ঋত্বিক ঘটকের নাতনির রহস্যময় মৃত্যু
ঋত্বিক ঘটক ও অদিতি ঘটক
প্রখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্রনির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ১৯ বছর বয়সী নাতনি অদিতি ঘটক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে অদিতির মৃত্যুর বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন অদিতির পরিবারের সদস্যরা। এরমধ্যে কলকাতার তিলজালা পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন অদিতির মা সংহিতা। দায়েরকৃত অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অদিতিকে।
গত ৩০ নভেম্বর শুক্রবার রাত আটটার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে চেপে কলকাতার গোলবাটি এলাকায় পৌঁছালে অদিতিকে বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন অদিতি। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সম্প্রতি এক খবরে এমন তথ্য জানিয়েছে জিনিউজব্যুরো।
এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধু জ্ঞানজিত্ পত্তরের ফোন পেয়ে নিউ আলিপুরের বাসা থেকে বের হয়ে যান অদিতি। পরে তিন বন্ধু জ্ঞানজিত্, আলিসা এবং তানিয়ার সঙ্গে ড্রাইভে বের হন। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন জ্ঞানজিত্। গাড়িটি গোলবাটি এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রথম গাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন জ্ঞানজিত্। একে একে তিনি আলিসা এবং তানিয়াকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁরা তিনজন মিলে অদিতিকে উদ্ধার করে রুবি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অদিতির মাকে ফোন করে দুর্ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেন তাঁরা। কিন্তু অদিতির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা সেখান থেকে সরে পড়েন।
ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন জ্ঞানজিত্। কসবা এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসার দরজায় তালা ঝুলছে। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। অদিতিকে হত্যার অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে অদিতির মা বলেছেন, ‘কখনোই পরিবারের সদস্যদের না বলে বাড়ির বাইরে যেতো না আমার মেয়ে। কিন্তু শুক্রবার কাউকে কিছু না বলেই সে বাড়ি থেকে বের হয়। সে কোথায় এবং কার সঙ্গে বের হয়েছিল সে সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না।’







Rakibur Rahman
২০১২.১২.০৩ ১৫:৪৭