রূপচর্চায় ঝুঁকছে দ. কোরিয়ার পুরুষেরা
অতিমাত্রায় পানাসক্তি, কঠোর কর্মনিষ্ঠা আর স্বদেশের জন্য যুদ্ধ করতে মরিয়া—এত দিন দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষদের এভাবেই চিনেছে বিশ্ব। তবে বিভিন্ন প্রসাধন কোম্পানি সাম্প্রতিককালে সেই পুরুষদের ভিন্ন চরিত্র তুলে ধরেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষদের মধ্যে সৌন্দর্যচর্চার ঝোঁক বাড়ছে। পুরুষেরা সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন পণ্য, এমনকি নারীদের সাজসজ্জায় বহুল ব্যবহূত ফাউন্ডেশন পাউডার বা ক্রিমও ব্যবহার করছেন।
লন্ডনভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইউরো মনিটর ইন্টারন্যাশনাল’-এর মতে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার পরও দক্ষিণ কোরিয়ায় পুরুষদের প্রসাধনসামগ্রীর বিক্রি বাড়ছে। গত বছর প্রসাধনীর বাজার বাড়ার এ হার ছিল ১০ শতাংশ।
ওই দেশের সবচেয়ে বড় প্রসাধনী কোম্পানি অ্যামোর প্যাসিফিক-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পুরুষের ব্যবহার্য প্রসাধনসামগ্রীর বিক্রি প্রায় ১৪ ভাগ বেড়েছে। এ হিসাবে পুরুষদের কাছে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করে বার্ষিক আয় দাঁড়াচ্ছে ৯০ কোটি ডলার।
সাজের সামগ্রী ব্যবহারের এ প্রবণতার কথা জানা গেল ২৬ বছর বয়সী ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী ইয়ো-জিনের কাছ থেকে। তিনি বলেন, তিনি বিবি ক্রিম নামে এক ধরনের ফাউন্ডেশন ক্রিম ব্যবহার করেন। এটি ছাড়াও তিনি মুখে ও চোখে পাঁচ ধরনের প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করেন।
জিন বলেন, ‘আমার বেশি পরিমাণে মেসতা ছিল। বিবি ক্রিম ব্যবহারের পর এখন আমাকে আগের চেয়ে বেশি সুন্দর দেখাচ্ছে। লোকজন বলছে, আমি নাকি আগের চেয়ে বেশি সুন্দর হয়েছি।’
বিবি ক্রিম সাধারণত প্লাস্টিক সার্জারিতে ব্যবহার হয়। রোগীদের মুখের বিভিন্ন দাগ সরাতে এ ক্রিম ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্তমানে এই ক্রিমই দক্ষিণ কোরীয় নারী-পুরুষের নিত্যব্যবহার্যে পরিণত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আমোর প্যাসিফিকের অন্যতম কর্তাব্যক্তি লিম জং-শিকের মতে, বর্তমানে ২০ ভাগ তরুণ বিভিন্ন ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করছে। এ ধরনের প্রসাধনীর ব্যবহার কোরিয়ার প্রচলিত সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ বাধাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
শিক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো পুরুষ প্রসাধনী ব্যবহার করলে কিংবা একদল পুরুষ মিলে প্রসাধনীর দোকানে গেলে, তাদের সমকামী মনে করা হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি সে রকম নয়। তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে একটি বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল, ‘তোমার সৌন্দর্যও একটি কৌশল হতে পারে।’
শিকের মতে, ওই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকার একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, চাকরির বাজারে টিকে থাকতে সৌন্দর্যও একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। বিবিসি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






