শিরোনাম:

কৃষি খাত: আলু ও শাকসবজি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক

সাফল্যের আকাশে জ্বলজ্বলে তারা

মাহবুব হোসেন | তারিখ: ২৩-১১-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • ধান নিয়ে ঘরে ফেরা

    ধান নিয়ে ঘরে ফেরা

  • মাহবুব হোসেন

    মাহবুব হোসেন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে শহরায়ণ অতি দ্রুত বাড়লেও জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো গ্রামে বাস করে। কৃষিই গ্রামবাসীর কর্মসংস্থান ও আয়ের প্রধান উৎস। অর্থনৈতিক উন্নতির ধারায় জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান ক্রমান্বয়ে কমেছে। বর্তমানে জাতীয় আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে কৃষি খাত থেকে এবং আমাদের শ্রমশক্তির প্রায় ৪৮ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। পল্লির জনগণের আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিপণ্য ও উপকরণের পরিবহন ও বিপণন এবং কৃষি আয়-উদ্ভূত গৃহনির্মাণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবার চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড থেকে। কৃষির সঙ্গে জড়িত এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসাবে ধরলে বর্তমানে জাতীয় আয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষি খাত থেকে আসে। সুতরাং কৃষি খাতের সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার আশা বাতুলতা। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যেসব খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, কৃষি তার অন্যতম।
মুক্তিযুদ্ধকালে এক বিরাট জনগোষ্ঠীর ভারতে সাময়িক অভিবাসন, পরবর্তী সময়ে তাদের পুনর্বাসন ও যুদ্ধে অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস ইত্যাদি কারণে ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। এর ফলে কৃষি খাতের উৎপাদন নিরঙ্কুশভাবে হ্রাস পায় এবং জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধির হার হয় নেতিবাচক। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরের মধ্যেই জাতীয় উৎপাদন স্বাধীনতা-পূর্বকালের স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী দুই দশকে কৃষি উন্নয়নের গতি ছিল মন্থর—বাৎসরিক ২ শতাংশ হারে। তবে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে বর্তমান পর্যন্ত সার্বিক কৃষি খাতের উন্নতি প্রশংসার দাবি রাখে। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সময়সীমায় কৃষি খাতে আয় বেড়েছে বাৎসরিক ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হারে—যা পৃথিবীর যেকোনো দেশে এই খাতে উন্নতির অভিজ্ঞতাকে হার মানাবে। বর্তমান দশকে কৃষির প্রবৃদ্ধি ঘটছে বাৎসরিক ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হারে—যা এশিয়ার অন্যান্য দেশে এ খাতে উন্নতির প্রায় সমমাত্রার।
শস্য খাতে উৎপাদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি দানাজাতীয় শস্য থেকে, যা বাংলাদেশের জনগণের প্রধান খাদ্য। কৃষির এই উপখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। উৎপাদন-ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামার ও বর্গাচাষের প্রাধান্য কৃষির আধুনিকীকরণের পথে বাধা হয়নি। গত দুই দশকে চালের উৎপাদন বেড়েছে বাৎসরিক প্রায় ৪ শতাংশ হারে। এর সবটাই এসেছে উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি থেকে। তবে বৃষ্টিনির্ভর আউশ ও আমন ধান চাষে ফলন বৃদ্ধি আদৌ সন্তোষজনক নয়। কৃষকেরা আউশের চাষ ছেড়ে ক্রমাগত সেচনির্ভর বোরো (শীতকালের শুষ্ক মৌসুমের ধান) চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে আউশের চাষ এখন একেবারেই নগণ্য। গত এক দশকে এককালের প্রধান ধান আমনের উৎপাদন ও ফলন তেমন বাড়েনি। বিগত দুই দশকে ধানের বাড়তি উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে বোরো ধানের চাষ থেকে।
স্বাধীনতার সময় গমের উৎপাদন ছিল এক লাখ টনের নিচে। উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের ফলে ১৯৭৬ সাল থেকে গমের উৎপাদন বাড়তে থাকে। এক দশকের মধ্যেই তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টনে উন্নীত হয়। আশির দশকের শেষ দিকে বোরো ধানের প্রসারের ফলে গম উৎপাদন বৃদ্ধিতে কিছুটা ভাটা পড়ে এবং নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত গমের উৎপাদন প্রায় ১৮ লাখ টনে উন্নীত হয়। এর পর থেকে গমের আবাদ কমতে থাকে। বর্তমানে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের নিচে। সাম্প্রতিক কালে গমের জমিতে ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। কৃষি উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ, গমের তুলনায় বেশি ফলন ও লাভের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যাপক ব্যবহার ও চাহিদার কারণে ভুট্টার নিশ্চিত বাজার ও স্থিতিশীল দাম পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাই কৃষকেরা ভুট্টা চাষে বেশ আগ্রহী। নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত ভুট্টার উৎপাদন ছিল নগণ্য। কিন্তু বর্তমান দশকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে এবং ভুট্টার আবাদি এলাকা ও উৎপাদন এক দশকের মধ্যেই গমের আবাদি এলাকা ও উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে। যেহেতু ভুট্টা মূলত পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়, তাই গমের জমিতে ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি আমাদের প্রধান দানাজাতীয় খাদ্যের জোগানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য-চাহিদা মেটাতে ধানের ওপর বেশি হারে চাপ পড়ছে।
সরকার তিন দশক ধরে খাদ্য থেকে জনগণের সুষম পুষ্টি অর্জনের জন্য শস্য খাতে বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শস্য উপখাতের অর্জন ভালো নয়। একমাত্র আলু ও শাকসবজি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। কিন্তু অন্যান্য খাদ্য ও অর্থকরী শস্যের উৎপাদনের মন্থর গতি লক্ষণীয়। পাট ও আখের উৎপাদন নিরঙ্কুশভাবে হ্রাস পেয়েছে। ডাল, তৈলবীজ ও মসলাজাতীয় শস্যের আওতায় জমি কমেছে এবং ফলন কিছুটা বাড়লেও মোট উৎপাদন আদৌ বাড়েনি। ফলে ডাল, তেল, চিনি, মসলা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে এসব খাদ্যশস্য আমদানি খাতে রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হচ্ছে। আশার কথা, কয়েক বছর ধরে অনুকূল দাম এবং উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের ফলে তৈলবীজ ও পাটের আবাদ আবার বাড়তে শুরু করেছে।
কৃষি খাতে ওপরে বর্ণিত সাফল্যের পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে উন্নত জাতের শস্যের উদ্ভাবন ও আবাদের প্রসার। তা ছাড়া কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা, বিশেষত অগভীর নলকূপের বিস্তারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সাহায্যে সেচব্যবস্থার প্রসার খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। সার ও সেচের ভর্তুকি এবং সার বিপণনব্যবস্থায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের দক্ষতাও শস্য খাতে সাফল্যের অন্যতম দাবিদার।
কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন শস্যের পাঁচ শতাধিক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। অবশ্য এসব জাতের মাত্র কয়েকটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যেমন, ধানের জাতগুলোর মধ্যে বিআর ১১ (১৯৮১ সালে অবমুক্ত) এবং বিরিধান ২৮ ও ২৯ (১৯৯৪ সালে অবমুক্ত)। কতিপয় ভারতীয় ধানের জাত যেমন স্বর্ণা ও শতাব্দী (মিনিকেট) কৃষক থেকে কৃষকের মধ্যে বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। উন্নত মানের শস্যদানা, স্বল্প সময়ে আবাদযোগ্য এবং অল্প উপকরণের মাধ্যমে এসব জাত চাষ করা যায় বলে কৃষকেরা এগুলোর চাষাবাদে উৎসাহী। কৃষকেরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চীন থেকে আমদানি করা হাইব্রিড জাতের ধান (হীরা, জাগরণ, আলোড়ন ইত্যাদি) আবাদ করছে।
কৃষিপ্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়া সেচ পরিকাঠামো, বন্যানিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। উন্নত ধান ও ফসলের জাতের উৎপাদনশীলতা সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ১৯৮৯ সালে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের আমদানি উদারীকরণ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিল করার কারণে সেচের আওতাধীন জমির পরিমাণ দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র সেচের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন অগভীর নলকূপ এবং পাওয়ার পাম্পের আমদানি অত্যন্ত দ্রুত হারে বেড়েছে। সেচ খাতে খুব তাড়াতাড়ি বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ অগভীর নলকূপ বাংলাদেশে এক কোটি কৃষকের জমিতে সেচ দিয়ে যাচ্ছে। মোট সেচ এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশে বর্তমানে সেচের উৎস হচ্ছে অগভীর নলকূপ। গ্রামাঞ্চলে সেচের পানির বাজার সৃষ্টি হয়েছে। সেচ পাম্পের নিকটবর্তী জমিতে সেচযন্ত্রের মালিক টাকার বিনিময়ে সেচসুবিধা দেন। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক যাঁদের পক্ষে নিজেদের জমির জন্য ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের সেচ পাম্প ক্রয় করা এবং তার পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ নেই, তাঁরা এই সেচসুবিধা ক্রয় করতে পারছেন।
কৃষি খাতের সাফল্য ও খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন ধরে রাখা কি সম্ভব? ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশকে বিশ্ববাজার থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নগদ অর্থের বিনিময়েও খাদ্য আমদানি করা ছিল খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো নিজ দেশের সরবরাহ ও ভোক্তাস্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রায়ই হঠাৎ করে রপ্তানি নিষিদ্ধ করছে। ফলে বাংলাদেশসহ সব খাদ্য আমদানিকারক দেশ খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য চালের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন শুধু নয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রসারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিকূল পরিবেশের হাইব্রিড ধানের ব্যাপক প্রসার, অধিকতর দক্ষ শস্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি যেমন পানিসাশ্রয়ী সেচপদ্ধতি, এসআরএল প্রযুক্তির প্রসার, লিফ কালার চার্ট ব্যবহারের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে সরাসরি ধানের চারা রোপণের ব্যবস্থা করে একরপ্রতি উৎপাদন খরচ কমাতে হবে।
উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং হাওর ও চরাঞ্চলে জমি চাষ ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাদানের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত ১০ লাখ হেক্টর জমি বোরো ও আউশ ধান আবাদের আওতায় আনা সম্ভব। বন্যা ও জলমগ্নতাসহিষ্ণু ধান জাতের ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে আমন মৌসুমে উৎপাদনের ঝুঁকি হ্রাস করে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। বোরো ধানের তুলনায় আমন ধানের একরপ্রতি উৎপাদন খরচ কম এবং মুনাফার হার বেশি। আন্তর্জাতিকভাবেও আমন ধান উৎপাদনের তুলনামূলক আর্থিক সুবিধা বাংলাদেশের রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কৃষি বহুমুখীকরণ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এ জন্য শস্যবিন্যাসভিত্তিক কৃষি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বল্পমেয়াদি ধান জাতের উদ্ভাবন এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ধানভিত্তিক শস্যবিন্যাসে রিলেক্রপিং বা দুই ফসলের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শস্য হিসেবে ডালজাতীয় শস্যের আবাদের সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে এবং উৎসাহ দিতে হবে। বেসরকারি খাতকে প্রক্রিয়াকরণ, গুদামজাতকরণ ও মাননিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে বর্ষব্যাপী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে মৌসুমি জোগানের স্থায়িত্ব বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মাধ্যমে মৌসুমভেদে দামের ব্যাপক অস্থিতিশীলতা ও তারতম্য রোধ করা সম্ভব হবে।
যথাসময়ে অত্যাবশ্যক উৎপাদন-উপাদান যেমন: বীজ, সার, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভর্তুকি ও নিয়মিত বাজার পরিবীক্ষণ চালু রাখতে হবে। শস্য অভিযোজন, কৃষকদের অংশগ্রহণমূলক জাত অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং অধিকতর দক্ষ কৃষি সম্প্রসারণব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক নীতি-সহায়তা দিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জৈবপ্রযুক্তি, সিস্টেমস মডেলিং ও জিআইএস-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। এতে করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ বৈজ্ঞানিক সৃষ্টি হবে এবং এই বিজ্ঞানীরা আধুনিক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে উন্নত থেকে উন্নততর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ খুলে দেবেন।
উপজেলা ও ব্লক পর্যায়ে কর্মরত সম্প্রসারণকর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রসার ঘটানোর জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে অভিনব প্রযুক্তি ও শস্য ব্যবস্থাপনার উন্নত জ্ঞান কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
মাহবুব হোসেন: অর্থনীতিবিদ। নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন