জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলী বিএনপি
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক সহিংস তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ ঠিক রেখে বাইরে ‘গা ছাড়া ভাব’ দেখানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি। জোটের শরিক হলেও ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে না—বিএনপি এমন একটা ভাব বিদেশি কুটনীতিকদের দেখাতে চায় বলে দলটির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক লাগাতার সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব খুব অসন্তুষ্ট নয়। তাঁরা মনে করছেন, জামায়াতের কারণে সরকার বেকায়দায় পড়লে তার রাজনৈতিক সুবিধা বিএনপির ঘরেই যাবে। তবে, একই সঙ্গে তাঁদের এমনও আশঙ্কা আছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপে আগামী নির্বাচন ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে। ১৯ নভেম্বর রাতে জামায়াতের তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে এ আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জামায়াতকে লাগাতার মারমুখী
কর্মসূচির ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয় বলেও নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরু থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের দফায় দফায় হামলার ঘটনার পর থেকে দলটি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছে বিএনপি। জামায়াত-শিবিরের এ সংঘাতের দায় যাতে বিএনপির ঘাড়ে না আসে, সে ব্যাপারে দলটি সতর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক-এগারোর সময় আমাদের ওপর আক্রমণের দায় কি জামায়াত নিয়েছিল? আমি কোথাও মার্ডার করলে খালেদা জিয়া কি আমার দায় নেবেন?’
অবশ্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরার সদস্য শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, জামায়াত-শিবির এমন কিছু করেনি যে অন্য কাউকে দায় নিতে হবে; বরং সরকারের কতিপয় মন্ত্রী-এমপির উসকানিমূলক বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি-উৎসাহী কর্মকর্তার ভূমিকা ওই নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ১৪ নভেম্বর ১৮ দলের বৈঠক চলাকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি জামায়াত করছে। তাদের জবাবদিহি তাদের কাছে থাকবে। কোনো রকমের হিংসাত্মক ভায়োলেন্সে আমরা বিশ্বাস করি না। এ পর্যন্ত সে ধরনের কোনো কর্মসূচি আমরা দিইনি।’
বেশির ভাগ গণমাধ্যমে ফখরুলের এ বক্তব্য ‘জামায়াতের সহিংতার দায় বিএনপি নেবে না’ বলে প্রকাশ পেলে জামায়াতের ভেতরে বেশ প্রতিক্রিয়া হয়। এতে দুই দলে ভুল বোঝাবুঝির উপক্রম হয়। বিষয়টি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পর্যন্ত গড়ায়। উভয় দলের একাধিক সূত্র জানায়, এ নিয়ে যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে জন্য ১৬ নভেম্বর রাতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক হয়।
মির্জা ফখরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু পত্রিকার আমার বক্তব্যকে মিস কোড করেছে। তবে, এতে জোটের মধ্যে কোনো রকমের ভুল বোঝাবুঝি হয়নি।’ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের নেতাদের যাঁরা মামলা-মোকদ্দমার বাইরে আছেন, তাঁদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আমাদের কথাবার্তা হয়।’
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির ইচ্ছা জামায়াতকে হাতে রেখে ধীরে ধীরে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু জামায়াত আর সময় নিতে রাজি নয়। দলটির নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, এক-দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ে তাঁদের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হতে পারে। এ কারণে সহিংস কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে জামায়াত। অবশ্য দলটির দাবি, তারা রাস্তায় নামলেই পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পণ্ড করে দেয়। এতে সংঘাত বাধে।
গত এক সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাতজন সদস্যসহ ১০ জন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হয়। তাঁরা জামায়াতের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পাশাপাশি দলটির সঙ্গে সরকারের অতি-আক্রমণাত্মক আচরণকেও সন্দেহজনক মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, আলোচিত তৃতীয় শক্তির জন্য প্রেক্ষাপট রচনা করতেই হয়তো জামায়াতকে সহিংসতার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এসব নেতার প্রশ্ন, নইলে পুলিশ কেন জামায়াত-শিবিরকে কর্মসূচি পালন করতে গেলে এভাবে বাধা দিচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, জামায়াতকে আস্থায় রেখেই খালেদা জিয়া গত ২৮ অক্টোবর ভারত সফরে যান। এর আগে তাঁর সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা দেখা করেন। ভারত সফরকালে খালেদা জিয়া সে দেশের রাষ্ট্রপক্ষকে কট্টর ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়।
ভারত থেকে ফিরে খালেদা জিয়া ১০ নভেম্বর কক্সবাজারের রামুতে সম্প্রীতি সমাবেশে বলেন, ‘...আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। ১৮ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তলেতলে তারা যে যোগাযোগ করছে না, তা কে জানে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের এই বক্তব্যের পর বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে উভয় দলের দায়িত্বশীল নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পর্যায়ে যায়নি। বড় ধরনের কিছু না ঘটলে আগামী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দুই দলের সম্পর্ক ছাড়াছাড়ি হওয়ার আশঙ্কা নেই।







Rashad
২০১২.১১.২৪ ০২:৫২Russell
২০১২.১১.২৪ ০৭:৩৩Russell
২০১২.১১.২৪ ০৭:৩৭robiul awal
২০১২.১১.২৪ ০৯:১২Habib_Sumon
২০১২.১১.২৪ ০৯:২১Mamun Reza
২০১২.১১.২৪ ০৯:৫৩M. Mubinul Islam
২০১২.১১.২৪ ০৯:৫৯Mohammad Morshed
২০১২.১১.২৪ ১০:১৪Mohiuddin Maswood
২০১২.১১.২৪ ১০:১৬Shafiq Islam
২০১২.১১.২৪ ১১:৩২Asma Binte Rafiq (From Oman)
২০১২.১১.২৪ ১১:৩৬shihab
২০১২.১১.২৪ ১১:৪০Mohd. Habibur Rahman
২০১২.১১.২৪ ১৪:২৪আ.ন.ম. আফজাল হোসেন
২০১২.১১.২৪ ১৫:১৩Badrud Doza
২০১২.১১.২৪ ২৩:৫৬