গড়তে হলে ভাঙতে হবে
এই হোক আমাদের মূল আদর্শ
জীবন যে ভাঙাগড়ার খেলা, যুগে যুগে জ্ঞানীরা তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। জ্ঞানী মানুষেরা যে দূরদর্শী হন তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রমাণিত হচ্ছে। এই যেমন হুমায়ুন আজাদ। তিনি অনেক আগে লিখেছিলেন, ‘সবকিছু ভেঙে পড়ে’। আসলেই তো, সবকিছুই তো ভাঙে। নদীর পাড় ভাঙে, মানুষের ঘাড় ভাঙে, মাছের জার ভাঙে, ফুলের টব ভাঙে, আসলেই সব ভাঙে। প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু ভাঙছেই। প্রকৃতপক্ষে মানুষের দিনটাই শুরু হয় ভাঙা দিয়ে। সকালবেলা হয় মোরগ, না হয় বউ, কিংবা বাবা-মায়ের ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে জ্যামে বসে থাকতে থাকতে ভাঙে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ। স্কুল-কলেজে পড়া না পারলে শিক্ষকেরা ছাত্রের পিঠে বেত ভাঙেন। খেলোয়াড়েরা একের পর এক রেকর্ড ভাঙেন। অ্যাপার্টমেন্ট বানাতে কেউ বাড়ি ভাঙে, তথ্য জানাতে কেউ হাটে হাঁড়ি ভাঙে। মানুষের মন ভাঙে, হাড্ডি বা বোন ভাঙে। আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও ভাঙতে উদ্বুদ্ধ করে বলেছিলেন, ‘ভেঙে ফেল কর রে লোপাট...!’ কবি নিশ্চয়ই ভুল কিছু বলেননি। আসলে ভাঙার মাঝেই মুক্তি। সভ্যতার শুরু থেকে নানা কিছু ভাঙতে ভাঙতে মানুষ আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। অতএব কোনো কিছু ভাঙা তাই মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা জীবনযাপনেরই একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই ভাঙার তালিকায় নতুন সংযোজন হলো উড়ালসড়কের গার্ডার। কদিন আগেই চট্টগ্রামের একটা উড়ালসেতুর গার্ডার হঠাৎ ভেঙে পড়েছে। একেবারে প্রাকৃতিক একটা ঘটনা। গার্ডার তো ভাঙবেই। এর আগেও একবার ভেঙেছিল। হয়তো ভবিষ্যতেও ভাঙবে। গার্ডার ভাঙলে আবার গার্ডার তৈরি হবে। এই ভাঙাগড়াই তো জীবন। এভাবে গার্ডার ভাঙতে থাকলে দেশের ইট, বালু, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি নির্মাণসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। গড়ে উঠবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। যা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর! অতএব কর্তৃপক্ষের উচিত মাঝে মাঝেই উড়ালসড়কের গার্ডার ভাঙার ব্যবস্থা করে এ ধরনের প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






