জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরে নৌযানে চাঁদাবাজি

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শনিবার জামালগঞ্জের মাহমুদপুর গ্রামের সামনে নৌযান বন্ধ রাখেন শ্রমিকেরা

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শনিবার জামালগঞ্জের মাহমুদপুর গ্রামের সামনে নৌযান বন্ধ রাখেন শ্রমিকেরা

প্রথম আলো

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার নদীপথে যাতায়াতকারী বালু ও কয়লাবাহী যান থেকে চাঁদা আদায় করছে ছয়টি সংঘবদ্ধ চক্র। প্রতিদিন জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর থেকে বালু ও তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লাবাহী দুই শতাধিক নৌযান থেকে ছয়টি স্থানে চাঁদা আদায় করা হয়।
নৌযানের মালিক ও শ্রমিকেরা জানান, চাঁদাবাজেরা নৌকায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত থাকে। মাঝিরা চাঁদা দিতে না চাইলে তাঁদের মারধর করা হয়। শনিবার জামালগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকায় চাঁদাবাজেরা দাবি করা চাঁদা না পেয়ে কয়েকটি নৌযানের মাঝিদের মারধর করলে মাঝিরা নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে জামালগঞ্জ থানার পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় বেহেলী এলাকা থেকে পাঁচজন চাঁদাবাজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, জামালগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচটি স্থান থেকে পাঁচটি চক্র চাঁদা আদায় করছে। বেহেলী বাজারসংলগ্ন এলাকা, মাহমুদপুর গ্রামসংলগ্ন দুটি স্থান, আহসানপুর গ্রামসংলগ্ন বৌলাই নদী ও ফেনারবাক ইউনিয়নের সীমন্তপুর-গজারিয়া গ্রামসংলগ্ন ধনু নদীতে বালু ও কয়লাবাহী নৌযান আটকে চাঁদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার রামজীবনপুর গ্রামসংলগ্ন মরা নদী দিয়ে বালুবাহী নৌযান যাতায়াতের সময় চাঁদা আদায় করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, মাহমুদপুর গ্রাম থেকে চাঁদা আদায়কারীরা হলেন শামসুজ্জামান, স্ট্যালিন, সাইফুর রহমান, আলকু মিয়া, হাবলু, এমদাদুল। সীমন্তপুর গজারিয়া থেকে রফিকুল, সাইফুল মিয়া, রাজা মিয়া এবং আহসানপুর থেকে মাছুম ও তার দল চাঁদা আদায় করে।
চাঁদাবাজির শিকার নৌযানের মাঝিদের সূত্রে জানা গেছে, আহসানপুর ও সীমন্তপুর গজারিয়া থেকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে এবং অন্যান্য প্রতিটি স্থান থেকে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি নৌযান থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
এ পথে চলাচলকারী নৌযান ‘মক্কা-মদিনা’র মাঝি আলী ইসলাম বলেন, ‘মাহমুদপুর গেরামের চাঁদাবাজেরা এক হাজার কইরা টেহা চায়। কম দিতে চাইলে মাইরধর করে।’ লালপুর পরিবহনের মাঝি রমিজ মিয়া বলেন, ‘চাঁদাবাজেরা আমাদের রান্না করা খাবারও নিয়ে যায়।’
বাজিতপুর নৌপরিবহন শ্রমিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের সমিতির আট শতাধিক নৌযান তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া ও জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর থেকে বালু ও কয়লা পরিবহন করে। চাঁদাবাজেরা বিভিন্ন স্থান থেকে নৌযানপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে এবং মাঝিদের মারধর করে। আমরা প্রতিবছরই প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না।’
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম বলেন, ‘রামজীবনপুর গ্রামসংলগ্ন মরা নদী থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব।’ জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন নদীপথে যাতায়াতকারী নৌযান থেকে পাঁচটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতি নৌযান থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। শনিবার অভিযান চালিয়ে পাঁচজন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন