অ্যাসিড নিক্ষেপকারী দুই মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি, আতঙ্কে ছাত্রীটি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার কলেজছাত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও তাঁর দিন কাটে আতঙ্কে। কারণ, দুই মাসেও অ্যাসিড নিক্ষেপকারী গ্রেপ্তার হয়নি।
অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার কলেজছাত্রী ফেরদৌস আরা লিপির বাড়িতে শুক্রবার বিকেলে এই প্রতিবেদক গেলে তিনি বলেন, ‘সব সময় এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে। ১০ জানুয়ারি থেকে কলেজে ক্লাস শুরু হবে। তখন তো আমাকে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত কলেজে যেতে হবে।’ ছাত্রীটি আরও বলেন, ‘দুমাসেও অ্যাসিড নিক্ষেপকারী শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়নি। প্রতিশোধ নিতে সে আবার অ্যাসিড নিয়ে হামলা চালাতে পারে। এ আতঙ্কে আমার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।’ ছাত্রীর বাবা শিক্ষক আবদুস ছাত্তার জানান, ওই ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর তিনি মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কতিপয় ব্যক্তি এ ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। তিনি চান অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার জাকির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, শফিকুলকে ধরার জন্য পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। প্রযুক্তির সহায়তা (মুঠোফোন ট্র্যাকিং) নিয়ে তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। ঘন ঘন মুঠোফোন পরিবর্তন করায় পুলিশের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে তাঁর দাবি। আরেক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে ওই ছাত্রীর চিকিৎসা সনদ এখনো থানায় পাঠানো হয়নি। সেটি হাতে এলে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শফিকুলের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা যায়। গত ৬ নভেম্বর ছাত্রীটি নান্দাইল উপজেলার নিভিয়াঘাটা গ্রামের সাতানা পাড়ার বাড়ি থেকে টমটম গাড়িতে করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি বাসস্টপেজে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁকে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন বখাটে শফিকুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত মুমিনুন্নিছা সরকারি মহিলা কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






