এক কার্যদিবসও স্থায়ী হয়নি বিরাট উল্লম্ফন

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

দেশের শেয়ারবাজারের গত বৃহস্পতিবারের বিরাট উল্লম্ফন এক কার্যদিবসও স্থায়ী হয়নি। গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজারে যথারীতি দরপতন ঘটেছে।
এর ফলে বৃহস্পতিবারের উল্লম্ফন অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, কিছু আশ্বাসবাণী আর বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন তালিকাভুক্ত ও শ্রেণী পরিবর্তনকারী কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে ঋণসুবিধা সহজ করার খবরে ওই দিন বাজার অস্বাভাবিক আচরণ করেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত বুধবার অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবির সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বৈঠক, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতাদের সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বৈঠক এবং দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ-সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের খবরকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজারে বিরাট উল্লম্ফন ঘটে। বাজারের মৌলভিত্তি বা নিজস্ব শক্তির চেয়ে এসব খবরকে ঘিরে ওই দিনের লেনদেন আবর্তিত হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতেও দেখা গেছে যখন বাজারে দরপতন চলতে থাকে তখন নানা মহল থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। নানা আশ্বাসও দেওয়া হয়। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আশ্বাস ও বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়। বাজার তার নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলে।
জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মূসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বাজার অস্বাভাবিক আচরণ করেছে। বিভিন্ন খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আশার সঞ্চার ঘটে। কিন্তু সেই আশা ও বাস্তবতার মধ্যে বেশ ফারাক ছিল। এ কারণে অস্বাভাবিক ওই উত্থান এক কার্যদিবসও স্থায়ী হয়নি।’
মোহাম্মদ মূসা আরও বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এডিবি বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ঋণ-সহায়তা দিচ্ছে। এর সঙ্গে সেকেন্ডারি বাজারের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারণ, ঋণের অর্থ বাজারে বিনিয়োগ করা হবে না, ব্যবহার করা হবে উন্নয়নমূলক নানা কর্মকাণ্ডে।
মোহাম্মদ মূসা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতার বেশ অভাব রয়েছে। এ কারণে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো কোনো খবরকে ঘিরে এক দিনেই বিভিন্ন শেয়ারের দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। কোম্পানির মৌলভিত্তি বিবেচনায় না নিয়ে অনেকে বাড়তি দামে শেয়ার কিনতে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিনিয়োগকারীদের এমন আচরণ কখনো কাম্য নয়।’
দিন শেষে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৫৭ পয়েন্টে। এই দিন ঢাকার বাজারে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২২৩টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৩৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির দাম।
একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। দিন শেষে ডিএসইতে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৩ কোটি টাকা কম।
চট্টগ্রামের বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক এই দিন প্রায় ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৭৯ পয়েন্টে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি টাকা, যা তার আগের দিনের চেয়ে এক কোটি টাকা কম।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন