আঞ্চলিক সহযোগিতায় বড় দেশগুলোর এগিয়ে আসতে হবে
আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় দেশগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আজ শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য মূল্যসংযোজনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য শিক্ষা ও নীতি’ (ভ্যালু চেইনস ফর ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট লেসনস অ্যান্ড পলিসিস ফর সাউথ এশিয়া) শীর্ষক আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, শ্রীলঙ্কার ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের (আইপিএস) নির্বাহী পরিচালক সামান কেলেগামা, নেপালের ইনস্টিটিউট ফর পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিআরএডি) দিলিরাজ কানাল, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএন-এসকাপের পরিচালক নাগেশ কুমার।
খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশ আছে। এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশের জন্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্য একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা দূর করতে, বিশেষ করে এ অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য একটি ফোরাম গঠনের প্রয়োজন ছিল। আর এ লক্ষ্যে সার্ক ‘খাদ্য ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কার্যপ্রণালিও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক, বাংলাদেশে বিষয়টি কাজ করছে না।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশে খাদ্য আমদানি করতে হয়। ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। সুতরাং, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে খাদ্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলোর এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ভারতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভারতের কাছ থেকে যে সহযোগিতা আশা করা হয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি। সুতরাং, এ অঞ্চলের খাদ্যসমস্যা মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে একই প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে।’
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালে বড় ধরনের খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাশের দেশ ভারত থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ভারতের পক্ষ থেকে একটির পর একটি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। আমরা তা মানলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয়নি।’ পরে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইউক্রেন থেকে চাল আমদানি করে সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যেমন গরিব দেশ রয়েছে, তেমনি ধনী দেশও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করতে হলে ধনী দেশগুলোর এগিয়ে আসতে হবে।
রেহমান সোবহান বলেন, ইরানকে এনার্জি সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এনার্জি সমস্যা দূর করা যেতে পারে। যদিও ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয় জড়িত, তার পরও সমস্যা দূর করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতৈক্যের ভিত্তিতে এগুলো সমাধান করা সম্ভব।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






