‘স্বপ্ন দেখতাম এমন কিছু’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বধ শেষ। ম্যাচের পর আনন্দদৌড়ে সবার আগে জয়ের নায়ক এনামুল, তাঁর হাতে জয়ের স্মারক একখানা স্টাম্প
প্রথম আলো
তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করলেন! প্রথম ম্যাচে রেখেছিলেন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। পরের ম্যাচেই প্রস্ফুটিত! সঙ্গে সোনায়-সোহাগা দুই ম্যাচেই দলের জয়। কাল দলকে জিতিয়ে এনামুল হক মুখোমুখি হলেন সংবাদমাধ্যমের...
সেঞ্চুরিটা নিশ্চয়ই অনেক স্পেশাল?
এনামুল হক: অবশ্যই...অবশ্যই।
ওই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল? সেঞ্চুরির পর হেলমেট খুললেন, পুরো মাঠ গর্জন করছে...
এনামুল: আসলে নরম্যালি সেঞ্চুরি করা আর জাতীয় দলের হয়ে সেঞ্চুরি করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। জাতীয় দলে অভিষেকের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেয়ে যাব...একসময় স্বপ্ন দেখতাম এমন কিছু। হয়ে যাওয়ার পর খুব ভালো লাগছে।
বিজয়ের মাস, আপনার নাম বিজয়, দলের বিজয়—সব মিলিয়ে কেমন লাগছে?
এনামুল: এককথায় ফ্যান্টাস্টিক!
গত কিছু দিনে বিভিন্ন পর্যায়ে আপনি অনেক সেঞ্চুরি করেছেন, এই সেঞ্চুরির সঙ্গে সেগুলোর পার্থক্য কতটা?
এনামুল: গত ১১ মাসে এটা নিয়ে আমার ১০টা সেঞ্চুরি হলো (আসলে প্রায় ১৪ মাসে)। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পার্থক্য হলো, এখানে অনেক ভালো ভালো বোলার থাকে। ভালো বল বেশি হয়, বাজে বল কম পাওয়া যায়। বোলিংয়ে বৈচিত্র্যও থাকে অনেক বেশি। পার্থক্য আছেই। এখানে দর্শকের চাপ থাকে, দেশের হয়ে খেলার চাপ। সব মিলিয়ে একটু তো পার্থক্য থাকবেই।
সেঞ্চুরিগুলোর কথা সব মনে পড়ে?
এনামুল: হ্যাঁ...২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ জাতীয় লিগ খুব কাছাকাছি সময়ে হয়েছে। আগের মৌসুমে জাতীয় লিগে তিনটা, এবার দুইটা, পাঁচটা...ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুইটা, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুইটা...নয়টা, আর এইটা, মোট ১০টা।
৯০ থেকে ১০০ পর্যন্ত যেতে কি একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন?
এনামুল: নাহ্, অভ্যাস হয়ে গেছে।
আপনার নাম নিয়ে এখনো বেশ সংশয় আছে অনেকের। আরেকবার বলবেন পরিষ্কার করে, আনামুল না এনামুল?
এনামুল: আসলে আমিও কনফিউজড হয়ে গেছি! ইংরেজিতে হলো MD ANAMUL HAQUE BIJOY, কিন্তু বাংলায় ‘এ’ দিয়ে। মানে এনামুল।
৩৪তম ওভারের পর আবার বাউন্ডারি মারতে পেরেছেন ৪৮তম ওভারে। এটা কী সেঞ্চুরির জন্য সতর্কতা?
এনামুল: আসলে ফিল্ডাররা যখন বাইরে থাকে, সিঙ্গেল খেলাই ভালো। আর আমার সঙ্গে ব্যাট করছিলেন মুশফিক ভাই, সেখানে আমার বেশি তাড়াহুড়ো করার দরকার ছিল না। কিছুক্ষণ পরপর বাজে বল আসছিল, ডাবল হচ্ছিল, মুশফিক ভাই মারছিল। আমিও এক-দুই নিচ্ছিলাম। ওই সময় আসলে মারার প্রয়োজন হয় না। মারলেই হয়তো ক্রাইম বলা উচিত!
এমনিতে পুরো ইনিংসটাই দারুণ, কিন্তু ৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত কেমন যেন গুটিয়ে গেলেন...
এনামুল: হয়তো ঠিক বলছেন। আসলে ৫০ ওভারের মধ্যে এমন কিছু সময় আসে, যখন একই রকম বা একই গতিতে রান করা যায় না। আমার ক্ষেত্রে ওই সময়টায় সেটাই হয়েছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে ক্লাব ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অনেক সেঞ্চুরি করে আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সেঞ্চুরি করলেন। নিজের এই এগিয়ে যাওয়াটাকে কীভাবে দেখেন?
এনামুল: আমি সব সময়ই চেষ্টা করি উন্নতি করতে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, ক্লাব ক্রিকেট, টি-টোয়েন্টি, সবকিছুতেই মানিয়ে নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও মানিয়ে নেওয়া যায়। এই ব্যাপারটাই আমার মধ্যে কাজ করেছে। প্রথম ম্যাচে ৪১ করলাম। পরে ভেবেছি সেট হয়ে আউট হওয়া যাবে না। এ জন্যই হয়তো আজ বড় ইনিংস গড়তে পেরেছি।
পরের ম্যাচে তাহলে ডাবল সেঞ্চুরি?
এনামুল: (হাসি) অবশ্যই চেষ্টা করব ১২০-এর বেশি করার।
সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ দল দুটো মাচ জিতল। আপনার ভাবনা কী?
এনামুল: এই তো, জিতে চলেছে...
২-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ, ৫-০ কি সম্ভব?
এনামুল: এভাবে তো বলা যাচ্ছে না। এখানে আমরা একটা টেস্ট খেলাম, দুটো ওয়ানডে হলো। অনেকটা মানিয়ে নিয়েছি, ভালো ক্রিকেট খেলেছি। মিরপুরেও যদি আমরা খুলনার মতো খেলতে পারি, অবশ্যই সিরিজ জিতব। ৫-০ বা ৪-০, এসব ভাবছি না। আমরা প্রতিদিনই উন্নতি করতে চাই, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।
প্রথম দুই ওয়ানডেতেই আপনি ভালো খেললেন, দল জিতল। এমন অসাধারণ শুরু কী কখনো কল্পনা করতে পেরেছিলেন?
এনামুল: খুলনায় এমন কিছু করব, এই স্বপ্ন ছিল না। স্বপ্ন দেখতাম মিরপুরে এমন কিছু হবে, প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচে আমার হাত ধরে দল জিতবে। খুলনায় হলো, মিরপুরে হলো না। আশা ছিল।
এশিয়া কাপে না খেললেও দলে ছিলেন। সেই হিসেবে অনেকগুলো জয় দেখে ফেললেন, এমন সৌভাগ্য বাংলাদেশের খুব কম ক্রিকেটারেরই হয়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এনামুল: আজ সকালেও আমাদের স্পিন কোচ সাকলায়েন মুশতাক বলল, সবকিছু একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। জয়টাও একটা অভ্যাস। আস্তে আস্তে আমাদের ক্ষুধা বাড়ছে।
২১ রানে ২ উইকট পড়ার পর কী খানিকটা চাপ অনুভব করছিলেন?
এনামুল: নাহ, আমাদের তো পরে অনেক ব্যাটসম্যান আছে। এমনকি লোয়ার অর্ডারে মাশরাফি ভাই, সোহাগরাও ভালো ব্যাটিং করে। বাড়তি কোনো চিন্তা তাই ছিল না।
খুলনা তো জাতীয় লিগে আপনার ঘরের মাঠ, দর্শক উচ্ছ্বাসও অনেক ছিল। এটা কি বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে?
এনামুল: হ্যাঁ, তা তো ছিলই। আর অনেক দিন পর কোনো জায়গায় খেলা হলে অনেক দর্শক এমনিতেই মাঠে আসে, প্রত্যাশা বেশি থাকে, দলের জয় দেখতে চায়।
গত ম্যাচে তামিম, এই ম্যাচে মুশফিকের সঙ্গে জুটি হলো আপনার। ওরা আক্রমণাত্মক খেলায় আপনার কাজ নিশ্চয়ই সহজ হয়ে গিয়েছিল?
এনামুল: গত ম্যাচে তামিম ভাই আসলেই অনেক সাহায্য করেছেন। সাহস জুগিয়েছেন। আর উনি থাকলে তো আমার কিছু করা লাগে না, উনিই সব করেন। আজকেও মুশফিক ভাই চেষ্টা করেছে আমার ওপর বেশি চাপ যাতে না পড়ে।
২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাংলাদেশের তিন সেঞ্চুরিয়ান এখন সাকিব, তামিম আর আপনি। পাশাপাশি তিনজনের নাম, ওদের কাছ থেকে কতটা শেখার আছে?
এনামুল: এমনিতে সব সময় তো ড্রেসিংরুমে কথা হচ্ছেই। কী করা যাবে, কী নয়। চেষ্টা করছি শেখার। চেষ্টা করব তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।








Shams
২০১২.১২.০৩ ০৩:৪৪আব্দুল জব্বার
২০১২.১২.০৩ ০৫:০১প্রথম আলোঃ বিজয়ের মাস, আপনার নাম বিজয়, দলের বিজয়—সব মিলিয়ে কেমন লাগছে?
এনামুল: এককথায় "ফ্যান্টাস্টিক!"
(এনামুল আনামুল বিতর্কে না গিয়ে আপনার নাম টা "ফ্যান্টাস্টিক হক" রেখে দিলেই তো হয়।) :p
Shoyab Maruf
২০১২.১২.০৩ ১০:৪৫Sobuj
২০১২.১২.০৩ ১০:৫৪আসাদ জামান
২০১২.১২.০৩ ১৫:৩১অতি আলোচনা অনেক গ্রেট খেলোয়াড়কে একেবারে শেষ করে দেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে মেহরাব হোসেন অপি ছিলেন ওয়ানডের বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। অতি আলোচনাকে তাঁকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মিডিয়াকে অনুরোধ সার্বিক দিক বিবেচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকুন। আমরা আনামুলকে হারাতে চাইনা।
মোঃ শহিদুল ইসলাম রবিন
২০১২.১২.০৩ ১৫:৩৭আনামুল কে ধন্নবাদ আমার পক্ষ থেকে।
SHEKHOR SARDAR
২০১২.১২.০৩ ২১:৪১