বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে
বিমা খাতে প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে বেসরকারি জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৫০২ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। একই সময় বেসরকারি সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১৩৯ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।
প্রিমিয়াম আয়ের পাশাপাশি বিমা খাতে বিনিয়োগ, জীবন বিমা তহবিল এবং সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এজিএমে বিমা কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জীবন বিমা: জীবন বিমা খাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ২০১১ সালে ছয় হাজার সাত কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। ২০১০ সালের আয় ছিল পাঁচ হাজার ৫০৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বেড়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ।
জীবন বিমা তহবিল ২০১০ সালে ছিল ১৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ২০১১ সালে ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
২০১০ সালে জীবন বিমা খাতে বিনিয়োগ হয়েছিল ১১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। ২৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ২০১১ সালে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।
জীবন বিমা কোম্পানির মোট সম্পদ ২০১০ সালে ছিল ১৫ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ২৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯২১ কোটি টাকা।
সাধারণ বিমা: সাধারণ বিমা খাতে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো ২০১১ সালে আয় করেছে এক হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। আগের বছর করেছিল এক হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। বেড়েছে ১৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।
সাধারণ বিমা খাতে ২০১০ সালের বিনিয়োগ ছিল এক হাজার ৭১০ কোটি টাকা। ২০১১ সালে হয়েছে দুই হাজার ২৬১ কোটি টাকা। বেড়েছে ৩২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
২০১০ সালে সাধারণ বিমা খাতের সম্পদ ছিল তিন হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ২৬ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে চার হাজার ২০৫ কোটি টাকা।
বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেন বিমা শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষ কর্মকর্তা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, বিক্রয় কৌশল এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমা খাতের সম্পদ, আয়, তহবিল ইত্যাদি বৃদ্ধির পেছনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে বলে মত দেন।
সভায় বক্তব্য দেন বিআইএর সাবেক সভাপতি এম মঈদুল ইসলাম, মেঘনা লাইফ ও কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনস্যুরেন্সের এমডি শাহ্ আবুল কাশেম, রূপালী ইনস্যুরেন্সের এমডি পি কে রায়, প্রভাতী ইনস্যুরেন্সের এমডি আতাউর রহমান মজুমদার, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরী, জনতা ইনস্যুরেন্সের এমডি ফজলুল হক খান, ঢাকা ইনস্যুরেন্সের এমডি এ কিউ এম ওয়াজেদ আলী, কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের এমডি হাফিজউল্লাহ, ডেল্টা লাইফের ডিএমডি স্বপন কুমার সরকার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সরকারি সংস্থা সাধারণ বিমা করপোরেশন ও জীবন বিমা করপোরেশনসহ দেশে মোট ৬২টি বিমা কোম্পানি রয়েছে, আইডিআরএ এদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







