ক্লান্তিহীন প্রান্তি

মারুফ ইসলাম | তারিখ: ২০-১২-২০১২

  • ৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

হুমায়ূন আহমেদ যার গান শুনে বলেছিলেন, ‘প্রান্তি, তোমার নাই ক্লান্তি/ তোমার গান শুনে পেলাম শান্তি’—তার পুরো নাম নুসরাত জুহুরী। ডাক নাম প্রান্তি। বয়স মোটে ১১। হলে কী হবে! তার অর্জনকে মোটেও ‘মোটে’ বলে এক লাইনে শেষ করার উপায় নেই! মেরিডিয়ান-চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ ২০০৯ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, জাতীয় শিশু পুরস্কার ২০০৯, উচ্চাঙ্গ ও নজরুলসংগীতে জেলা পর্যায়ে সেরা পুরস্কার, আধুনিক গানে উপজেলা পর্যায়ে সেরা পুরস্কারসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত গানের প্রতিযোগিতার নানা পুরস্কার হাতে উঠেছে এই খুদে তারকার। ইতিমধ্যে গানের অ্যালবাম বেরিয়েছে চারটি, যার মধ্যে দুটি মিক্সড ও দুটি একক। ফ্রেশ মিল্ক, হরলিক্স, লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশসহ আরও বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছে এই তারকা শিশুশিল্পী। প্লে-ব্যাক করেছে ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রের ‘শুয়া উড়িল’ গানে (করুণ সুর) ও ছেলেটি চলচ্চিত্রের ‘এল রে এল চাঁদ’ গানে।
আমাদের আর বুঝতে অসুবিধা হয় না যে হুমায়ূন আহমেদ কতটা যথার্থ বলেছেন। আর হুমায়ূন আহমেদ যে কাচকে হীরা ভেবে ভুল করেন না, তারও প্রমাণ পাব খানিক বাদে; যখন জানব ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রের ‘মালা’ (ঘেটুর আপন বোন) চরিত্রে তাক লাগানো অভিনয় করেছে যে মেয়েটি, সে আর কেউ নয়—প্রান্তি।
‘সেটা ক্ষুদে গানরাজের ক্যাম্পিংয়ের সময়ের কথা। আমাদের একটা এপিসোড ছিল “অন্যকে নকল করা”। সেখানে আমি প্রথম হয়েছিলাম।’ বলছিল প্রান্তি। প্রান্তির চোখেমুখে খুশির ঝিলিক, ‘সেই এপিসোডে আমার অভিনয় নকল করা দেখে স্যার (হুমায়ূন আহমেদ) আমাকে ঘেটুপুত্র কমলার মালা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিলেন। দারুণ মজা হয়েছিল নুহাশপল্লিতে শুটিং করার সময়।’ এটুকু বলে একটু থামে প্রান্তি, যেন এই অবসরে স্মৃতির সড়ক ধরে একটু ঘুরে আসতে চায় নুহাশপল্লি থেকে। তারপর আবার শুরু করে কথা, ‘জানেন, শুটিংয়ের সময় স্যার একদিন ধমক দিয়েছিলেন আমাকে। একটা কান্নার দৃশ্যের শুটিং ছিল। কিন্তু আমি ঠিকমতো কাঁদতে পারছিলাম না। কয়েকবার চেষ্টার পরও যখন পারছিলাম না, তখন স্যার দিলেন এক রামধমক। ধমক খেয়ে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললাম। একটু পর স্যার এসে জড়িয়ে ধরে বললেন, “তুমি অনেক ভালো অভিনয় করেছ। অনেক বড় অভিনেত্রী হবে তুমি, প্রান্তি।”’
হুমায়ূন আহমেদের সেই স্নেহবাৎসল্য কিছুতেই ভুলতে পারে না সে। সেই স্মৃতির রেশ ধরেই উঠে আসে তার অভিনয়ের আরও প্রসঙ্গ। প্রান্তি জানায়, চ্যানেল আইতে প্রচারিত তাহের শিপনের ধারাবাহিক নাটক এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড-এর ‘টিয়া’ চরিত্রটিও তাকে দারুণ পরিচিতি এনে দিয়েছে। এই খ্যাতির পথ ধরে কিছু বিড়ম্বনা আসবে—সেটাই তো স্বাভাবিক। প্রান্তির খ্যাতির বিড়ম্বনার খানিকটা গল্প শোনালেন তার মা হাসিনা আফজাল, ‘ক্ষুদে গানরাজ হওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সাংবাদিক আসত ছবি তুলতে, না হয় সাক্ষাৎকার নিতে। প্রান্তি তখন লজ্জায় তাদের সামনে আসতে চাইত না। খাটের তলায়, নয়তো দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকত...হা হা হা।’
সেই লাজুক প্রান্তি এখন অনেকটাই চটপটে। গান, অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয় আর পড়ালেখা করে মনোযোগ দিয়ে। প্রান্তি পড়ছে ঢাকার কেমব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে, ষষ্ঠ শ্রেণীতে। পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে জানিয়ে দিয়েছে পড়ালেখায়ও সে সমান ক্লান্তিহীন। বাবা আফজাল আলী বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। প্রান্তির গানের হাতেখড়ি তাই বাবার কাছেই। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনে কিছুদিন গান শিখেছে। গান শিখেছে ওস্তাদ নিয়াজ মামুন ও নাজমা আলমের কাছেও। এখন উচ্চাঙ্গ গানের তালিম নিচ্ছে সংগীতশিল্পী পৃথ্বীরাজের কাছে। অবসরে ছবি আঁকতে আর টিভিতে কার্টুন দেখতে ভীষণ পছন্দ করে কুম্ভ রাশির এই খুদে তারকা। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ুয়া বড় বোন ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট বোনের সঙ্গে খুনসুটি করতেও ভীষণ মজা লাগে বলে জানাল সে। সেই সঙ্গে জানাল, ‘বড় হয়ে একজন আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখি আমি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Md. Rashedul Hassan

Md. Rashedul Hassan

২০১২.১২.২০ ০৯:২৫
খুব ভাল প্রান্তিকে অভিননদন। - রাশেদ

২০১২.১২.২০ ০৯:৫২
best of luck.

Ibrahim

Ibrahim

২০১২.১২.২০ ১১:০৪
শেষ কথাটা বেশ লেগেছে, দোয়া করি ভবিষ্যতে এক জন সৎ আইনজীবি হও।