নির্বাচন: অবাধ নির্বাচনী ব্যবস্থার মূল ভিত্তি একটি নিরপেক্ষ ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশনের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে
-
‘খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করি’
-
এ টি এম শামসুল হুদা
যেকোনো দেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রথম সোপান হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে এককথায় ‘নির্বাচনী গণতন্ত্র’ বলা হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে ভোটাররা তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশে সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন। বলা দরকার যে নির্বাচনী গণতন্ত্র কিন্তু কোনো বিশ্লেষণেই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র নয়, যদিও আমাদের দেশের রাজনীতি এটিকেই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে।
কথা ও কাজে মিল থাকা দরকার
দেশের হিংসা, ঘৃণা ও বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সরকারি, বিরোধী, দক্ষিণ-বাম, ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে রাজনৈতিক দুষ্টাচারের প্রতিষেধক হিসেবে প্রচার করে থাকেন। এ ধারণার লালন, পরস্ফুিটন ও চর্চা তো দূরের কথা, অনেকে এ ধারণার আদর্শেই বিশ্বাস করেন না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, প্রয়োজনে ও প্রযোজ্যক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে আসাই আমাদের দেশের সিংহভাগ রাজনীতিকের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। অন্য আলোচনায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবার এটা অনুধাবন করা প্রয়োজন যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কথা ও কাজের এই বৈপরীত্য দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় ফাঁকি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির সঙ্গে সঙ্গে এটি সফল করার জন্য তাঁরা সবাই যদি নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেন, তবে এই কাজ করা অনেক সহজতর হয়। বিগত কয়েক দশকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ক্রিয়াকাণ্ডে সে ধরনের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কোনো সংগঠিত প্রচেষ্টা দেখা যায়নি।
নির্বাচনী গণতন্ত্রের ধারণাটি যেহেতু পশ্চিমা ধ্যানধারণা থেকে উদ্ভূত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি মূলত আন্তর্জাতিক এনজিও ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের ভোটার ও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার প্রয়োগ, নিয়মিত ও পর্যায়ক্রমিক নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা সরকার-কাঠামোকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেননি। কারণ পাশ্চাত্যে সরকার-কাঠামো কোনো বিতর্কের বিষয় নয়—দেশে সংবিধান অনুযায়ী যে কাঠামো বিদ্যমান, সেটির অধীনেই নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। আমাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-পদ্ধতি বিলোপ এখন একটি তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আমি সে বিতর্কে না গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা অন্য যেকোনো ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কী কী বিষয় নিশ্চিত করতে হবে সে সম্পর্কেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে
অবাধ নির্বাচনী ব্যবস্থার মূল ভিত্তি একটি নিরপেক্ষ ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন। দেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তির মধ্য থেকে সৎ, অভিজ্ঞ, মেধাবী ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের বাছাই করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব কিংবা নির্ধারিত যোগ্যতার মাপকাঠির কোনো হেরফের কমিশনের নিরপেক্ষতা পদে পদে ব্যাহত করবে। আমাদের কমিশন বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কমিশনারদের নিয়োগ বিবেচনাকালে যোগ্যতা-অযোগ্যতার কিছু মান নির্ধারণ করে একটি আইনের খসড়া সরকারের বিবেচনার জন্য পেশ করেছিল। ওই খসড়ায় আরও প্রস্তাব করা হয়েছিল যে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ যেন সব দলের সম্মতিক্রমে সম্পন্ন করা হয়। সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব পাঠানোর আগে তা জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য পেশ করারও সুপারিশ করা হয়। কার্য উপদেষ্টা কমিটিই সংসদের একমাত্র কমিটি যেখানে সরকারপ্রধান, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্যান্য দলের নেতারা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন। আইনের খসড়াটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাক্রমে (বিএনপি কমিশন আয়োজিত সংলাপে যোগ দেয়নি) চূড়ান্ত করা হয়েছিল। দুঃখের বিষয় এই যে বাছাইকারী কমিটি-সংক্রান্ত সুপারিশটি ব্যতিরেকে সরকার আর কোনো সুপারিশ কার্যকর না করে তড়িঘড়ি ওই কমিটির মাধ্যমে মনোনয়ন সংগ্রহ করে এবং জনগণ, মিডিয়া, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সংসদীয় কোনো কমিটির যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা চূড়ান্ত করে।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গঠিত কমিশনের সদস্যদের অতীত সম্পর্কে কোনো যাচাই-বাছাইয়ের আয়োজন করা হয়নি। ফলে তাঁদের সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলো ও আপামর জনগণের মনে নানা প্রশ্নের অবতারণা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া বিদেশের মতো আমাদের দেশেও তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনগণের সামনে তাঁদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য বিদ্যমান কমিশনকে অবশ্যই এই যাচাই-বাছাই-প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হবে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো—নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমতার নীতি আর ভোটারদের অবাধে ভোট প্রদানের সুবিধা প্রদান। আমি শুরুতেই বলেছি, সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীই মুখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও নিজেদের ক্ষেত্রে নির্বাচনে যেকোনোভাবে জয়ী হওয়াকেই তাঁদের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। জয়ী হওয়ার এই উদগ্র বাসনা থেকেই নানাবিধ নির্বাচনী অনাচার ও অন্যায়ের উদ্ভব হয়। পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে ভোটারদের নিজের পক্ষে ভোট প্রদানে বাধ্য করা হয় কিংবা সেটি সম্ভব না হলে তাঁদের ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের ভোট ক্রয়ের চেষ্টা চালানো হয়, যদিও এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের কতটুকু প্রভাবিত করা যায় সে সম্পর্কে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রার্থী কর্তৃক মনোনয়ন সংগ্রহেও বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়, যা সমগ্র নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে কার্যত কালো টাকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী অধিক্ষেত্রে পর্যবসিত করেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন থাকে না, সেহেতু পেশিশক্তি ও কালো টাকার নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ। তা ছাড়া প্রশাসনও নির্বিঘ্নে তাদের ওপর অর্পিত নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বভার পালন করতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও গণনার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। তার পরও নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপ্রতুলতার কারণে সীমিত আকারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও ব্যবহার করা হয়।
বিভাজিত রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অত্যন্ত কঠিন হবে। আমাদের কমিশনের সময়কালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে আমরা বেশ কিছু স্থানে সংসদ সদস্যদের অযাচিত হস্তক্ষেপ লক্ষ করেছি। অত্যন্ত কৃতকার্যতার সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ফলে পরবর্তীকালে নির্বাচন ব্যাহত করার সুযোগ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছিল। তার পরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে কমিশনকে হয় সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক নির্বাচন স্থগিত করে পুনর্নির্বাচন দিতে হয়েছে। কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী মোতায়েন, নিজস্ব কর্মকর্তা সহযোগে বিভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ এবং কমিশনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার ফলে এ ধরনের ত্বরিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কীভাবে
আমাদের সময়ে বিভিন্ন নির্বাচন পরিচালনা করে আমরা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুটি মূল প্রস্তাবনায় (প্রেমিস) উপনীত হয়েছি, যার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণ করা সংগত হবে।
১. যে ধরনের সরকার-কাঠামোই থাকুক না কেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নানাভাবে ব্যাহত করে যেকোনোভাবে জয়ী হওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা চেষ্টা চালান।
২. নির্বাচন কমিশন নিজস্ব কর্মকর্তা সহযোগে সরেজমিনে নির্বাচন-প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সব নির্বাচনী অনাচারের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে (১)-এ বর্ণিত প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
উপরিউক্ত দুই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমতার নীতি আর ভোটারদের অবাধে ভোট প্রদানের সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনের সময়ে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রের বিস্তার (স্প্যান অব কন্ট্রোল) যত ছোট হবে, কমিশনের কার্যকারিতা তত বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যদি নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে একই দিনে সারা দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
আমাদের কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি মনে করি, জাতীয় সংসদ কিংবা উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কোনো নির্বাচনই একই দিনে অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা কমিশনের জন্য যেমন সুবিধাজনক তেমনি নিরাপদ। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকুক বা না থাকুক জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যায়ক্রমিক হতে হবে।
প্রভাবশালী প্রার্থীরা বিশেষ করে সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির মাধ্যমে সমতার নীতি ব্যাহত করার চেষ্টা চালান। আর মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে স্তরে স্তরে নিজেদের আস্থাভাজন কর্মকর্তা দিয়ে সাজানোর ইতিহাস তো আমরা আগেই জানি। প্রশাসনের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিকীকরণ সব সময়ই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিরাট বাধা। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে হাতে গোনা কতিপয় পার্টি ক্যাডার, যাঁরা পরবর্তীকালে বিসিএসের চাকরিপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁরা বাদে বাকিরা নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে চান। অনেক সময়ই ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে তাঁদের অনেক অপকর্মে লিপ্ত হতে হয়। দলীয়করণের রাজনীতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বদলি ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব কমিশনের হাতে অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো বিষয় কমিশনের নজরে এলে এতৎসম্পর্কে কমিশন যে সিদ্ধান্ত প্রদান করবে তা-ই চূড়ান্ত মর্মে গ্রহণ করতে হবে। মোট কথা, নির্বাচনসংক্রান্ত সব বিষয় এবং নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বিদ্যমান সরকারের এমন সব সিদ্ধান্তের ওপর নির্বাচন কমিশনের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে হবে।
সবশেষে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অবারিত হতে হবে। সনাতন পদ্ধতিতে সিল-ছাপ্পর দিয়ে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়ায় বহু অনাচারের সৃষ্টি হয়। এসব খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। কয়েকটি নির্বাচনে এটি ব্যবহার করে আমরা সফলতাও পাই। কিন্তু ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থনের অভাবে কাজটি আর অগ্রসর হচ্ছে না। আমরা যে ধরনের ইভিএম প্রবর্তন করেছি, একই ধরনের মেশিন সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশে ব্যবহূত হচ্ছে। পাকিস্তানেও আগামী বছর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে এই মেশিন ব্যবহার করা হবে। অথচ এত কিছু করেও আমরা স্তিমিত হয়ে আছি। কাউকে একটা বিরাট ঝাঁকুনি দিয়ে এ স্থবিরতা দূর করতে হবে।
ড. এ টি এম শামসুল হুদা: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






