তাজরীনের শ্রমিকদের বেতনের দাবিতে অন্য কারখানাতেও কাজ

আশুলিয়ায় আবারও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
আশুলিয়ায় গতকাল বেতনের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ধাওয়া করে পুলিশ

আশুলিয়ায় গতকাল বেতনের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ধাওয়া করে পুলিশ

ছবি: প্রথম আলো

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনসের শ্রমিকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল রোববারও আশুলিয়া এলাকার কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, তাজরীনের শ্রমিকদের নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতন ও চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রাপ্য তিন মাসের বেতন দিতে টালবাহানা করছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক বিক্ষোভে গতকাল দুপুর পর্যন্ত আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। দিনভর সাঁজোয়া যান, জলকামানের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় টহল দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় গতকালও আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে ছুটি দেওয়া হয়।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিরাবো এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এরপর তাঁরা জিরাবো বাসস্ট্যান্ডে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। শ্রমিকদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ইটপাটকলে নিক্ষেপ করলে আশুলিয়ার বেশির ভাগ কারখানায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে জামগড়া, ইউনিকসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে রাস্তার ওপর টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাঁরা বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করেন।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া করলে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে অলি-গলিতে ঢুকে পড়েন। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এরপর রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। আশুলিয়া শিল্প এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঙ্গা দমনের উপকরণসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে গতকাল সকালে তাজরীনের শ্রমিকদের নিয়ে বিজিএমইএ কার্যালয়ে বেতন নিয়ে আলোচনার জন্য যাওয়ার কথা ছিল। সূত্র জানায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত বিজিএমইএর বাস না আসায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তজনা দেখা দেয়। শ্রমিকদের কেউ কেউ অন্য কারখানায় কর্মরত তাঁদের সহকর্মীদের মুঠোফোনে বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। এরপর ওই সব কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ভাড়া করা দুটি বাস ৬৬ জন শ্রমিক নিয়ে নিশ্চিন্তপুর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বিজিএমইএ কার্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এদিকে আশুলিয়ার পুকুরপাড়ে গত শনিবার পিকার্ড বাংলাদেশ নামে একটি রপ্তানিমুখী চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় কারখানার কয়েকটি যানবাহনসহ যন্ত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। হামলার শিকার হন কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক। ঘটনার পর কারখানাটির কর্মীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল রোববারও কারখানা বন্ধ ছিল। বহিরাগত লোকজন এ হামলা চালায় বলে কর্তৃপক্ষ বলেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলা চালিয়েছেন অন্য কারখানার শ্রমিকেরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, বেলা তিনটার দিকে বহিরাগত লোকজন কারখানার বাইরে থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা কারখানার মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রড দিয়ে জানালার কাচ ও যন্ত্র ভাঙতে থাকে। কারখানার ভেতরে তাদের ধংসজজ্ঞ শুরু হলে কর্মকর্তরা ভোল্টকক্ষে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে ট্রান্সফরমারে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা জেনারেটরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে। হামলার ঘটনায় কারখানার প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়। কারখানার উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও প্রটোকল) গাজী শফিকুর রহমান জানান, হামলায় তাঁদের কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এঁদের অনেকেরই হাত-পা ভেঙে গেছে। অনেকের মাথাও ফেটে গেছে। আশুলিয়া থানার ওসি মো. বদরুল আলম বলেন, কারখানার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন