রথম আলো এবং প্রথম আলোর সাংবাদিক নীলফামারী প্রতিনিধি মীর মাহমুদুল হাচানকে অসংখ ধন্যবাদ মানবতাধরমি এই সংবাদটি পরিবেশন করার জন্য এবং এই ধরনের মানবিক অনুসন্ধানী সংবাদ বেশী বেশী প্রচারের জন্য অনুরধ রইলো ।

Asaduzzaman

Asaduzzaman

২০১৩.০১.১৯ ১৯:০৫
প্রতিবেদক কে ধন্যবাদ । হেফাইযুল'র জন্য কিছু করার ইচছা পোষণ করছি। প্রথম আলোর উচিৎ প্রতিবেদক এর ইমেইল অ্যাড্রেস দেয়া ।

saidur rahman shahin

saidur rahman shahin

২০১৩.০১.১৯ ২০:০৯
গ্রামে কি একজন বিবেকবান ধনী মানুষও নেই ?
২০১৩.০১.১৯ ২০:৪৮
Dear Prime Minister,
I hope you saw this news. We know you and your daughter are fighting with autism, look at this boy and his mother. How they are fighting. I hope you will take necessary steps to rehabilitate the people who has autism. I am definitely sure people from Bangladesh and abroad will come forward if you take such initiative.
My Salut to Abul Sarker. May Allah save you from all kinds of unavoidable situations.

Kabir

Taslima Akter

Taslima Akter

২০১৩.০১.১৯ ২১:০০
@ Abul Sarker, Sydney
Thank you so much. May Allah bless you....