জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য অনেক
গত ৪০ বছরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্য স্পষ্ট হয় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যাসংশ্লিষ্ট সূচকের তুলনা করলে। কয়েকটি সূচকে ভারতের চেয়েও বাংলাদেশের চিত্র ভালো।
মোট জনসংখ্যা, মোট প্রজননহার, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর ব্যবহারের হার—প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৩০ লাখ। আর পাকিস্তানের ১৮ কোটি ১৪ লাখ। গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের ধারায় চলত, তাহলে এত দিনে এ দেশের জনসংখ্যা ১৯ কোটি ছাড়াত। তবে পাকিস্তান আয়তনে বড় হওয়ায় দেশটিতে জনঘনত্ব বাংলাদেশের তুলনায় কম।
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক সুব্রত ভদ্র দুই দেশের জনসংখ্যাসংশ্লিষ্ট সূচক তুলনা করেছেন। তাতে বাংলাদেশের সাফল্য স্পষ্ট।
স্বাধীনতার আগে এ ভূখণ্ডের জনসংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৭৪ সালের পরিসংখ্যান তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে সাত কোটি ৬৩ লাখ ও ছয় কোটি ৯৩ লাখ। ১৯৮১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে আট কোটি ৯৯ লাখ ও আট কোটি ৪২ লাখে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে হলেও পাকিস্তানে আদমশুমারি হয়নি, হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তখন দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ২৩ লাখ। তার তিন বছর পর ২০০১ সালের শুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি পাঁচ লাখ।
দুই দেশে সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে ২০১১ সালে। বাংলাদেশ শুমারি ফলাফল প্রকাশ করলেও পাকিস্তান তা করতে পারেনি। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৫ কোটি ৩০ লাখ। বিভিন্ন প্রাক্কলনের ভিত্তিতে সুব্রত ভদ্র বলছেন, পাকিস্তানের জনসংখ্যা এখন ১৮ কোটি ১৪ লাখ।
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি থেকে জোরদার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এ দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭৫ সালে ৮ শতাংশ বিবাহিত নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ-সামগ্রী ব্যবহার করতেন। এখন ৬১ শতাংশ নারী তা ব্যবহার করেন। সত্তরের দশকে ভারতে জন্মনিয়ন্ত্রণ-সামগ্রী ব্যবহারের হার ছিল ১০ শতাংশের মতো। এখন তা ৫৬ শতাংশ। পার্টনার্স ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) নামের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ মাসে উন্নয়নশীল কিছু দেশে জনসংখ্যার গতিধারা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ৩০ শতাংশ।
অনেক সময় চাহিদা থাকার পরও সক্ষম দম্পতির কাছে সময়মতো জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছায় না। চার বছর আগেও বাংলাদেশে এ অপূর্ণ চাহিদার হার ছিল ১৭ শতাংশ। এখন তা ১২ শতাংশ। পিপিডি বলছে, ভারতে অপূর্ণ চাহিদার হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি, ১৩ শতাংশ।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মোট প্রজননহার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট বা টিএফআর। একজন নারী সারা জীবনে কত সন্তানের জন্ম দেন, তাই টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। দুই দেশেই টিএফআর কমেছে, তবে বাংলাদেশে বেশি দ্রুত কমেছে। সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ বলছে, টিএফআর এখন ২ দশমিক ৩। আর পাকিস্তানে এখন ৩ দশমিক ২। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়েও এগিয়ে। ভারতে টিএফআর ২ দশমিক ৫।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ ও নারীশিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান, সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু কারণ জনসংখ্যাকেন্দ্রিক সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে। তবে জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় বাংলাদেশে জনঘনত্ব অনেক। প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ৩৭ জন মানুষ বাস করে। আর পাকিস্তানে এই সংখ্যা মাত্র ২২৮। বর্তমান জনসংখ্যার সঙ্গে প্রতিবছর ২০ লাখের বেশি নতুন মুখ যোগ হচ্ছে। জনসংখ্যার চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর থেকেই যাবে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের অভিযোগ, জনসংখ্যাবিষয়ক প্রচার দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া কমে গেছে। দেশের অনেক স্থানে মাঠকর্মীর অনেক পদও খালি।
সুব্রত ভদ্র বলছেন, জনসংখ্যা কাঠামোতে সক্ষম দম্পতির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ছে। সুতরাং পদ্ধতি গ্রহণের চাহিদাও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দরিদ্রদের ঝোঁক স্থায়ী পদ্ধতিতে বেশি। এঁদের কাছে স্থায়ী পদ্ধতি সহজলভ্য করতে হবে।







rocky
২০১২.১১.২৪ ০৭:২৭স্বাধীনতার আগে এ ভূখণ্ডের জনসংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ছিল? স্বাধীনতার পর সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে অনেক সংখ্যালুগ সম্প্রদায়ের দেশ ত্যাগ জনসংখ্যা কমে যাওয়ার একটি কারণ ৷ প্রবাদে আছে ( মুখ দিয়েছেন যিনি আহার দিবেন তিনি) ,তাই জনসংখ্যা কমনোর জন্য প্রথমে দরকার ফতুয়া প্রথা বন্ধ করা ৷
Md.Abul Kashem
২০১২.১১.২৪ ০৯:২৭syed Kamal mohammad Mukul
২০১২.১১.২৪ ১০:০৯kmiukhan
২০১২.১১.২৪ ১০:১৩আর প্রথম আলো, এরকম একটি গোজামিলের প্রতিবেদন ছাপানোর দরকার ছিল কি?

২০১২.১১.২৪ ১২:৩৬Shajol
২০১২.১১.২৪ ১৪:৪৭Asad
২০১২.১১.২৪ ১৪:৫৭md.zulfiquer islam
২০১২.১১.২৪ ১৫:১৫Raihan
২০১২.১১.২৪ ১৫:২৬