• হোম
  • রাজধানী
  •   স্পারসোতে আটকে আছে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ

স্পারসোতে আটকে আছে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ

শরিফুল হাসান | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ২ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

প্রতিষ্ঠানটিতে জনবলের সংকট তীব্র। দীর্ঘ ১৭ বছর পর লোক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপর নিয়মমাফিক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশি যাচাইও শেষ হয়। কিন্তু উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা যখন চাকরিতে যোগদানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখনই বাধে বিপত্তি। শুরু হলো নিয়োগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা।
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) ১০ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, একজন সহকারী প্রকৌশলী, সাতজন চালকসহ ২৩টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, চালক পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে না পেরে একটি চক্র এই নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা করছে।
স্পারসো সূত্র জানায়, এ বছরের ১০ এপ্রিল ২৩টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী পদে ২৭ মে লিখিত পরীক্ষা হয়। ৩১ মে ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ৫৩ জন এবং সহকারী প্রকৌশলী পদে চারজন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ৮ ও ৯ জুন তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা হয়। ১৭ জুন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
১৯ জুন স্পারসোর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা পদে মোট ১১ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২৩ জুলাই তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। এরপর তাঁদের পুলিশি যাচাইও শেষ হয়েছে। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর চার মাস ধরে ওই নিয়োগ আটকে আছে।
স্পারসো সূত্র জানায়, একই বিজ্ঞপ্তিতে সাতজন চালক নিয়োগের কথা ছিল। এ ক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণী পাসসহ ভারী গাড়ি চালানোর সনদ থাকার যোগ্যতা চাওয়া হয়। কিন্তু যে ছয়জন চালককে বাছাই করা হয়, তাঁদের কারোরই ভারী গাড়ি চালানোর যোগ্যতা ছিল না। তাই শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে অভিযোগ করে সেই নিয়োগের বিরোধিতা করেন নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা প্রথম আলোকে বলেন, দেশের জন্য কিছু করবেন, এমন আশাতেই স্পারসোতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন কালক্ষেপণ করে নিয়োগ-প্রক্রিয়া বাতিলের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও কোনো কথা বলেন না।
উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ওই নিয়োগ আরও বিলম্বিত করতে স্পারসো থেকে মতামত চেয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এরপর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, স্পারসোই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু এই চিঠির পর স্পারসো কর্তৃপক্ষ আবার বৈঠক করে বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ও সার্বিক নিয়োগ কমিটির সদস্য অজিত কান্তি দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে আমরা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছিলাম। আর যোগ্যতার শর্ত না পাওয়ায় চালক নিয়োগের বিরোধিতা করা হয়। কিন্তু কী কারণে এখন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়োগ আটকে আছে, সেটি আমার জানা নেই।’
বিষয়টি জানতে স্পারসোর চেয়ারম্যান শাহীন খানের কার্যালয় ও ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্পারসোর সচিব রাফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Fahmida Parvin

Fahmida Parvin

২০১২.১২.০৩ ১২:০৮
It seems to be understandable that because of the internal conflict among the members and chairman, the selected people for the post of scientific officer are suffering. As i know, must be u also know that this selection was quite fair. Please madam be sensible.
A student passed from the university with a brilliant result, studied hard for the govt. job, selected in the written test, finally passed the viva and then medical test, police verification....they sent resignation letter to their previous job sector thinking that they are joining within 15 days, (as they heard)....but who knows that u planning to do this???? Whats the fault of them??

Md. Mamunur Rashid

Md. Mamunur Rashid

২০১২.১২.০৪ ০০:১৮
কি বলব ঠিক বুজতে পারছিনা ?চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশি যাচাইও শেষ হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ আটকেয়ে আছে .। কারন টা হলো চালকপদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে না পেরে একটি চক্র এই নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ যে সব সম্ববনার দেশ তার প্রমাণ।