শিরোনাম:

অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি খুলে দিন

উপাচার্য সমাচার

| তারিখ: ০৩-১২-২০১২

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

এই মুহূর্তে দেশের অন্তত দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য সিরাজুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। ২৬ নভেম্বর এই আন্দোলন শুরুর পর থেকে উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা তাঁর বাসভবনের বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও পানির সংযোগ কেটে দিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকেরা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য এবং রুয়েটের উপাচার্যের বিরুদ্ধে একজন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের অভিযোগ আছে। রুয়েটের উপাচার্য শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে পরীক্ষা কমিটির বৈঠক হয়েছে এবং সিন্ডিকেটেও বিষয়টি পাস হয়েছে।’ সিন্ডিকেট অন্যায়ভাবে কিছু অনুমোদন করলেই তা জায়েজ হয় না। পরীক্ষার ফল যদি পরিবর্তনই না হবে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বিক্ষুব্ধ হলেন কেন? তাঁদের সঙ্গে কি উপাচার্যের শত্রুতা আছে? উপাচার্য বলেছেন, তাঁকে সরিয়ে দুর্বল চরিত্রের কাউকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য পদে বসিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চান। কিন্তু তিনি কি নিজেকে সবল চরিত্রের লোক হিসেবে প্রমাণ দিতে পেরেছেন?
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি আরও জটিল। কয়েক মাস ধরেই সেখানে উপাচার্যসহ তিন উচ্চপদাধিকারীর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ খবর হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে সরেজমিন তদন্ত করেছে। কবে তারা প্রতিবেদন দেবে? সেই প্রতিবেদনে সত্য উদ্ঘাটিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটবে না।
বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে, তা অনুসন্ধান জরুরি। এখানে দুটি সম্ভাবনা আছে। এক, সরকার এমন সব লোককে উপাচার্য পদে নিয়োগ দিয়েছে, যাঁরা আগে থেকেই বিতর্কিত এবং যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়। আরেকটি হতে পারে, এখানে যাঁরাই আসেন তাঁরাই অসাধুসঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় জনগণের করের পয়সায়। অতএব, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথায় কী হচ্ছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার জবাবদিহি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি খুবই মর্যাদাপূর্ণ। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সেই মর্যাদা রাখছেন কি না সে ব্যাপারে যথেষ্ট সংশয় আছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছে বলেই তাঁরা যা খুশি করতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থায় রেখেই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি যতই ন্যায়সংগত হোক, আন্দোলনের নামে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে পারেন না। আপনারা এমন কোনো কর্মসূচি দেবেন না, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আর উপাচার্যের বাসভবনের টেলিফোন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দেওয়া আন্দোলনের মাধ্যম হতে পারে না। সব শেষে সরকারকে বলব, তদন্তের নামে অযথা কালক্ষেপণ নয়, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১২.১২.০৩ ০৮:১০
দলীয়করণের বিষময় ফল ফলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাচন বা বিভিন্ন পদে পদোন্নতির ব্যাপারে যেখানে শিক্ষা, মেধা, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রবল ইত্যাদি মাপকাঠির ভিত্তিতে মূল্যায়ন হওয়ার কথা, সেখানে শুধুমাত্র দলীয় অনুগত্যে কে সেরা- তার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি দেয়া হয়, সেখানে এরূপ ঘটনা ঘটাইতো স্বাভাবিক।