পাঠকের মন্তব্য
আমাদের জীবন এত সস্তা কেন?
তাজরীন পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত শ্রমিকদের লাশ
অনলাইনে প্রথম আলো (prothom-alo.com) পড়া হয় ১৯০টি দেশ থেকে। পড়ার পাশাপাশি পাঠকেরা প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত দেন। তাঁদের এ মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো।
পুলিশ বলছে, আগুনে নিহত ১১১
আশুলিয়ায় তাজরীন পোশাক কারখানায় আগুন লেগেছিল ২৪ নভেম্বর রাতে। ২৫ নভেম্বর জানা যায় এ ঘটনার ভয়াবহতা। প্রথম আলোর একাধিক সংবাদকর্মী সেদিন ঘটনাস্থল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন। আর তা পড়তে পড়তে শোকে মুহ্যমান হয়েছেন পাঠক। তাঁরা জানতে ও বুঝতে চেয়েছেন আসলে কী হয়েছে। খালেদ লিখেছেন: প্রতিবেদনটি পর্যাপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ নয়। আরও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত প্রতিবেদনের আশায় রইলাম।"বিজিএমইএ নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু শুধু এটুকুই নয়, আরও দায়িত্বশীল কিছু কাজ ও বক্তব্য প্রত্যাশা করি। রাষ্ট্রযন্ত্রেরও নির্লিপ্ততা পরিহার করে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
আদনান: কাল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালরাত গেল। এক রাতে এত মৃত্যু, এত মানুষের স্বজন হারানোর কান্না বহুদিন দেখা যায়নি। যে পোশাকশ্রমিকেরা এত বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্স আনছেন, আজও তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলো না। সরকার কি পারে না একটু কড়াকড়ি করতে, যাতে মালিকপক্ষ আগুন লাগলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে বাধ্য হয়? কার্যকর অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা করতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন কি? বিশ্বের সবচেয়ে নিম্নস্তরের বেতন পেয়েও যে মানুষগুলো হাসিমুখে কাজ করে যান, তাঁদের এমন মৃত্যু পোশাকশিল্পের মালিকদের একটু মানবিকতা শেখাবে—এটাই কাম্য।
লোভের আগুনে মিনি-মাগনা জীবনগুলো
২৫ নভেম্বর দুপুরের আগেই জানা হয়ে গেল আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরই ফারুক ওয়াসিফ তাঁর লেখায় তুলে ধরেন পোশাকশ্রমিকদের জীবনের মূল্য। পাঠকেরা তাঁর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে মো. বদরুদ্দোজা লিখেছেন: আমি এ পর্যন্ত পাইনি যে আগুন লেগে পোশাক কারখানার কর্মকর্তা স্তরের কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন। কারণ, আগুন লাগলে তাঁরা নিজেরা আগে বের হয়ে যান। তারপর নিরাপত্তাকর্মীদের বলেন গেট লাগিয়ে দিতে, যাতে মালামাল চুরি না হয়। এঁদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে মালামালের মূল্য বেশি।
প্রবীর পাল: শোক জানানোর ভাষা নেই আমাদের। কী সস্তা আমাদের জীবন! সরকার দায় সারবে অনুদান আর রাজনৈতিক দোষারোপের মাধ্যমে। এভাবেই তো চলে আসছে আমাদের। আর কতকাল আমরা আসল কারণকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখাব?
আলী নাসের: আমার মনে হয়, বাংলাদেশের গরিব মানুষের জীবন হলো পিঁপড়ার মতো। এখানে পদদলিত হয়ে, আগুনে পুড়ে, ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ে, ভবন ধসে, লঞ্চ ডুবে হাজারটা মানুষ মারা গেলেও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। একই ধরনের ঘটনা কি বছরের পর বছর ধরে চলতেই থাকবে? আমাদের জীবন এত সস্তা কেন?
এছলাম সরকার: যে দেশের সংসদে ৭৩ শতাংশ সাংসদ পোশাকশিল্প ও পরিবহন মালিক, যে দেশে রপ্তানির নামে শ্রমিকদের তাজা খুন রপ্তানি করা হয়, যে দেশে শ্রমিকেরা রুখে দাঁড়ালে রাষ্ট্রশক্তি তার পূর্ণ সবলতা নিয়ে হামলে পড়ে, সে দেশে শ্রমিকদের জন্য এলিজি লিখে কী লাভ? যদি পারেন, তা হলে বেঁচে থাকার নামে যে শ্রমিকেরা আসলে মরে আছেন, তাঁদের উঠে দাঁড়ানোর ডাক দিন। যদি হিম্মত থাকে। এটিও সত্যি, কারও ডাকের অপেক্ষায় মুখ বুজে থাকা শ্রমিকেরা জিন্দালাশ হয়ে থাকবেন না।
অক্টোবরে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন হবে। আগামী বছরের অক্টোবরে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন: সব দলের গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় সরকার ছাড়া ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে ব্যর্থ চেষ্টার শামিল।
মনু: শুধু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে হবে না। সব দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, সেই ব্যবস্থা আগে সরকারকে করতে হবে।
‘রানার মাঠে’ দাপুটে জয়
পর পর দুই টেস্টে পরাজয়ের পর প্রথম এক দিনের খেলায় বাংলাদেশ দল দেশবাসীকে আনন্দে ভাসিয়েছে। তারই প্রকাশ প্রথম আলোর পাঠকদের মন্তব্যে। ইউসুফ পাটোয়ারী লিখেছেন: অভিনন্দন বাংলাদেশ দলকে। অভিনন্দন খুলনাবাসীকে। তাদের উৎসবের মেজাজই অন্য রকম, দারুণ। আমরা চাই তারা যেন এ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
৩৫ কোটি টাকার জমি দুই কোটি ৩৬ লাখে বিক্রি
নিয়ম ভেঙে পাট মন্ত্রণালয়ের জমি বিক্রি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে পাঠকের মধ্যে। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মো. নূরুজ্জামান লিখেছেন: ‘আমরা তিন ফুটবলার দেশের জন্য অনেক খেলেছি। কিন্তু কিছুই পাইনি।’ —তাই বুঝি জমি নিয়ে দেশের কাছে পাওনা ঋণ চুকিয়ে নিচ্ছেন? কী মজার কথা! আরে ভাই, আপনারা তো দেশের জন্য খেলেছেন (যদিও মাগনা খেলেননি)!
আমিনুল ইসলাম: দেশের সম্পত্তি মানেই তো সরকারি সম্পত্তি। আর সরকারের দলীয় লোকেরাই তো হবেন এর মালিক। তারপর যে কিছু টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন, সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ দেওয়া দরকার। সারা দেশে তো এমনিতেই দখল করে নিচ্ছে হাজার হাজার একর জমি।
মাহতাব হোসেন: এস এম সালাউদ্দিন, গোলাম গাউস ও জাকির হোসেন বাংলাদেশের হয়ে ফুটবল খেলেছেন—এ কথা ঠিক। তার জন্য ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁদের ভিআইপি মর্যাদায় যাতায়াত ও থাকাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। যদিও তাঁরা আন্তর্জাতিক কোনো খেলায় বাংলাদেশের জন্য বড় রকমের কোনো অর্জন ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন বলে শুনিনি। তবু তাঁদের আমরা জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব হিসেবে মূল্যায়ন করে শ্রদ্ধাই করতাম। কিন্তু এই ‘খাই খাই পার্টি’র সঙ্গে যোগ দিয়ে সরকারি সম্পত্তি উপযুক্ত পদ্ধতি না মেনে, উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ না করে দেশটাকে খুবলে খাওয়ার মহোৎসবে যোগ দেওয়ায় তাঁদের প্রতি জনমানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসার বোধটা কি আর অবশিষ্ট থাকার কথা?
মনিরুজ্জামান: বুঝলাম, আপনারা শুধু মাঠেই না ‘মাঠের বাইরে’ও ভালো খেলেন।
তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানলে টানা হরতাল
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এ ঘোষণা পাঠককে চিন্তিত করে তুলেছে। এ সম্পর্কে পাঠক আবু নোমান মু. আতাহার আলী তাঁর মতামতে বলেছেন: কী অবাক বিষয়! শতাধিক মানুষ আগুনে পুড়ে, পিলার ধসে মারা গেল, আর উনি এখনো সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আছেন? তার কোনো শক্ত প্রতিবাদও দেখলাম না, আহত-নিহত মানুষের পাশেও তাঁকে দেখলাম না। এটা কী ধরনের কথা! ক্ষমতার জন্য মানুষ এমন হয়ে যায়?
মো. আবদুস সামাদ: আর কত সুযোগ পেলে আপনারা এ দেশটাকে শূন্য করে ছাড়বেন! আপনারা দুই নেত্রী তো কম সুযোগ পাননি। আরেকবার সুযোগ পেলে বাংলাদেশকে স্বর্গ বানাবেন! দোহাই প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী, আপনারা দুজন মিলে আমাদের দেশটাকে আর কত ক্ষতবিক্ষত করবেন!
পোশাক কারখানায় আগুন: মৃত্যুর জন্য দায়ী মালিকের অবহেলা
তাজরীন পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারাই এ কথা বলেছেন। এ সম্পর্কে অন্তু দাস লিখেছেন: কয়েক দিন যাক, আবার যা তা-ই। আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষা, অতঃপর আবার গোলটেবিল বৈঠক—এই তো বাংলাদেশ!
রেজাউল: সরকার কি মানুষকে গাধা মনে করে? বারবার একটা বিপদ আসে আর সেটা থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা ধরনের মুলা ঝুলায়, যাতে নিজের ওপর দোষ না আসে। কী বিচিত্র, এটার মধ্যে ষড়যন্ত্র খুঁজছে তাঁরা, একবারও তাঁরা কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তার উল্লেখ করলেন না। বললেন না, কীভাবে এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানকে তাঁরা ব্যবসার অনুমতি দিলেন।
মো. আবুল কাশেম: মালিকপক্ষ দায়ী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যাঁদের গাফিলতির জন্য এ ঘটনা, তাঁরা সরকারের লোক এবং বিজিএমইএর সদস্য। তাঁদের আইনের আওতায় আনা হোক। এখনই জনগণের কাছে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে প্রতিটি পোশাক কারখানায় বিপদের সময় বের হওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা আছে।
(পাঠকের মতামত বিস্তারিত পড়তে ও আপনার মতামত জানাতে ভিজিট করুন prothom-alo.com)







Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।
২০১২.১২.০৩ ০৩:১৮Runa Rahim Sheikh
২০১২.১২.০৩ ১২:২২