বাংলাদেশি তরুণদের ভবিষ্যৎ কী?

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ১৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বাংলাদেশের সামাজিক সংকট এড়াতে হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সম্প্রতি ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস ও বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সভায় এ কথা বলা হয়। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে, তবে উদ্যোগ নেওয়ার মতো উদ্যমী সবল প্রাণও রয়েছে। ভবিষ্যৎ হতাশাজনক বলে সবাই মনে করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর তথ্যমতে, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০২৫ সাল নাগাদ ১৯ কোটিতে পৌঁছাবে। এই জনসংখ্যার ৪৩ ভাগের বয়সই থাকবে তিরিশের নিচে।
সরকারের পরিকল্পনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম ওই আলোচনা সভায় বলেছিলেন, উত্পাদন, নির্মাণ ও সেবা খাত বৃদ্ধির ফলে ২০১৫ সালের মধ্যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
তবে এ তথ্যকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটির (ব্র্যাক) নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ১২ লাখ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা মানুষ চাকরির সুযোগ পাবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে মূল ভূমিকা পালন করছে পোশাক শিল্প।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আসছে বলে মাহবুব হোসেন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই বৈচিত্র্য নিয়ে আসছে চামড়া ও ওষুধের শিল্পের মতো কয়েকটি শিল্পে ব্যাপক উন্নতি। এ ছাড়া ইটের উত্পাদন ও সিমেন্ট খাতেও বড় ধরনের সাফল্য আছে। তিনি বলেন, আমাদের মূল কর্মশক্তির এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে চাকরির সন্ধানে রয়েছে। এটিও চাকরির বাজারে বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে মাহবুব হোসেনের মতো সবাই কর্মসংস্থান নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না। এঁদেরই একজন কামাল আনোয়ার। আগামী বছর শিক্ষাজীবন শেষ করতে যাওয়া আনোয়ার তাঁর ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই প্রকৌশলী। একটি প্রতিষ্ঠান তাঁকে চাকরি দেওয়ার আগেই এক মাসের বেতনের পরিমাণ টাকা জমা দিতে বলে। আমার ভাইয়ের কাছে ওই টাকা নেই। আমার পরিবারও টাকার জোগান দিতে পারেনি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, তিনি যখন শোনেন অনেক ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করার পরও অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না, তখন বেশ মর্মাহত হন। তিনি বলেন, সরকার যদি এখনই কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না করে, তাহলে তরুণদের চাহিদার ধরন বদলে যেতে পারে। মিসরের তাহরির স্কয়ারের আন্দোলনের মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই এদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা বলে বলা হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এদেশের তরুণদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন আসবে না।
তবে এদেশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা মনে করেন তরুণেরা তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে সরকারের প্রতি নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভালো কিছু করবেন। এঁদেরই একজন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অনেক তরুণের চাকরি নেই। তবে তাদের অনেক কিছু করার আছে। তরুণদের ঘুম থেকে জেগে উঠে বলা উচিত, আমি চাকরিপ্রার্থী নই; আমি চাকরি সৃষ্টিকারী।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, গ্লাসগো কোলেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণেরা নিজেরাই এমন দোকান দিতে পারেন।
খালেদ আহমেদ নামের একজন জানান, তিনি চাকরির জন্য অপেক্ষা করেননি। পড়াশোনা শেষ করার পর কিছুদিন একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। তারপর বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ক্যামেরা কিনে বিয়ের ছবি তুলতে শুরু করেন। এখন তিনি ওয়েডিং স্টোরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। এখানে সাতজন কাজ করেন। বিবিসি অনলাইন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Monu

Monu

২০১২.১২.০৩ ১৪:২৮
রাজনিতিক সমস্যার কারণে বাংলাদেশের তরুন্ রা আজকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।

zahid

zahid

২০১২.১২.০৩ ১৪:৩১
WE HAVE LOTS OF PRIVATE UNIVERSITY, SO NO PROBLEM TO GET ANY DEGREE BUT THEY HAVE NO ANY TECHNICAL EXPERIENCE TO DO ANY THING.

ibne mizan

ibne mizan

২০১২.১২.০৩ ১৪:৪৭
জন্মেছি এ দেশে মাগো!

md. nazmul hasan

md. nazmul hasan

২০১২.১২.০৩ ১৪:৫০
অনেক তরুণের চাকরি নেই। তবে তাদের অনেক কিছু করার আছে। তরুণদের ঘুম থেকে জেগে উঠে বলা উচিত, আমি চাকরিপ্রার্থী নই; আমি চাকরি সৃষ্টিকারী। Most of Govt. job are corrupted by responsible Minister.

Engr. Robin Mym

Engr. Robin Mym

২০১২.১২.০৩ ১৫:২৮
আমাদের যা আছে তাই নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে জাওয়া ছাড়া কোন গতি দেখছি না, তবে এটা হারে হারে টের পাচ্ছি যে চাকরীর বাজার খুব খারাপ । যোগ্যতা অনুযায়ী কেউ জব পাচ্ছে না, পেলেও পাচ্ছে না যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন।
সরকারকে এই পরিস্থিস্তির জন্য দায়ী করে আমাদের পথচলা থামিয়ে রাখলে চলবে কি করে ?
নিজের মাদ্ধমেই এগিয়ে যেতে হবে সবাইকে।

রবিন
rbn121@gmail.com

Arman

Arman

২০১২.১২.০৩ ১৫:৩৫
কেন চাকরীর পিছনে ঘুরতে হবে ? নিজের চাকুরী কি নিজে বানানো যায় না ?যারা আমাদের চাকুরী দিবে, তারা চাকুরীর পিছনে না ঘুরে ব্যবসা করেছিল বলেই আজ আমরা চাকুরী পিয়েছি। আসলে আমাদের শিখখা ব্যবসতা আমাদের সৃষ্টিশীল হতে শিখায় না।

Shabnam Khanam

Shabnam Khanam

২০১২.১২.০৩ ১৫:৪৮
িমিটং িসিটং না করে হােত কলমে কাজ করা দরকারG

TANVIR SHOWKAT

TANVIR SHOWKAT

২০১২.১২.০৩ ১৫:৫৯
যদি বাংলাদেশের সব বেকার যুবক চাকরি করা শুরু করে তাহলে রাজনৈতিক মিটিং মিছিলে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত লাফাবে কে ??????????????????
২০১২.১২.০৩ ১৬:১২
BRAC is not now the Bangladesh Rural Advancement Committee. Its a brand now and Dr. Mahbub Hossain is not the director but Executive Director. Please make the correction.

Abul Bashar Bulbul

Abul Bashar Bulbul

২০১২.১২.০৩ ১৬:১৩
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যুব সমাজকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে। বিনিময়ে করে দিয়েছে চাদাবাজির সুযোগ। এখন যৌবন যার, তার সময় হলো যুদ্ধে যাবার। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত একথা ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা চলে।

Md.Syful Islam

Md.Syful Islam

২০১২.১২.০৩ ১৬:৪৪
There is no future in Bangladesh for young generation

NASIR

NASIR

২০১২.১২.০৩ ১৭:০৯
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যুব সমাজকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে। a কারণে বাংলাদেশের তরুন্ রা আজকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমাদের যা আছে তাই নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে জাওয়া ছাড়া কোন গতি দেখছি না

sajib

sajib

২০১২.১২.০৩ ১৭:৪৩
চরম অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়েই আমরা এই পর্যন্ত এসেছি, এর মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। রাজনিতিকদের কাছে আমরা সাধারণ মানুষ কিছুই আশা করি না। আমাদের রাস্তা আমারাই করে নিচ্ছি, নেব। আমাদের তরুণ সমাজ নিজেরাই নিজেদের পথ তৈরি করে নেবে।

utpol

utpol

২০১২.১২.০৩ ১৯:০৬
প্রথম কথা হল আমাদের তরুণদের ও যথেষঠ যোগ্যতা সম্পন্ন হয়ে গরে উঠতে হবে যাতে চাকরি পাবই এমন হয়। কিন্ত পর্যাপ্ত চাকরির সুজগ না থাকলে তা অর্থবহ হবে না। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বারাতে হবে, বেসি করে কর্মমুখী শিক্ষার বেবস্থা করতে হবে। উদ্যোক্তা হতে হবে। যার জন্য ব্যাংক এবং সরকাকের পক্ষ থেকে সহজ সুবিধা দিয়ে সুজগ দিতে হবে, এবং উদ্যোক্তা হয়ে বৈশ্বিক ভাবে চিন্তা করতে হবে, এক্সপরত বারাতে হবে। এবং সরকারের কিছ ক্ষেত্র কমপক্ষে তৈরি করা উচিত যারা জিরো টলারেন্স দেখাবে যে কোন ক্ষেত্রে। এভাবে আগাতে হবে.। কত লিখব, আর ভালো লাগে না.। কবে যে সবাই জাগবে। জানি বলা সহজ করা কঠিন তবু এই জুগে তিকে থাকতে হলে অনেক ডিশিসন এমন নিতে হবে...

mamun parvez

mamun parvez

২০১২.১২.০৩ ১৯:৪১
বেকার তরুনদের ভবিয্যত না ভেবে আসুন আমরা সকলএ মিলে আগে আমাদের চারপাশে করমোসংসথান গড়ে তুলি । আমাদের দেশের জনসংখা, অনেক, আর সেই তুলনাই কলকারখানা কম থাকাই । বেকার তরুনদের সংখা বেশি । আর এর পেছনে রাজনইতিক পরভাব তো রয়েছেই।

২০১২.১২.০৩ ২০:২৯
বাংলাদেশের তরুণরা নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে। আক্কেল বুদ্দি ব্যবহার না করে হাত পা ব্যবহার করছে। আর নেতা নেতরিরা তো এই ই চায়। তরুণদের জেগে উঠা জরুরি। বাংলাদেশ জনবহুল দেশ তাই সেখানে অনেক কিছুই করা সমভব। দরকার শুধু আগরহ আর আকেকল বুদ্দির সদ্য ব্যবহার।

Mia Mohammed Faruk

Mia Mohammed Faruk

২০১২.১২.০৩ ২০:২৯
"বাংলাদেশের সামাজিক সংকট এড়াতে হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।" There is no alternative at present in Bangladesh.

Sahin Hossain

Sahin Hossain

২০১২.১২.০৩ ২২:৪২
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা অনুষদের একটি সাবজেক্ট নিয়ে অর্নাস মাস্টার্স শেষ করেছি ২০১০ সালে। বেকারত্ব কাকে বলে আমি খুব ভালো জানি এবং পাশ করে প্রথম দিকে ভাবতাম ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি ভালো কোন চাকরি করবো কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন! আমি ভালো তো পড়ে থাক একটা কোন মতে চলার মত চাকরি পাইনি! বিসিএস -এ সব কোটা বাদ দিলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য হয়ত ৩৫% পদ থাকে। সাধারনত মেধা দিয়ে ২০% আর ১৫% টাকা এবং মামা- খালু। আমার খুব মেধাবী ছাত্র নই, আমার বাবা কোন রকমে কিছু টাকা দিয়ে আমাকে চলার ব্যবস্থা করেন আর মামা- খালু তো কোন বংশে নেই! জনতা ব্যাংকের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা এনবিআর, বিসিএস, নন-ক্যাডারসহ অনেক চাকরীতে বিভিন্ন সময়ে প্যাকেজ অফার পেয়েছি ৪-৫ লাখ হলে সম্ভব হতো কিন্তু টাকা নেই। ভেবেছি চাকরী না করে ছোট করে একটা ব্যবসা করবো সে টাকা দেয়ার মত ব্যাংক এদেশে নেই! আগে আমাকে সম্পত্তির দলিল দেখাতে হবে, সেটাও নেই। আজ আমার মত হাজার হাজার ছাত্র তাদের জীবিকা নিয়ে ভীত আর এ অবস্থার জন্য এদেশের রাজনীতিকরা দায়ী। অনেক খারাপ লাগা নিয়ে লিখছি আমার এক সহপাঠি বন্ধু দশ হাজার টাকার একটা চাকরী করছে। আর আমি চেষ্টা করছি কোন ভাবে এদেশ থেকে পালিয়ে বাঁচতে, আমি, জেনেছি মালয়েশিয়া শ্রমিক নিচ্ছে বিশ হাজার টাকা বেতন দিয়ে যেতে খরচ কম লাগবে। পরিচিত মুখ গুলোর সামনে বেকার তকমা নিয়ে যেতে পারিনা কম টাকার বেতনে এদেশে চাকুরি করা সম্ভব হবে না তার অনেক কারণ আছে। প্রতিদিন পত্রিকায় অনেক চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসে সেখানে খাকে ২-৫ বছরের অভিজ্ঞতা! বিবিএ/এমবিএ। আমি আবেদন করতে পারি না। দেশকে আমার অনেক কিছু দেবার ছিল কিন্তু কিছু দিতে না পারার লজ্জা থেকে বাঁচতে দেশ থেকে পলানোর অপেক্ষায় আছি....

Kabir

Kabir

২০১২.১২.০৩ ২২:৫৬
আমিতো বর্তমান তরুনদের নিয়ে বেশি চিন্তিত না। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমান যুব সমাজ অনেক বেশি সচেতন। অনেক বেশি কর্মঠ।