মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

আযাদের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন ২৩ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২০-১২-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) পলাতক আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল বুধবার এ দিন ধার্য করেন।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষেও আসামিপক্ষের সাক্ষী তালিকা দিতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তি উপস্থাপনের পর্যায়ে পৌঁছানো দ্বিতীয় মামলা এটি। একই ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তি উপস্থাপন চলছে। তবে এই মামলায় আসামিপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।
পলাতক আযাদের অনুপস্থিতিতে গত ৪ নভেম্বর এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীকে দুই দফায় সময় দিলেও তিনি আসামিপক্ষের সাক্ষীদের তালিকা জমা দিতে পারেননি। পরে তিনি সাক্ষীর তালিকা দাখিল করতে না পারার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে জানান।
জানতে চাইলে আবদুস শুকুর খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আসামির পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েও তিনি পাননি। তাই তিনি আসামিপক্ষের কোনো সাক্ষীও হাজির করতে পারেননি।
গতকাল দ্বিতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষের ২২তম ও শেষ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেনকে জেরা করেন আবদুস শুকুর খান। তদন্তকালে কোন কোন বইপত্র ও পত্রিকা পড়েছেন—আইনজীবীর এ প্রশ্নে সাক্ষী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর ফরিদপুর, মুক্তিযুদ্ধ ও নারী, স্বাধীনতার দলিলপত্র, এসোসিয়েটস অব পাকিস্তান আর্মি এবং দৈনিক জনকণ্ঠ ও সমকাল পড়েছেন।
আযাদ রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র ছিলেন, এটি কীভাবে জেনেছেন—এ প্রশ্নে নূর হোসেন বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে এ তথ্য জেনেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরিদপুর শহরে পাকিস্তানি সেনারা ঢোকার পরপরই আযাদ তাঁদের কাছে স্বল্প সময়ের জন্য অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন।
জেরার শেষ পর্যায়ে আইনজীবী মত (সাজেশন) দেন, তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে মামলার তদন্ত করেননি। আযাদ রাজাকার ছিলেন না, অস্ত্র চালনা জানতেন না। তিনি মিথ্যা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ সময় নূর হোসেন বলেন, এটা সত্য নয়।
জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের সাক্ষীর বিষয়ে আবদুস শুকুর খানের কাছে জানতে চান। তিনি সাক্ষী না আনার বিষয়ে জানালে ট্রাইব্যুনাল যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয় ২৬ নভেম্বর থেকে। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দেন।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন চলছে: একই ট্রাইব্যুনালে আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল তৃতীয় দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী। এ সময় কাদের মোল্লা আসামির কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী শহিদুল হক, চতুর্থ সাক্ষী কবি কাজী রোজী এবং দশম সাক্ষী সৈয়দ আবদুল কাইয়ুমের সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়েছে, কবি মেহেরুন নেসা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে কাদের মোল্লা জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করায় মেহেরুন নেসা স্বাধীনতাবিরোধীদের লক্ষ্যে পরিণত হন। এই হত্যাকাণ্ডে কাদের মোল্লা জড়িত ছিলেন এটি রাষ্ট্রপক্ষের তিন সাক্ষী পৃথকভাবে শুনেছেন।
কৌঁসুলি বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যই ২ নম্বর অভিযোগে কাদের মোল্লার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে। রাষ্ট্রপক্ষ আজ বৃহস্পতিবারও যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
বিউটি খানমকে জেরা: বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী বিউটি খানমকে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক ও খলিলুর রহমান। শারীরিক কারণে জামিনে থাকা আলীম এ সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় এ মামলার কার্যক্রম ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন