নতুনের জানালা

গোল নিয়ে বিতর্ক আর নয়!

মোহাম্মদ সোলায়মান | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ইন্টারনেটে ‘রাশিয়ান লাইন্সম্যান’ লিখে সার্চ দিলে মনে হতে পারে রাশিয়াতে বুঝি শুধু একজনই লাইন্সম্যান। গুগলের প্রথম কয়েক পাতায় শুধু তোফিক বাহরামভের নাম। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে দেওয়া একটি মাত্র সিদ্ধান্তই তাকে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু বাহরামভের ওই সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড-পশ্চিম জার্মানি ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ইংলিশ স্ট্রাইকার জিওফ হার্স্টের একটি শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনে পড়ে বেরিয়ে আসে। বিভ্রান্ত সুইস রেফারি গটফ্রিড ডিনস্ট বল গোললাইন পেরিয়েছে কি না, জানতে চাইলেন বাহরামভের কাছে। বাহরামভ হ্যাঁ বলাতেই গোলের সংকেত দিলেন রেফারি। ওই গোলটাই গড়ে দিল ব্যবধান। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে ৩-২ গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। পরে আরেকটি গোল করে বিশ্বকাপের ফাইনালের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি পেয়ে যান হার্স্ট। আর ইংল্যান্ডও পেয়ে যায় আরাধ্য বিশ্বকাপটা।
তখন থেকেই যতবার গোলটি দেখানো হয়েছে টেলিভিশনে জার্মানরা অক্ষম ক্রোধে কেঁপেছে আর ইংলিশরা মেতেছে উল্লাসে। ৪৪ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ওয়েম্বলির সেই ভূতটা যেন ফিরে আসে আরেকটি জার্মানি-ইংল্যান্ড ম্যাচে। তবে এবার ঘটল উল্টো ঘটনা। যার শিকার এবার ইংল্যান্ড। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনের ভেতরে পড়ে বেরিয়ে আসে। রেফারি এবার গোল দিলেন না। আর ম্যাচটা ইংল্যান্ড হেরে গেলে ৪-১ গোলে।
আলোচিত এই দুই ঘটনার মাঝে অনেকবারই দাবি উঠেছে বল গোললাইন পেরিয়েছে কি না, সেটা বোঝার জন্য প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হোক। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বরাবরই প্রশ্নটা এড়িয়ে গেছে। ২০১০ বিশ্বকাপের পর অবশ্য নড়েচড়ে বসে সংস্থাটি। অনেক দিন না করার পর অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার। গত দুই বছরে অনেক যাচাই-বাছাই করার পর আপাতত দুটি প্রযুক্তি বেছে নিয়েছে ফিফা। যাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে। ফিফার লক্ষ্য আগামী ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য একটি নির্ভুল প্রযুক্তি বেছে নেওয়া।
আর কাকতালীয়ভাবে এখানেও মুখোমুখি ইংরেজ ও জার্মানরা। জার্মানদের গোলরেফ ও ইংরেজদের হক-আই প্রযুক্তি লড়ছে নিজেকে বেশি নিখুঁত প্রমাণ করার জন্য। চৌম্বক তড়িৎক্ষেত্র ব্যবহার করা গোলরেফ প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে ইয়োকোহামা স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে ক্রিকেট ও টেনিসে ব্যবহার হওয়া ক্যামেরানির্ভর হক-আই প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে টয়োটা স্টেডিয়ামে। গোলরেফের স্রষ্টা জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রনহফার ইনস্টিটিউট অব ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং হক-আই তৈরি করেছে ব্রিটেনের হক-আই ইনোভেশন।
হক-আই কাজ করবে ছয় থেকে আটটি ক্যামেরা নিয়ে। স্টেডিয়ামের ছাদে বসানো ক্যামেরাগুলোর সার্বক্ষণিক দৃষ্টি থাকবে বলের দিকে এবং বলের সঠিক অবস্থানের ত্রিমাত্রিক ছবি দেখাবে। টেনিসের লাইনকল ও ক্রিকেটে এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে অনেক দিন ধরেই ব্যবহূত হচ্ছে এটি। গোলরেফের কাজের পদ্ধতিটা পুরোপুরিই অন্যরকম। এটি পুরোপুরিই একটি তড়িৎ-চুম্বকীয় পদ্ধতি। গোল পোস্ট ও ম্যাচ বলের ভেতরে সেন্সর বসানো থাকবে। বল পুরোপুরি গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, সেটা চুম্বকক্ষেত্রের সামান্য হেরফের থেকেই বোঝা যাবে। আর দুই ক্ষেত্রেই রেফারির কবজিতে বিশেষ একটি ঘড়ি থাকবে যেটি মুহূর্তেই রেফারিকে সংকেত দেবে গোল হয়েছে কি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্রিকেট ও টেনিসের মতো মোটেই সময় নষ্ট হবে না।
ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যালোচনা হবে আগামী জানুয়ারিতে। এরপর ফিফা কনফেডারেশনস কাপে পরীক্ষা করা হবে তৃতীয় আরেকটি প্রযুক্তির। এরপরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে খুবই ব্যয়বহুল হওয়ায় ফিফা ফুটবল লিগগুলোতে এখনই এটাকে বাধ্যতামূলক করছে না। তথ্যসূত্র: এএফপি, বিবিসি, ফিফা।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

আলী আহাম্মেদ ( সুমন )

আলী আহাম্মেদ ( সুমন )

২০১২.১২.০৩ ১০:২২
Good Dicision .

azhar

azhar

২০১২.১২.০৩ ১৪:০৭
..It's really a good decision.... but too late..........

Shamsul Hoque Masud.

Shamsul Hoque Masud.

২০১২.১২.০৩ ১৭:৩৫
Good Decision,

Shahrear Kabir

Shahrear Kabir

২০১২.১২.০৩ ১৮:৩০
ভাল

shihan

shihan

২০১২.১২.০৩ ২০:৪৪
টেকনো তে জার্মানরা পৃথিবীতে বেস্ট এটা প্রযুক্তির নাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে। তবে যেটাই শেষ পর্যন্ত নিক ফুটবলের জয় হোক।