অমানবিক!
হেফায়জুল ইসলাম
সকাল হলেই ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আমিনা বেওয়া (৫০)। বাড়ির অদূরে একটি বাঁশঝাড়ে গাছের সঙ্গে ছেলেকে বেঁধে তবেই যান কাজে। কাজ শেষে সন্ধ্যায় ছেলেকে নিয়ে আবার বাড়িতে ফেরেন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা জোটে, তা-ই ছেলেকে নিয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবেই চলছে আমিনার। স্বামীহারা সংসারে ছেলে হেফায়জুল ইসলামই (২০) একমাত্র সন্তান। কিন্তু সাত রাজার ধনকে নিয়ে তাঁর দুঃখের শেষ নেই। হেফায়জুল যে বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধী।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলবাড়ী গ্রামে থাকেন আমিনা। নিজস্ব জমিজমা বলতে কিছুই নেই। থাকেন অন্যের বাড়িতে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ বছর বয়স থেকে ছেলেটি বেশি অসুস্থ। একটু ছাড়া পেলেই তেড়ে যায় অন্যের দিকে, নষ্ট করে খেতের ফসল। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের অভিযোগের অন্ত নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমিনা এ পথ বেছে নিয়েছেন।
সম্প্রতি শিমুলবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে বাঁশঝাড়ের ভেতরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে হেফায়জুলকে। যখন-তখন তিনি গাছের চারদিকে ঘুরছেন। ক্লান্ত হয়ে এলে গাছে মাথা ঠেকিয়ে দেন। কোনো কিছুর টের পেলে আবার জেগে ওঠেন। আকাশপানে তাকিয়ে থাকেন ফ্যালফ্যাল করে।
গ্রামের বাসিন্দা সুজাউল ইসলাম জানান, ১৬ থেকে ১৭ বছর আগে হেফায়জুলের বাবা মারা যান। নিজেদের কোনো সহায়-সম্বল নেই। তাই ছেলের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে আমিনাকে প্রায়ই প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর বকাঝকা শুনতে হয়। তা ছাড়া একটু ছাড়া পেলেই হেফায়জুল পানিতে নেমে যান। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমিনা ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কাজে যান।
সুজাউল বলেন, যদিও বিষয়টি অমানবিক, কিন্তু ছেলেটির মায়ের কিছু করার নেই।
ছেলের কথা জানতে চাইতেই আমিনা অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেক বান্ধি থুবার সময় কান্দোং (কান্না আসে) আর বান্ধি থং (তবু বেঁধে রাখি)।’ তিনি জানান, অসুস্থ ছেলেকে এভাবে বেঁধে রাখতে খারাপ লাগলেও তাঁর কিছু করার নেই। থাকেন অন্যের জমিতে। ছেলের কারণে সেই আশ্রয়টুকুও হারালে উপায় থাকবে না।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ব্লাস্টের নীলফামারী শাখার আইনজীবী রোখসানা আনজুম বলেন, বিষয়টি অমানবিক। কিন্তু এখানে মাকে দোষারোপ করলে চলবে না। বরং ওই সমাজের মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে।







মাহমুদুল হক
২০১৩.০১.১৯ ০২:৩৩Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।
২০১৩.০১.১৯ ০৫:২৯Iqbal Hossain
২০১৩.০১.১৯ ০৬:০৬Muzahidul Islam Mazumder
২০১৩.০১.১৯ ০৬:১৬MASUD
২০১৩.০১.১৯ ০৬:২৫ABUL KALAM AZAD
২০১৩.০১.১৯ ০৭:১৯Engineer Akther
২০১৩.০১.১৯ ০৮:১৮Mahmudul Hasan
২০১৩.০১.১৯ ০৮:৩৬dulal
২০১৩.০১.১৯ ০৯:১৬Abul Sarker, Sydney
২০১৩.০১.১৯ ০৯:২৭Alauddin Alo
২০১৩.০১.১৯ ১০:৩২Mahadi Sikder
২০১৩.০১.১৯ ১০:৫৫Farid (ফরিদ), নরসিংদী।
২০১৩.০১.১৯ ১১:০২Hotobak Bashar
২০১৩.০১.১৯ ১১:১৭Bashar Khan
২০১৩.০১.১৯ ১১:২১আমাদের দেশে অনেক ধনবান লোকেরা আছেন কেউকি এই মায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না ? এই দেশে কোটি কোটি টাকা যে যেভাবে পাড়ছে লুটপাট করে খাচ্ছে। তাহলে কি এই মায়ের প্রতিবন্ধি ছেলেটাকে নিয়ে চলার মত টাকা আমরা কেহ দিতে পারি না ? এই দেশে এমনও ব্যাক্তি যারা আছেন তারা তাদের পকেট থেকে এই “মা” কে ১০০০০০ (এক লক্ষ্য টাকা ) দিলেও উনাদের গায়ে লাগবে না। জীবনে তো বহু টাকা আমরা ফালতু ভাবে খরচ করে ফেলি। তাই আমার একটি অনুরোধ কোন স্বহৃদয়বান ব্যাক্তি কি আছেন যারা এই মাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন ? তাহলে প্রথম আলোর মাধ্যমে এই মাকে সাহায্য করার অনুরোধ রইল।
Zakaria Mahamud
২০১৩.০১.১৯ ১১:৩৮Sayham Hassan
২০১৩.০১.১৯ ১১:৫০Md. Mahfuzur Rahman
২০১৩.০১.১৯ ১২:০৭Nur Alam
২০১৩.০১.১৯ ১২:০৯I request ALL NGO or Goverment to immediately take care of this child and relief the mother. Also I request to take help to the mother for her smooth life up to end. I request our PRIME MINISTER to take necessary steps to take care of the child and mother.
If nobody come I shall come for help. ALLAH PLEASE HELP ME.
Shawon
২০১৩.০১.১৯ ১২:১৩golam
২০১৩.০১.১৯ ১২:২২Abul Sarker, Sydney
mosharaf minto
২০১৩.০১.১৯ ১২:২৫Kamrul Hasan Sajib
২০১৩.০১.১৯ ১২:৪৮Runa Rahim Sheikh
২০১৩.০১.১৯ ১২:৪৯satyajit
২০১৩.০১.১৯ ১৩:১৪Abul Sarker, Sydney
২০১৩.০১.১৯ ১৪:৩৩Md Saddam Hossain Roni
২০১৩.০১.১৯ ১৬:১৯M A Ghani Sarker
২০১৩.০১.১৯ ১৬:৫১Asaduzzaman
২০১৩.০১.১৯ ১৯:০৫saidur rahman shahin
২০১৩.০১.১৯ ২০:০৯I hope you saw this news. We know you and your daughter are fighting with autism, look at this boy and his mother. How they are fighting. I hope you will take necessary steps to rehabilitate the people who has autism. I am definitely sure people from Bangladesh and abroad will come forward if you take such initiative.
My Salut to Abul Sarker. May Allah save you from all kinds of unavoidable situations.
Kabir
Taslima Akter
২০১৩.০১.১৯ ২১:০০Thank you so much. May Allah bless you....