গণমাধ্যমের সামনে জবানবন্দি নেওয়ায় পাঁচ পুলিশকে তলব

আদালত প্রতিবেদক | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। ওই বিচারককে কোন আইনের অধীনে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হলো তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালাম এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (রমনা অঞ্চল) নুরুল ইসলাম, নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম, জব্দ তালিকার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন, রেকর্ডিং কর্মকর্তা শাফিয়ার রহমানকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের সামনে বিচারক জাবেদ ইমামকে যেভাবে হাজির করা হয়েছে, তা আইনের পরিপন্থী। পুলিশ বিচার বিভাগকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করতে “মিডিয়া ট্রায়াল” করেছে। এটা গুরুতর অন্যায়। পুলিশ একজন আসামিকে নিয়ে এভাবে মিডিয়া ট্রায়াল করতে পারে না। বিচারের আগেই কাউকে এভাবে হাজির করার বিধানও নেই। তাই ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
যদি কোনো আসামি দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে চান, তাঁকে অবশ্যই আদালতে হাজির করতে হবে। তা না করে পুলিশ জোরপূর্বক ওই জজকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছেন। এভাবে একজন আসামিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে তাকে বিচারের আগেই দোষী প্রমাণিত করা ফৌজদারি অপরাধ আইনের পরিপন্থী বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় একটি মাইক্রোবাসে করে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমাম রাজধানীর ইডেন কলেজের সামনে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান তাঁর গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করেন। এ সময় জাবেদ ইমামের গাড়ি থেকে ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

masud

masud

২০১২.১২.০৩ ২০:৫৬
May be police also have no confidence on our judicial.

Zahid Hossain

Zahid Hossain

২০১২.১২.০৩ ২১:০১
It has become a routine practice of law enforcing agencies , particularly police and RAB, to bring captured culprits in front of media and have their confessions openly. My question is why the judiciary was silent till date if it was unlawful. Why they wake up now when one of their colleagues was arrested with drugs and arms and gone under same drill. Can you justify?

mahfuza bulbul

mahfuza bulbul

২০১২.১২.০৩ ২১:০৬
জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদের কাছ থেকে ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল ও একটি পিস্তল পাওয়া যায়। গণমাধ্যমের সামনে বিচারক জাবেদকে হাজির করা আইনের পরিপন্থী। আর কী করলে বিচারকদের অসম্মান করা হয় এবং তা আইনের পরিপন্থী , আদালত যদি সবিস্তর জনগণকে জানাতো !
২০১২.১২.০৩ ২১:১৮
এরকম ঘটনা কিন্তু আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে তারা ছিলেন সাধারন জনগন।

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

২০১২.১২.০৩ ২১:২১
ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে আমি নিউমার্কেট থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমাম নামে এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নিউমার্কেট এলাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে থেকে তার মাইক্রোবাসে দুটি বস্তায় থাকা ব্যাগ ভর্তি ৩৪২ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করায়। বিশ্বাস হয় না। এ ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। জাবেদ ইমাম ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে ২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসাবে চাকরি শুরু করেন। সম্প্রতি যশোর থেকে তাকে ভোলা বদলি করা হয়েছিল। ৮ নভেম্বর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার পর ছুটিতে রয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি রহস্যজনক, ঘটনা কি? ধন্যবাদ জানাই আদেশ দেওয়াতে, মাননিয় ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালাম কে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে, আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে পুলিশ কোন আইনের অধীনে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হলো তা জানতে চাওয়াতে। আমার ও মানে হয় জোরপূর্বক ওই জজকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছেন। একজন জাজের যদি দুর্নীতি করার ইচ্ছা থাকে তাহলে সে তা কোর্টে বসেই করতে পারে, এর জন্য তার যশোর থেকে ফেনসিডিল ও অস্ত্র নিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসার কোন প্রয়োজন নাই। তাকে ফাঁসানো হয়নি তো ? কিন্তু বিষয়টি রহস্যজনক, বিশ্বাস হয়না। আর ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে মাননিয় বিচারকের তার এই নির্লজ্জ ঘটনায়, এই ঘৃন্য মানসিকতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

২০১২.১২.০৩ ২১:২৭
কেন??? বিচারকেরা অপরাধ করলে তা গোপন রাখতে হবে নাকি?
২০১২.১২.০৩ ২১:৩৫
কিছুদিন পূর্বে ফেইসবুকে শাওনের বিরুদ্ধে লিখা হয়েছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক ডাক্তার- কে মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়েছে। তখন যদি আদালত থেকে এমণ একটি আদেশ পেতাম!!!

Abul Kalam

Abul Kalam

২০১২.১২.০৩ ২১:৪১
অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই এমনটা করা হয়েছে, কই তখন তো আমাদের আদালত কিছু বলেন নাই।

রিহান্নুম রুবাইয়াত

রিহান্নুম রুবাইয়াত

২০১২.১২.০৩ ২১:৪১
আমরা সকল ক্ষেত্রে আদালতের কাছ থেকে সমান ব্যবহার প্রত্যাশা করি।