জীববৈচিত্র্য: দেশের সুন্দরবন এলাকা একটি বেশ ভিন্নধর্মী বন

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ

ড. রেজা খান | তারিখ: ২৩-১১-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সুন্দরবন

    জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সুন্দরবন

  • ড. রেজা খান

    ড. রেজা খান

পাহাড়ে, জঙ্গলে
খাড়া পাহাড়ের বুক চিড়ে চলে গেছে পাহাড়ি নদী সাঙ্গু। এঁকেবেঁকে সে যেভাবে ওপরের দিকে উঠেছে তাতে মনে হবে উর্বশীর পরিপাটি করে বাঁধা লম্বা বেণি যেন তার ছন্দময় নাচের ভঙ্গিতে হেলেদুলে খেলছে মৃদুমন্দ বাতাসে। মাঝে মাঝে হোঁচট খাওয়ার মতো তা আবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বড় বড় পাথরের চাইয়ে লেগে।
এ নদী কোথাও প্রশস্ত, কোথাও ক্ষীণকায়া, কোনো জায়গায় নেই থই, আবার কোথাওবা কেবল হাঁটুপানি। এমন নদী বেয়ে উজানে উঠতে পারে শুধু এক ধরনের বিশেষ নৌকা। দেশি ছিপনৌকার মতো করে পাহাড়ি ঢঙে তালগাছ খোদাই করে বানানো ডোঙ্গার মতো সরু নৌকা, যা বানায় স্থানীয় চাকমা, ত্রিপুরি ও অপরাপর পাহাড়ি সম্প্রদায়। আর সে নৌকা বেগবান করার জন্য লাগানো হয় চোরাই পথে মিয়ানমার থেকে আনা ছোট ছোট ইঞ্জিন ও পাঙ্খা। মজার ব্যাপার হলো, ইঞ্জিন যে পাঙ্খা ঘুরিয়ে নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যায় সেটা লাগানো থাকে এক লম্বা ও সরু ইস্পাতের পাইপের ডগায়। মানে এটি নৌকার সঙ্গে লেগে থাকে না এবং যখন খুশি ইঞ্জিন খুলে নিলে তার সঙ্গে পাইপ ও পাঙ্খা দুই-ই চলে আসবে। ঘাটে পড়ে থাকবে কেবল নৌকাটি, যা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
বান্দরবান থেকে থানচী চড়াই-উতরাইয়ের ৮০ কিলোমিটার লম্বা এক দুর্গম পাহাড়ি পথ, বাসে বা চান্দের গাড়ি চড়ে পৌঁছাতে হয় এ উপজেলা সদরে। ওখান থেকে ইঞ্জিনের নৌকা ভাড়া করে যেতে হয় আরও ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরের রেমাক্রি পাহাড়ি গ্রামে। মাঝখানে পড়ে টিন্ডু নামের শেষ একটি ইউনিয়ন ও বড় বাজার।
এমনি পথ চলতে চলতে সামনে পড়ল স্থানীয় এক মোরঙ্গ। বাঁশ কেটে বানানো একটি লাঠির মাথায় দুটি কাছিম ঝুলিয়ে মহাখুশিতে সে চলেছে দূর পাহাড়ের গায়ে তার এক চিমটি এক বাঁশের যে ঘর তার উদ্দেশে। আমাদের চাকমা মাঝিকে অনুরোধ করলাম সামনের কাছিমবাহী মানুষটিকে ডেকে দাঁড় করাতে।
পরখ করে দেখলাম কাছিমটিকে, শনাক্ত করতে পারলাম এর প্রজাতি। এর নাম Asiatic Softshell Turtle Amyda cartilaginea। আমি এর বাংলা নাম দিয়েছি ‘পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম’। এই ২০১১ সালের শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক অধ্যাপক মনিরুল এই প্রজতির কোনো কাছিম বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত করেন।
মনিরুল বান্দরবানে আরও দুটি নতুন ব্যাঙের প্রজাতি নথিভুক্ত করেছেন, যা এর আগে আমাদের ভূসীমানা থেকে কেউ পাননি।
আরও অভিনব হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রাণীবিদ মোহাম্মদ সাজীদ আলী হাওলাদারের বাংলাদেশের জন্য এ দেশিদের পাওয়া ও নামকরণ করা প্রথম একটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতি স্থাপন করা। তিনি তাঁর আবিষ্কৃত ব্যাঙটির নাম দিয়েছেন Bangladeshi Cricket Frog (Fejervarya asmati Howlader, 2011। আসলে এর ইংরেজি নাম হওয়া উচিত ছিল Asmat’s or Howlader’s Cricket Frog, বাংলায় নাম আসমতের বা হাওলাদারের ঝিঁঝি ব্যাঙ।
এই সেদিন, সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে তানিয়া খান ও তাঁর স্বামী মুনীর আহমেদ খান বাংলাদেশ সীমানা থেকে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন মানে হাত-পা ও লেজ ছাড়া প্রায় দুমুখো সাপের মতো দেখতে একটি উভচর শ্রেণীর প্রাণী মরা অবস্থায় পান শ্রীমঙ্গলের কাছের লাউয়াছড়া বনে। তানিয়া খান ইংরেজিপড়ুয়া কিন্তু স্বামীর বন বিভাগীয় পেশার সুবাদে বনেবাদাড়ে থাকতে গিয়ে তিনি যে কেবল প্রকৃতিকে ভালোবেসেছেন তা নয়, তার নজির সব ধরে রেখেছেন নিজের ও স্বামীর ক্যামেরায় তোলা হাজারো ডিজিটাল ছবিতে। এরা কেউই প্রাণীবিজ্ঞানী নন। কিন্তু এঁরা ছবি তোলেন এবং তার কয়েকটা আমাকে পাঠান।
আমি প্রাথমিকভাবে ধরে নিয়েছি উভচরটি হবে চিকিলা, Chikila Chikila fulleri। তবে এটি চিকিলা না হয়ে অন্য আরও দুটি প্রজাতির এমন ধরনের উভচর, যা ভারতের ত্রিপুরা-মেঘালয়ের তুরা পাহাড়ে পাওয়া যায়, তার একটিও হতে পারে। অথবা এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও লেজ ছাড়া অ্যাপোডা বা সিসিলীয়নদের একটি প্রজাতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মানে এটাকে ঘিরে রয়েছে প্রাণিজগতের নতুন নমুনা বা প্রজাতি আবিষ্কার এবং দেশের প্রাণীবিজ্ঞানীদের পাণ্ডিত্য জাহিরের ব্যাপক সুযোগ। আর সেটা প্রমাণ করা যাবে কেবল ডিএনএ বা জিনতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে। আমি যতটুকু জানি তাতে মনে হয় এ ব্যাপারে কিছু গবেষক উৎসাহ প্রকাশ করেছেন।
২০০৯ সালে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ার বনে এবং পরে হবিগঞ্জ জেলার কালেঙ্গা বনে নৈশকালীন প্রকৃতি অনুধাবনে বের হলে আমার ক্যামেরায় ধরা পড়ে আমাদের বিচ্ছুু বা বৃশ্চিকসদৃশ কিছু প্রাণী। টর্চের আলোয় যখন প্রথম দেখি তখনই মনে হয়েছে এগুলো কিছুটা আজগুবি ধরনের প্রাণী। দেশে এগুলো বিদ্যমান আছে, এ বিষয়ে আগে কিছু শুনিনি বা কোনো দস্তাবেজে পড়িনি।
ঢাকায় ফিরে প্রাণী জগতীয় দেশি পণ্ডিতদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে জানলাম তাঁরা এমন প্রাণীর তথ্য আগে পাননি। বই-পুস্তক ও ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম প্রাণী দুটি ছুরিবিচ্ছু বা হুইপ স্করপিয়ন দলের প্রাণী।
প্রজাতি দুটি আমি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি Hypoctonus carmichaeli এবং Uroproctus assamensis হিসেবে। এদের নিয়ে একটু অভিনব ব্যাপার হলো, এ দুটি প্রজাতিরই নামকরণ হয়েছে সিলেট ও রাঙামাটি থেকে পাওয়া আলাদা আলাদা নমুনার ওপর ভিত্তি করে। সেটাও আবার প্রায় শত বছর আগে। একটি হয়েছে ১৯০০ এবং আরেকটি ১৮৬৯ সালে! যেহেতু দেশের কেউ এ ধরনের প্রাণী নিয়ে গবেষণা করেননি, তাই এদের বিষয় আমাদের সামনে কোনো তথ্য-উপাত্ত হাজির হয়নি।
এমনি আরও শতাধিক প্রজাতি যে আমাদের দেশে লুকিয়ে নেই বা বসে আছে আবিষ্কারের অপেক্ষায়, তা কে বলতে পারে?

বনেবাদাড়ে, সুন্দরবনে
আমাদের দেশে ভূমির যে মোট পরিমাণ এবং যে জনসংখ্যা তাতে কোনো প্রাকৃতিক বন যে অবস্থায় শতাধিক বছর আগে ছিলও সেখানটায় থাকবে, এমনটা আশা করা অবান্তর মাত্র।
মানুষ তার নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য অবশ্যই বনজ সম্পদ আহরণ করবে। এসব রক্ষা করার সরকারি যত বাধা বা আইন থাকুক না কেন তা কেউ মানবে না। এমনকি জেলজুলুম হলেও নয়। দেশি-বিদেশি যত পরিকল্পনাই গ্রহণ করুন না কেন সম্পদ আহরণে মানুষ আইন ভাঙবেই, যতক্ষণ না ওসব জনগোষ্ঠীর কোনো কর্মসংস্থান বা অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত হবে।
একবার দেশের বনের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে সারা দেশে কোথাও এক টুকরো আদি বা প্রাকৃতিক অথবা শতাধিক বছরের পুরোনো কোনো শালবন নেই। কোথাও নেই কোনো আদি মিশ্র চিরসবুজ বা চিরসবুজ/ চিরহরিৎ বন।
হ্যাঁ, সরকারি বন বিভাগের খাতায় অবশ্যই লেখা আছে দেশে বনের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ১০ শতাংশ। এটা বন বিভাগ দাবি করছে তাদের যে ইন্টারনেট সাইট আছে সেখানে (http://www.bforest.gov.bd/)। তবে বিশ্বব্যাংক বা বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সাইট দেখলে দেখা যাবে, এসব প্রতিষ্ঠান দেশের বনের পরিমাণ সরকারি হিসাবের শতকরা ৫০ ভাগ বলছে।
আমি এবং আমার মতো যারা দেশের বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ান, তেমন কেউ কোথাও এক টুকরো সাধ্বি বা কুমারী বনের সন্ধান পাননি। এমনকি গুগলের যে মানচিত্র তার কোথাও এমনটি নেই।
অবশ্য দেশের সুন্দরবন এলাকা একটি বেশ ভিন্নধর্মী বন। এটিও কুমারী বন নয়। কিন্তু বাকি যে দুই ধরনের বন, যা বন বিভাগ এবং জনতা কেটে সাবাড় করে, সেখানে সরকারি মর্জির গাছ লাগানো হয়েছে, এটি তার মতো নয়। কারণ ব্রিটিশ বাংলাদেশসহ সারা ভারতবর্ষে বন নিধনের যে প্রক্রিয়া ১৮৮৬ সালের দিকে চালু হয়েছে তার হাত থেকে সুন্দরবন কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। দুর্গম এলাকা ও নদীপথ ছাড়া সুন্দরবনে চলাচলের অন্য কোনো পথ না থাকায় বন সাবাড় করে কাঠ কাটা বা পাচার সম্ভব হয়নি। ফলে শত বছরের বা আদি গাছ না থাকলেও চারাগাছে বেড়ে ওঠা প্রায় পুরো সুন্দরবন এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কেবল বনের গাছপালার যে গভীরতা ১০০-১৫০ বছর আগে ছিল তার কিছুটা কমতি হয়েছে। দিনে গড়ে তিন লাখ মানুষ সুন্দরবনে ঢোকে কাঠ কাটা বা অপরাপর বনজ সম্পদ আহরণের জন্য। তার পরও এ বন সারা দেশের প্রাকৃতিক বন কেটে সে জায়গায় লাগানো পানের বরজের মতো সৈনিক কায়দায় লাইন-ফাইল করে বন বিভাগের ইচ্ছেমাফিক যে বনবাগান সৃজন করা হয়েছে তার চেয়ে শত গুণে ভালো।
শাল ও গজারির বন এবং মিশ্র চিরসবুজ বা চিরহরিৎ বন থেকে কেবল বিশালাকার সব প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে বা তার প্রহর গুনছে তা নয়, ছোটখাটো প্রাণীর সংখ্যাও দারুণভাবে লোপ পেয়েছে। এসব বন থেকে শেষ হয়েছে তিন প্রজাতির গন্ডার, বনগরু, বুনো মহিষ, বান্টেঙ্গ, বারসিঙ্গা, পারা হরিণ, চিত্রা হরিণ, বাঘ, চিতাবাঘ, বামন শূকর, ছোট খরগোশ, জলার তিতির, ময়ূর ও সবুজ ময়ূর, পাহাড়ি বড় কচ্ছপ এবং ময়াল সাপসহ বহু নাম না-জানা প্রাণী।
এটা ঠিক যে এ দুই ধরনের বন থেকে কেবল যে বন্য প্রাণী হারিয়ে গেছে, তা নয়; বরং হাজারো উদ্ভিদেরও কিয়দংশ মাত্র বেঁচে আছে। তবে এখানে আশার আলো হলো এই যে চোখে পড়ার মতো বড় বড় ও পরিবেশ ভারসাম্যগতভাবে নাজুক সব প্রজাতি বেঁচে না থাকলেও প্রাকৃতিকভাবে প্রয়োজনীয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ অদর্শনীয় ছোটখাটো প্রাণীরা দিব্যি বেঁচে আছে ধ্বংসপ্রায় বনবাদাড়ের আনাচে-কানাচে। এখন আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে এসব তথাকথিত ‘অখাদ্য’ বা ‘অপ্রয়োজনীয়’ সব প্রাণী ও উদ্ভিদের দিকে। যা হারিয়ে গেছে বা হারাতে বসেছে তাদের নিয়ে রোদন করে এখন আর কোনো লাভ নেই। কেবল সময়োপযোগী সঠিক ব্যবস্থাপনা কাম্য।
ওপরের দুটি বনের বিপরীতে সুন্দরবন থেকে কেবল হারিয়েছে দুই প্রজাতির গন্ডার, বারসিঙ্গা, পারা হরিণ, বুনো মহিষ এবং চিতাবাঘ। পারতপক্ষে এখান থেকে কোনো পাখি বা সরীসৃপ বিলুপ্ত হয়নি।
আমাদের জাতীয় প্রাণী বাঘের বা বাংলার বাঘের দেশের একমাত্র আবাসস্থল হলো আমাদের ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারের সুন্দরবন। দেশের বাকি অঞ্চল থেকে বাঘ বিলুপ্ত হয়েছে। সুন্দরবনেই বসবাস করে দেশের চিত্রা হরিণের বেঁচে থাকা শেষ দলটি এবং লোনাপানির কুমিরের সর্বশেষ দল। দেশে মাস্ক ফিনফুটের সর্বশেষ দলের গোটা পঞ্চাশেক নমুনার আবাসস্থলও এই সুন্দরবন।
দেশের শিশু বা শুশুক, ইরাবতী শিশু, পাখনাহীন শিশু, উদবিড়াল, মেছো বিড়াল, বানর, শূকর, বনমোরগ, রাজগোখরাসহ বেশির ভাগ সাপ, গুইসাপ, টিকটিকি এবং বড় কেটোর বসবাসও এখানেই।
সার্বিক বিচারে সুুন্দরবন আমাদের দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক বন, যেখানে হাজার বছরের জীববৈচিত্র্যগত বৈশিষ্ট্য, মানে দেশের প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রাকৃতিক ইতিহাস এখনো জাজ্বল্যমান এবং দেশের এসবের একমাত্র লীলাভূমি।
যে করেই হোক না কেন আমাদের এত বিশাল জাতীয় সম্পদ ও বৈশ্বিক প্রাকৃতিক সম্পদকে সর্বতোভাবে রক্ষা করতেই হবে। তবেই না জীববৈচিত্র্যের বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের দেশের একটু ঠাঁই মিলবে বা বাংলাদেশ বিবেচিত হবে এসবের এক হট-স্পট হিসেবে!
শাশ্বতকাল ধরে সুন্দরবন হয়ে থাকবে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের বিশালতম ভান্ডার। সেটাই আজকের প্রত্যাশা।
ড. রেজা খান: দুবাই চিড়িয়াখানার প্রধান।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন