• হোম
  • সারা দেশ
  •   চার সহস্রাধিক মাধ্যমিক স্কুল নিজেদের দুর্বল মনে করে

একটি প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন

চার সহস্রাধিক মাধ্যমিক স্কুল নিজেদের দুর্বল মনে করে

রাজীব নূর | তারিখ: ২০-১২-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

দেশের চার হাজার ২১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজেদের দুর্বল ও অকার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে স্বীকার করে নিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর উন্নয়ন প্রকল্পের (এসইএসডিপি) আওতায় বিদ্যালয়-প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্বমূল্যায়নের মাধ্যমে পরিচালিত সাম্প্রতিক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশের ১৮ হাজার ৫৮২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮ হাজার ৪৬৬টি বিদ্যালয় এই স্বমূল্যায়ন সমীক্ষায় অংশ নেয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১৭টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে এবং এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৬৯টি নিজেদের অতি উত্তম বলে মনে করেছে। ১০৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজেদের ভালো মানের এবং ৩৮টি দুর্বল বলে মনে করেছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অকার্যকর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
সমীক্ষায় বিদ্যালয়গুলোকে সাতটি নির্ণায়কের ভিত্তিতে যাচাই করে ‘এ’ (অতি উত্তম), ‘বি’ (ভালো), ‘সি’ (মধ্যম), ‘ডি’ (দুর্বল) ও ‘ই’ (অকার্যকর) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাতটি সূচকের অধীনে মোট ৪৫টি উপসূচকের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত ফরম পূরণ করে স্বমূল্যায়ন করেন। মূল সাতটি সূচক হলো: ১. শিখন ও শেখানোর পরিবেশ, ২. প্রতিষ্ঠান-প্রধানের নেতৃত্ব, ৩. ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকারিতা, ৪. শিক্ষকদের পেশাদারি, ৫. শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব, ৬.সহ-শিক্ষাক্রমিক কর্মসূচি ও ৭. শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক।
মূল্যায়নে ৯০ থেকে ১০০ নম্বরকে ‘এ’ শ্রেণী, ৮০ থেকে ৮৯ দশমিক ৯ নম্বরকে ‘বি’, ৭০ থেকে ৭৯ দশমিক ৯ নম্বরকে ‘সি’, ৫০ থেকে ৬৯ দশমিক ৯ নম্বরকে ‘ডি’ এবং ২০ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ নম্বরকে ‘ই’ শ্রেণী হিসেবে ধরা হয়।
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৭১৭টি নিজেদের ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত বলে মনে করেছে। এ ছাড়া ‘বি’ ছয় হাজার ৪০২টি, ‘সি’ সাত হাজার ১৩৭টি, ‘ডি’ তিন হাজার ৯৪১টি এবং ‘ই’ ২৬৯টি।
দেশের নয়টি অঞ্চলে ভাগ করা এই সমীক্ষায় রংপুর অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয় অংশ নিয়েছে। রংপুর অঞ্চলের মোট তিন হাজার ৭১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তিন হাজার ৬৮টি স্বমূল্যায়নে অংশ নিয়েছে। ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় স্বমূল্যায়নে অংশ নিয়েছে। সিলেট অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮৪৪টি।
‘এ’ (অতি উত্তম) শ্রেণীভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি কুমিল্লা অঞ্চলে—৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ঢাকায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ এবং খুলনায় ৫ দশমিক ২১ শতাংশ ‘এ’ শ্রেণীর বিদ্যালয় রয়েছে। ‘ই’ (অকার্যকর) শ্রেণীর শীর্ষে রয়েছে বরিশালের অবস্থান—৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। রংপুর ৩ দশমিক ৩৬ ও রাজশাহী ১ দশমিক ৯১। বাকি সব অঞ্চলে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের হার ১ শতাংশের নিচে।
শিখন ও শেখানোর পরিবেশ মূল্যায়নে এক হাজার ৩৯৮টি, প্রতিষ্ঠান-প্রধানের নেতৃত্ব মূল্যায়নে দুই হাজার ৬৩৯টি, ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে ছয় হাজার ৪২৬টি বিদ্যালয়, শিক্ষকদের পেশাদারি মূল্যায়নে দুই হাজার ৯১২টি, শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব মূল্যায়নে ৩৬৩টি, সহ-শিক্ষাক্রমিক কর্মসূচি মূল্যায়নে তিন হাজার ৮৫৯টি এবং শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক মূল্যায়নে পাঁচ হাজার ৯১২টি বিদ্যালয় ‘এ’ শ্রেণী পেয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই সমীক্ষা পরিচালিত হলো। প্রধান শিক্ষকদের স্বমূল্যায়নের ভিত্তিতে গত বছরের সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। খোদ শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বমূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাজটি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা স্তর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক রতন কুমার রায় গত বছর সমীক্ষায় কিছু ভুল থাকার কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবার আমরা অনেক নির্ভুল হওয়ার চেষ্টা করেছি। এবারের প্রতিবেদনটিতে যেন অতিমূল্যায়ন না থাকে, সে জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন