ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার ফোরামের প্রতিবেদন
শ্রমিকের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না বড় ক্রেতারা
বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানাতেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। অনেক কারখানারই জরুরি বহির্গমন পথ নেই। আর এসব কারণেই ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশেই এক হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এই তথ্য ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরামের (আইএলআরএফ)। তাদের মতে, এসব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে প্রতিরোধযোগ্য অগ্নিকাণ্ড ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় ক্রমাগত যে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার জন্য পশ্চিমা বড় পোশাক ক্রেতাদেরও দায়ী মনে করছে আন্তর্জাতিক এই শ্রমিক অধিকার সংগঠনটি।
আইএলআরএফ বলছে, পোশাক প্রস্তুতকারী কারখানাগুলো অগ্নিনিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন করলেও বিশ্বখ্যাত খুচরা পোশাক ক্রেতারা তাদের সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কোনো চুক্তিতে যাচ্ছে না; বরং নিজেদের চাহিদামতো পোশাক কিনছে।
শ্রমিক সংগঠনটি ‘মারাত্মক গোপনীয়তা (ডেডলি সিক্রেটস)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রকাশ করে।
সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সঙ্গে অগ্নিঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট আলোচনা না করায় বড় পোশাক ক্রেতারা কীভাবে শ্রমিকের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তা-ই দেখানো হয়েছে ৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে।
আইএলআরএফ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব। তবে এ জন্য ক্রেতাদের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে পোশাক সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে হবে। কারখানা সংস্কার যাতে করতে পারে, সে জন্য পোশাকের মূল্য বাড়িয়ে দিতে হবে। সর্বোপরি শ্রমিকদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
বাংলাদেশের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে গত মাসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন শ্রমিক নিহত হন। এর দুই মাস আগে পাকিস্তানের আলী এন্টারপ্রাইজে অগ্নিকাণ্ডে ২৬২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি কারখানাই বড় পশ্চিমা পোশাক ক্রেতাদের জন্য পোশাক তৈরি করত।
আইএলআরএফের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এক হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এর সঙ্গে মেলে না দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর তথ্য। বিজিএমইএ বলছে, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭৫ জন শ্রমিক মারা গেছেন। আর ভবন ধসে মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জন শ্রমিকের।
আন্তর্জাতিক সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে যেখানে লাশের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, তার পরও যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে বেশি পোশাক কেনার কাজ দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেতারা যদিও কারখানার পরিবেশ উন্নত করতে কারখানার মালিকদের চাপ দেয়; তবে এ কাজ করতে অর্থ প্রয়োজন। ক্রেতারা পোশাক কেনার সময় দাম ও মান দেখে কেনে; কাজের পরিবেশের মান দেখে কেনে না। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অনিরাপদ কর্মপরিবেশ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই দশক ধরে এ দেশের পোশাক খাতে বিনিয়োগ করেছে।
আইএলআরএফের নির্বাহী পরিচালক জুডি গিয়ারহার্ট বলেন যে গ্যাপ, জেসিপেনি ও ওয়াল-মার্টের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের অংশীদারির বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয় না। অথচ, এই পদক্ষেপই পারে শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংগঠন এবং অনেক ব্যক্তিই এখন খ্যাতিমান পোশাক ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর সঙ্গে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করার দাবি জানাচ্ছে। বড় দুটি ক্রেতা-প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এমন চুক্তিতেও সই করেছে। তবে ওয়াল-মার্ট, এইচঅ্যান্ডএম ও গ্যাপের মতো ক্রেতা-প্রতিষ্ঠান যাতে এমন চুক্তি সই করে, সে জন্য এরই মধ্যে কয়েকটি রিটও হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আইএলআরএফের বিজর্ন ক্লাসো। তিনি বলেন, যদিও তাজরীন ও আলী এন্টারপ্রাইজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের নিহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে এ ঘটনাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। এই শ্রমিকদের মৃত্যু যাতে বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।








zahid
২০১২.১২.২০ ১০:৪৪Sultana
২০১২.১২.২০ ১৪:৫৬Shaheen Jahangir Alam শাহীন জাহাঙ্গীর আলম
২০১২.১২.২১ ০০:২৫অনেক গার্মেন্টস মালিক বড় বড় রাজনৈতিক দলে রাতারাতি টাকার জোরে নির্বাচনে নমিনেশন প্রাপ্তির আশায় ও পরবর্তিতে এমপি বা মন্ত্রীর লোভে রাজনীতিতে প্রবেশ করে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করছে।