পঞ্চদশ বার্ষিকীর আলোচনায় সন্তু লারমা
পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়ের বাস্তবায়ন চাই
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পার্বত্য চুক্তির ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল এক আলোচনা সভায় বক্তারা
প্রথম আলো
গত ১৫ বছরে কোনো সরকারই চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি বর্তমান সরকার, যারা এই চুক্তিটি করেছিল, তারাও এটি বাস্তবায়নে দ্বিধাগ্রস্ত। পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।
এই মন্তব্য ও দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু)। গতকাল রোববার পার্বত্য চুক্তির পঞ্চদশ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পিসিজেএসএস আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন তিনি। আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও চুক্তি বাস্তবায়ন’।
গতকাল ছিল ২ ডিসেম্বর। জঙ্গল ছেড়ে, অস্ত্র ছেড়ে দিতে সম্মত হয়ে ১৯৯৭ সালের এই দিনে ঢাকায় এসেছিলেন সন্তু লারমা। অধিকারের দাবিতে বিদ্রোহ করা পাহাড়িদের পক্ষে সরকারের সঙ্গে সই করেছিলেন ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি।
চুক্তি বাস্তবায়নের ‘ধীরগতিতে’ ক্ষুব্ধ জনসংহতি নেতা চুক্তির উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুললেন। ক্ষোভ মেশানো কণ্ঠে বললেন, ‘যে চুক্তি করা হয়েছিল, তা কি পাহাড়ি জনগণের স্বাধিকারের আন্দোলনকে গলাটিপে হত্যা করার জন্য? আমাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ কেড়ে নেওয়ার জন্য?’
পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক শোষণ-নির্যাতন চলছে বলেও দাবি করেন সন্তু লারমা।
পার্বত্য চুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল সংবাদপত্রে প্রকাশিত সরকারি ক্রোড়পত্রে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী চুক্তি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে সন্তু লারমা প্রশ্ন করেন, ‘গত ১৫ বছরে পাহাড়ি মানুষ চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অসহযোগিতা কি করেছে?’
পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের দাবি আবারও উল্লেখ করে জনসংহতি নেতা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নে আগেও সহযোগিতা করেছি, ভবিষ্যতেও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।’
পার্বত্য চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মধ্যেই পাহাড়ে শান্তি নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন সন্তু লারমা।
আলোচনায় গণঐক্যের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামরিক উপায়ে সম্ভব নয় বলেই রাজনৈতিকভাবে পার্বত্য সমস্যার সমাধানের জন্য চুক্তি করেছিল সরকার। এখন এটি সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকার এর রাজনৈতিক সমাধান চায় না।’
পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার দাবি করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে আবার সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হবে।
আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেএসএসের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা। দীপায়ন খীসার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য দিবালোক সিংহ, সমকাল-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






