রংপুর সিটি নির্বাচন
আজ ভোট, চিন্তা বিদ্যুৎহীন ৭০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে
কেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
ছবি: প্রথম আলো
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার। ভোট-কেন্দ্রগুলোতে যাবতীয় সরঞ্জাম পাঠানোসহ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই এখানে ভোট গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি বিদ্যুৎহীন। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় এই কেন্দ্রগুলো নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রশাসন ও পুলিশের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় জানায়, বিদ্যুৎহীন কেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ভোটকক্ষগুলোতে আলোর স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ভোট গ্রহণের সময়ের জন্য এসব কেন্দ্রে বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও থাকছে না। তবে ভোট গণনার সময়ের জন্য চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎহীন কেন্দ্রগুলোতে একাধিক চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে।
তারা সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে তিনটি করে চার্জার লাইটের ব্যবস্থা তাঁরা করেছেন। কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে।
আজ ভোট গ্রহণ: চলতি বছরের ৫ জুন রংপুরকে দেশের দশম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এখানে ভোটার রয়েছেন তিন লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৯ হাজার ১২৮ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৬১৪ জন। ভোটাররা আজ রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র, ৩৩ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ১১ জন নারী কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন।
গতকাল সকাল থেকে শহরের পুলিশ হল থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার, সিল, ব্যালট বাক্সসহ অন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছেছেন।
সকালে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র, ওয়ার্ড ও অঞ্চল—এই তিন স্তরে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। থাকবে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও রিজার্ভ ফোর্স। টহল দেবে ৫৭টি দল। পুলিশ, র্যা ব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারের মতো সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তিনি বলেন, নির্বাহী হাকিম ও বিচারিক হাকিমেরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
র্যা ব-৫-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা আনোয়ার লতিফ খান বলেন, তাঁদের ৩০০ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। ২২টি টহল দল ও ৭০ জন গোয়েন্দা কাজ করবেন।
কে হবেন প্রথম নগরপিতা: রংপুরের প্রথম নগরপিতা কে হবেন, তা নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ অনেক। নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে ভোটাররা মনে করছেন, মূল প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা হবে সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু (মোটরসাইকেল) ও মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার (হাঁস) মধ্যে। অন্য ১০ প্রার্থী হলেন: এ কে এম আবদুর রউফ মানিক (চশমা), কাওসার জামান বাবলা (আনারস), সাফিউর রহমান (দোয়াত-কলম), আবদুল কুদ্দুস (তালা), কাজী মাজিরুল ইসলাম (টেলিভিশন), ফারুক আজীজ (ঘোড়া), ফিরোজ কবির চৌধুরী (কাপ-পিরিচ), এ টি এম গোলাম মোস্তফা (জাহাজ), আলী হায়দার সরকার (টেবিল) ও মেহেদী হাসান (প্রজাপতি)।
নির্বাচনে ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোট ৩২৭ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১১টি পদে ৯১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় গতকাল প্রার্থীরা নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। তাঁরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরশাদের সমর্থন নিয়ে আবারও মানিকের নাটক: মেয়র পদপ্রার্থী আবদুর রউফ মানিক গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরে মাইকিং করে জানান, তাঁকে জাতীয় পার্টি সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা ওই দিনই জানান, তাঁরা কাউকে সমর্থন দেননি।
গতকাল সকালে গণমাধ্যমের কয়েকজন কর্মীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মানিক বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। এ খবর কয়েকটি টেলিভিশনে প্রচারও করা হয়। কিন্তু এর ঘণ্টা তিনেক পর এরশাদের ভাতিজা ও রংপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ আসিফ শাহরিয়ার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তাঁদের দল বা এরশাদ কাউকে সমর্থন দেননি। বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এটা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরেক মেয়র পদপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান তাঁর পাশেই বসা ছিলেন।
মুঠোফোনে ভোটকেন্দ্রের তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নির্বাচন কমিশন গতকাল জানায়, এই নির্বাচনে ভোটার কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন, তা মুঠোফোনের খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানতে পারবেন। এ জন্য প্রথমে মুঠোফোনের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে যাঁদের পরিচয়পত্রের নম্বর ১৭ সংখ্যার, তারা Id লিখে স্পেস দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লিখবেন। তারপর এসএমএসটি ২২৩৩ নম্বরে পাঠাতে হবে। যাঁদের পরিচয়পত্রের নম্বর ১৩ সংখ্যার, তাঁরা Id লিখে স্পেস দিয়ে চার সংখ্যার জন্ম সাল লিখে, তার সঙ্গে ১৩ সংখ্যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখবেন। এরপর তা ২২৩৩ নম্বরে পাঠাবেন। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নিজের নাম, সিরিয়াল নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও ভোটার এলাকার তথ্য জানতে পারবেন।
আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল স্থাপন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন উপলক্ষে মন্ত্রণালয় ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ স্থাপন করেছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ও যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) এই সেলের কার্যক্রম সার্বিকভাবে তদারক করবেন। সমন্বয় সেলের টেলিফোন নম্বর ৭১৬৮২৩৪।







mahabubul haque
২০১২.১২.২০ ০৩:০৬Md. Sayam
২০১২.১২.২০ ০৪:০৮