কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার মূল্য ৭৭ লাখ!

অভিনব ‘শিক্ষাসফর’

| তারিখ: ২০-১২-২০১২

  • ১৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে কুতুব মিনার বানিয়েছিলেন। প্রায় ২০ তলা সমান উঁচু এই মিনার বানাতে অভিজ্ঞতা নিতে ভারতের বাইরে যেতে হয়নি সে সময়ের প্রকৌশলী বা আমাত্যদের। অথচ এই একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তিনটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা সংগ্রহে বিদেশে যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা। তাঁদের এই অভিজ্ঞতা সংগ্রহের খরচ ধরা হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। কারও কারও অভিজ্ঞতার মূল্য এমনই বিপুল!
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে সিডিএ স্কয়ারে ২০, ২২ ও ২৫ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প চালু করেছে সিডিএ। এর জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে কর্মকর্তাদের ‘শিক্ষাসফরের’। যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা, যাঁদের মধ্যে মাত্র একজন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আটজনের চারজন দুই মন্ত্রণালয়ের, আর চারজন সিডিএর প্রকৌশলী। এই চার প্রকৌশলীর তিনজনই আবার দুদকের মামলার আসামি। চাকরির বিধি অনুসারে এই তিনজনের এখন সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) থাকার কথা। কিন্তু অলিখিত নিয়মই লিখিত নিয়মের থেকে বেশি শক্তিশালী। সেই অদৃশ্য ‘নিয়মে’ শাস্তির বদলে এই তিন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালি ভ্রমণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। যাঁরা তাঁদের নির্বাচক তাঁরা ভাবার প্রয়োজনই বোধ করেননি যে এই আটজনের সাতজনেরই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাহলে তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতা কী কাজে লাগবে?
বাংলাদেশে এখন ২০ থেকে ২৫ তলা ভবনের সংখ্যা অঢেল। খোদ চট্টগ্রাম নগরেই এ ধরনের বেশ কয়েকটি ভবন সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে। ‘ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া’ যা দেখা সম্ভব, তা দেখতে মুলুক ঘুরতে যাওয়ার অর্থ আসলে ‘দুর্নীতি’। প্রাথমিক খরচ হিসেবে এ ঘুষে ব্যয় হবে ৭৭ লাখ টাকা। এ টাকা যে সরাসরি কর্মকর্তাদের প্রমোদের কাজে ব্যয় হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ করার কারণ নেই। জনগণের করের টাকায় এ রকম ভ্রমণ কেবল স্বেচ্ছাচারিতাই নয়, দুর্নীতির শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এভাবে বিদেশ ভ্রমণ বা প্রশিক্ষণের নামে ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের জন্য সরকারি অর্থ খরচ করা মোটামুটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অভিজ্ঞতা অর্জনে শিক্ষাসফর ইত্যাদি মেকি কারণ দেখিয়ে বিদেশ সফর করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ফাঁকি দেন। তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত, তাঁদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

ishtiaque sarwar

ishtiaque sarwar

২০১২.১২.২০ ০৩:০৩
প্রথম আলোকে এবং সম্পাদক সাহেব কে অনেক ধন্যবাদ এই ইস্যুটা তুলে ধরাতে। সরকার এর টনক নিশ্চয় নড়বে এখন। চউক এবং রাজউক এর মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই কারণ উভয়ই দেশের দুটি গুরুত্বপুর্ণ সিটির দেখভাল করেন, তারাই যদি এতো দুর্নীতে নিমজ্জিত হয়ে যায় তাহলে বাকী দেশের বাকী অবস্থা তা অনুমান করাই যায়। প্রথম আলো কে সব সময় এই বিষয় গুলোতে ফলোআপ করতে হবে নচেত অনেক সর্বনাশ হয়ে যাবে দেশ এবং দশের।
২০১২.১২.২০ ০৭:২৯
শুধু কি তাই ? এমন কোন মন্ত্রণালয় নেই যার সচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র সহকারী সচিবরা পর্যন্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে রাষ্ট্রের কল্যানে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিদেশ সফর না করেন । এ এক বিশাল বাণিজ্য । এই বাণিজ্য করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার । কেন ? কারণ এরা মেধাবী । সরকার এদের মেধা কিনেছে খুব অল্প টাকায় । এদের বেতন ১১ থেকে ৪০ হাজার । এরা সংসার চালাবে কিভাবে ? ঘুষ তো আর সবার চেয়ারে নেই । এ বাজারে ১১ হাজার টাকায় একটা ছেলের সংসার চলে ? ৪০ হাজার টাকায় সচিব সাহেবের কীভাবে চলবে ? তাই এই ব্যবস্থা । সরকারের অবাস্তব বেতন কমিশনই এই লুটপাটের পথটা খোলা রেখে বেতন কাঠামো তৈরী করে ।

Md. Shawkat Ali

Md. Shawkat Ali

২০১২.১২.২০ ০৮:৫৭
একেই বলে জালিয়াতি, দুর্নীতি রোধে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

yusuf howladar

yusuf howladar

২০১২.১২.২০ ০৮:৫৮
বিদেশে শিক্ষা সফরের পূর্বে দেশেই এই ধরণের কর্মকর্তাদের জন্য একটি নৈতিক শিক্ষার কোর্স চালু করা প্রয়োজন।

Md. Anwar Hossain

Md. Anwar Hossain

২০১২.১২.২০ ০৯:১২
হায়রে আজব দেশ আমাদের !
২০১২.১২.২০ ০৯:২২
জাতি হিসেবে আমাদের আমরা এ কারনে পিছিয়ে আছি!

Sultana

Sultana

২০১২.১২.২০ ১০:৪৯
একটা সুন্দর বাড়ি তইরি হল। বাড়ির মালিক বাড়িটা দেখে যারপরনাই খুশী। পাশে দাঁড়ানো ইট বালি বহনকারি ঠেলাগাড়ি চালককে জড়িয়ে ধরল। "You have done a great thing! Our country is proud of you! Our country needs you!! You people will lead the country forward............"

Mohammad Nuruddin Jahangir

Mohammad Nuruddin Jahangir

২০১২.১২.২০ ১০:৫৩
দেশটা মগের মুললুকে পরিনত হয়েছে

Tuhin D Khokan

Tuhin D Khokan

২০১২.১২.২০ ১১:২৫
ইনারা হলেন আমাদের দুর্নীতিবাদ রাজনীতিবিদদের স্বজন অথবা তৈল-মর্দনকারী। ঠিকমতো ঘাটলে দেখা যাবে এই ৭৭ লাখ টাকা ইস্যু করাতে আরো কত টাকা ঢালতে হয়েছে কর্তা ব্যক্তিদের কাছে, যারা নিজেরাই এই সরকারের শেষ সময়ে এসে দেশটাকে লুটে-পুড়ে খাওয়ার আগ্রাসী অভিযানে নেমেছে। ধিক এই সব নামধারী তথাকথিত দেশ সেবকদের....

Shafiqul Islam

Shafiqul Islam

২০১২.১২.২০ ১২:৩২
সব বিষয়ে সরকারকে টানা একটা বাজে অভ্যাস।

A.W.Haq

A.W.Haq

২০১২.১২.২০ ১৩:০২
ধন্যবাদ প্রথম আলোকে ও রথম আলোর সাথে আমরাও একমত "জনগণের করের টাকায় এ রকম ভ্রমণ কেবল স্বেচ্ছাচারিতাই নয়, দুর্নীতির শাস্তিযোগ্য অপরাধ।" দয়া ও কষ্ট করে দুদকের মামলার আসামি ও বরখাস্ত তিন প্রকৌশলীর নাম ও ছবি দিলে ভাল হত ।

Md. Atauar Rahman

Md. Atauar Rahman

২০১২.১২.২০ ১৫:০৯
সরকারী মাল, দরিয়ামে ঢাল ..

Mozahidul Islam

Mozahidul Islam

২০১২.১২.২১ ০০:২৯
I want avail such an opportunity. Because I cannot bear my family with 16000 taka salary. My humble request to the committee to include me in the team. Thank you.