মিরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
৯ র্যাব সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবার একমাত্র ছেলে নূর আলম ওরফে বাবু হত্যাকাণ্ডের জন্য র্যাব-৩-এর সদস্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাবের নয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা করতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহত নূর আলমের বাবা আক্কাস আলী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে লিখিত অভিযোগ করলে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে ১১ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত চিঠি পুলিশ ও র্যাব সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। চিঠিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ নিজ নিজ বাহিনীর শৃঙ্খলা আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত নূর আলম (২৬) কোনো সন্ত্রাসী কাজে জড়িত ছিলেন না। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র্যাব-৩-এর টহল দলের বন্দুকযুদ্ধে নূর আলম নিহত হওয়ার যে ঘটনা প্রচার করা হয়েছে, তা ছিল সাজানো।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নূরুল আলম সৎ, চরিত্রবান ছিলেন। মিরপুর ১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কমপ্লেক্স এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসাসহ সব অসামাজিক কাজে তিনি বাধা দিতেন। এতে কমপ্লেক্সের সাবেক সভাপতি কথিত মাদক ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী তাঁর ওপর রুষ্ট ছিলেন। আইয়ুব আলীর সহযোগী মোহাম্মদ আলী ও মিরপুর এলাকার সন্ত্রাসী আসাদ নূর আলমের চায়ের দোকানে এসে চাঁদাও দাবি করত।
যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ: তদন্ত কমিটি র্যাব-৩-এর তৎকালীন টহল দলের দলনেতা ডিএডি মো. জাকির মাহমুদ, অভিযান পরিচালনা ও গুলি চালানোর আদেশ দানকারী কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোস্তাফিজুর রহমানসহ ১৩ জনকে ‘অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার’ জন্য দায়ী করেছে। বাকিরা হলেন র্যাব-৩-এর উপপরিদর্শক বশির উল্লাহ, শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক মো. চান মিয়া, সহকারী পরিদর্শক আবদুল মান্নান, ল্যান্স নায়েক মো. সেলিম হোসেন, ল্যান্স নায়েক মো. আনসারুল ও কনস্টেবল বাচ্চু মাতুব্বর। এ ছাড়া নূর আলমকে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নেওয়া সমবয়সী তরুণ রাসেল, রাসেলের সহযোগী মিঠু, মাইক্রোবাসের মালিক জহিরুল ইসলাম ও গাড়িচালক মনির হোসেনকেও ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
হত্যার ঘটনা: তাবানী বেভারেজ কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলীর ছেলে নূর আলমকে ২০০৯ সালের ১৩ মে তাঁর চায়ের দোকান থেকে সমবয়সী তরুণ রাসেল ডেকে মিরপুর ১ নম্বরের ঈদগা মাঠে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আলম ফিরে না এলে তাঁর কর্মচারী দোকান বন্ধ করে চলে যান। পরদিনও নূর আলম বাসায় না ফিরলে রাসেলের কাছে বিষয়টি জানতে চায় পরিবার। তিনি নূর আলমের স্ত্রী আঁখি বেগম ও তাঁর মা জাহানারা বেগমকে জানান, তাঁকে র্যাবের লোকেরা ধরে নিয়ে গেছে, মিরপুর থানায় আছে। থানায় গিয়ে নূর আলমের পরিবার জানতে পারে, তাঁকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁর পরিবার এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ১৫ মে রাসেল মুঠোফোনে নূর আলমের পরিবারকে জানায়, র্যাব-৩-এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নূর আলম নিহত হয়েছেন বলে টিভিতে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
নূর আলমের মা জাহানারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।’ শুধু চিঠি দিয়েই যেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব শেষ না করে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুন নাহারের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি এ ঘটনার তদন্ত করে। কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।
জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম, এখনো এ ধরনের কোনো নির্দেশ বা চিঠি দেখিনি। চিঠি দেখার পরই এ বিষয়ে পদক্ষেপের বিষয়টি বলতে পারব।’
র্যাবের আইন ও জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল জানান, তাঁরা এখনো কোনো চিঠি পাননি। পাওয়ার পরই মন্তব্য করা ঠিক হবে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, র্যাব কার্যবিধি ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে যা করেছে তা আইনবহির্ভূত, সংবিধানবহির্ভূত। তাই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।







maruf
২০১২.১১.২৪ ০৩:৪১Shams
২০১২.১১.২৪ ০৪:৩৯Mahadi Hassan
২০১২.১১.২৪ ০৫:৩৯আজাদ রহমান
২০১২.১১.২৪ ০৬:৪৭Russell
২০১২.১১.২৪ ০৭:১৭মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #
২০১২.১১.২৪ ০৮:০৯srabonti
২০১২.১১.২৪ ১০:২০md. anwar hossain chowdhury
২০১২.১১.২৪ ১২:২৪Biplob Roy Genis
২০১২.১১.২৪ ২৩:৪১