দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৫০
নরসিংদীতে টেঁটাযুদ্ধে আহত একজনকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
ছবি- প্রথম আলো।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আজ শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার মীর্জাপুর ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের নামাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
ওই দুই নেতা হলেন, পীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর এলাহী এবং পীরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. ফাইজুর রহমান।
আহত ব্যক্তিদের নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁরা হলেন, মোন্তাজ মিয়া (৪৬), হেলেনা বেগম (৩৫) ও মাছুম মিয়া (২৮)। তাঁদের প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলো ডটকমকে জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হেলেনা বেগমের বুকে টেঁটা বিদ্ধ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, ফাইজুর রহমানের কয়েকজন সমর্থকের বিরুদ্ধে গতকাল শুক্রবার মঞ্জুর এলাহীর এক সমর্থকের ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। এর জের ধরে আজ দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
বিএনপির নেতা ফাইজুর রহমানের দাবি, মঞ্জুর এলাহীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সেন্টু মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাহাজউদ্দিন, সিদ্দিক মিয়া ও মোন্তাজ মিয়ার নেতৃত্বে ৫০ জনের বেশি লোক টেঁটা, দা, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর (বিএনপি নেতা ফাইজুর রহমান) বাড়ি ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৫০ জন সমর্থক আহত হন।
মো. ফাইজুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে মঞ্জুর এলাহীর লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর এ পর্যন্ত সাতবার হামলা চালিয়েছে। তারা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে আমার সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা করে পুলিশ দিয়ে হয়রানিও করছে। পরে আবার আপস-মীমাংসার কথা বলে আমার লোকজনকে জড়ো করে তাঁদের ওপর হামলায় চালিয়েছে।’
এ ব্যাপারে পীরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহীর সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, ধানের ছোট চারা নষ্ট করার গুজবে মঞ্জুর এলাহীর লোকজন ফাইজুর রহমানের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে তিনি জানান।







mahfuza bulbul
২০১২.১১.২৪ ১৮:৪৯